Skip to content
প্রকাশ- November 2, 2026 , 18:19 pm
অন্যান্য

অসময়ে ভাঙনে দিশেহারা দেওয়ানগঞ্জের খোলাবাড়ির মানুষ

অসময়ে ভাঙনে দিশেহারা দেওয়ানগঞ্জের খোলাবাড়ির মানুষ

৩০ বছরেও হয়নি স্থায়ী নদীশাসন
মো. আবুসাঈদ গালিব
দেওয়ানগঞ্জ (জামালপুর)
দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার চিকাজানী ইউনিয়ন ব্রহ্মপুত্র ও যমুনা নদী বিধৌত এলাকা হিসেবে পরিচিত। গত তিন দশকে যমুনার অব্যাহত ভাঙনে ইউনিয়নের প্রায় ১০ কিলোমিটারের বেশি ভূখণ্ড নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। ৩৪.৫০ বর্গকিলোমিটার আয়তনের এই ইউনিয়নের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ এলাকা ইতোমধ্যে নদীতে তলিয়ে গেছে। স্থায়ী নদীশাসন ব্যবস্থা না থাকায় পুরো ইউনিয়ন বিলীন হওয়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
সম্প্রতি ইউনিয়নের একমাত্র পাকা সড়কের হুদার মোড় এলাকার একটি অংশ যমুনায় ভেঙে পড়েছে। এতে যোগাযোগ ব্যবস্থায় চরম ভোগান্তি তৈরি হয়েছে। বাধ্য হয়ে ফসলি জমির ওপর দিয়ে চলাচল করছেন এলাকাবাসী। প্রতিদিনই ভাঙনের কবলে পড়ছে নতুন নতুন জমি ও বসতভিটা।
স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুস সালাম, মাসুদ আলম, আবু হানিফ ও আতিকুল ইসলাম আনমসহ অনেকে জানান, গত ৩০ বছরে অন্তত আটটি গ্রাম নদীগর্ভে চলে গেছে। এসব গ্রামের মধ্যে রয়েছে—খোলাবাড়ি, চর ডাকাতিয়া, চর মাগুরিহাট পশ্চিমপাড়া, চর মাগুরিহাট আদর্শ গ্রাম (প্রায় ২০ একর জমিতে গড়ে উঠেছিল), তিন থোবা, পাগলার চর, খাটিয়ামাড়ি ও হুদার মোড় এলাকা।
বর্তমানে কেশোর মোড়, চর ডাকাতিয়া পাড়া, মন্ডল বাজার, বাহাদুরাবাদ নৌ থানা, খানপাড়া, বড়খাল, মাঝিপাড়া ও পলাশপুর গ্রাম ভাঙনের হুমকিতে রয়েছে।
ঝুঁকির মধ্যে আছে ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে সংস্কার করা হরিণধরা বাঁধের প্রায় সাত কিলোমিটার অংশ। এছাড়া দেলোয়ার হোসেন উচ্চ বিদ্যালয়, খোলাবাড়ি চর মাগুরিহাট কমিউনিটি ক্লিনিক এবং চরমাগুরিহাট সড়কের ওপর নির্মিত ২০০ মিটার দৈর্ঘ্যের একটি সেতুও হুমকির মুখে।
ভিটেমাটি হারানোর আতঙ্কে দিন কাটছে রুবিনা খাতুনের। তিনি বলেন, “আমাদের সব ফসলি জমি নদীতে গেছে। এখন নদী ঘরের কাছাকাছি চলে এসেছে। যেকোনো সময় বাড়িটাও ভেঙে নিতে পারে। এরপর কোথায় যাব, সেই চিন্তায় দিন-রাত কাটছে।”
স্থানীয়দের অভিযোগ, আগে কেবল বর্ষা মৌসুমে ভাঙন দেখা দিলেও এখন সারা বছরই নদী ভাঙছে। দ্রুত স্থায়ী নদীশাসন প্রকল্প বাস্তবায়ন না হলে আগামী দুই-তিন বছরের মধ্যেই চিকাজানী ইউনিয়ন পুরোপুরি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।
চিকাজানী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আশরাফুল ইসলাম আক্কাস বলেন, “ইউনিয়নের একমাত্র পাকা সড়কের প্রায় এক হাজার ফুট ইতোমধ্যে ভেঙে গেছে। এতে স্থানীয়দের যোগাযোগ ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। পাশাপাশি সড়ক ভাঙনের কারণে পাশ্ববর্তী গাইবান্ধা জেলার সঙ্গে নৌ যোগাযোগও বন্ধ রয়েছে।”
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুরাদ হাসান জানান, যমুনা নদীর ভাঙন পরিস্থিতি জেলা প্রশাসনকে অবহিত করা হয়েছে। নদীর পাড়ের গভীরতা ২০ থেকে ২৫ মিটারের বেশি হওয়ায় স্থায়ী সমাধানে বড় প্রকল্প প্রয়োজন। তবে অস্থায়ীভাবে ভাঙন রোধে জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ড উদ্যোগ নিয়েছে এবং দ্রুত কাজ শুরু হবে বলে আশা করা যাচ্ছে।
জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তা মো. নকিবুজ্জামান খান বলেন, “চিকাজানী ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় অস্থায়ীভাবে ভাঙন রোধে ৮০০ মিটার জিওব্যাগ ডাম্পিং প্রকল্পের প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। অনুমোদন পেলে দ্রুত কাজ শুরু করা হবে।”
এলাকাবাসীর দাবি, অস্থায়ী নয়—দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই নদীশাসন প্রকল্পই পারে চিকাজানী ইউনিয়নকে রক্ষা করতে।

Advertisement
Advertisement