Skip to content
প্রকাশ- November 2, 2026 , 21:00 pm
অন্যান্য

ষড়যন্ত্রের শিকল ছিঁড়ে সুপ্রিম কোর্টে ‘বাঘের’ গর্জন: আপোষহীন লড়াইয়ে অর্ণব ওয়ারেস খান

ষড়যন্ত্রের শিকল ছিঁড়ে সুপ্রিম কোর্টে ‘বাঘের’ গর্জন: আপোষহীন লড়াইয়ে অর্ণব ওয়ারেস খান

Oplus_131072

​
হৃদয় আহম্মেদ শাওন স্টাফ রিপোর্টারঃ

​গণতন্ত্রের মূল চেতনার ওপর আঘাত আর প্রভাবশালী মহলের হস্তক্ষেপের বিরুদ্ধে একপাও পিছু না হটার ঘোষণা দিয়েছেন জামালপুর-২ (ইসলামপুর) আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী অর্ণব ওয়ারেস খান। দীর্ঘ আইনি লড়াই শেষে আজ তিনি দেশের সর্বোচ্চ আদালত—সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন। নির্বাচনী মাঠ থেকে তাকে সরিয়ে রাখার অপচেষ্টাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে এই তরুণ স্পষ্ট জানিয়েছেন, “আমি কোনো ফ্যাক্টরিতে তৈরি রোবট নই যে রিমোট কন্ট্রোলে চলব; আমি অবিক্রীত এক বাঙালি।”

Advertisement

​
​গত ২২ জানুয়ারি থেকে ১০ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত যখন অন্য প্রার্থীরা নির্বাচনী প্রচারণায় ব্যস্ত ছিলেন, অর্ণবকে তখন লড়তে হয়েছে হাইকোর্টের বারান্দায়। গত ৩ মার্চ হাইকোর্টের পূর্ণাঙ্গ লিখিত রায় হাতে পাওয়ার পর আজ তিনি সুপ্রিম কোর্টে আপিল করেছেন। সমালোচকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি কঠোর ভাষায় বলেন, “রাজনীতিতে প্রতীক কেবল একটি ছবি নয়, এটি একজন রাজনীতিবিদের প্রথম পরিচয় এবং সাংবিধানিক অধিকার। যদি নির্বাচন পরিচালকরা তাদের পছন্দের প্রতীক চাপিয়ে দেয়, তবে বুঝতে হবে আপনি জনসেবক নন, বরং সুতায় বাঁধা এক ‘পুতুল’ মাত্র।”
​
​বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, তাজউদ্দীন আহমেদ, মওলানা ভাসানী ও মেজর জিয়াসহ জাতীয় নেতাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে অর্ণব উল্লেখ করেন যে, তার রাজনীতির মূল ভিত্তি ১৯৭১-এর মুক্তিযুদ্ধ। আর এই চেতনার কারণেই প্রভাবশালী মহল তাকে শুরু থেকেই ‘শিকলবন্দি’ করার চেষ্টা করেছে। তিনি বলেন:
​”অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করে আমি হারলেও বীরের মতো হারব, কিন্তু কাপুরুষের মতো নিজের মেরুদণ্ড, নীতি আর জনগণের অধিকার বিক্রি করে মাথা নত করব না।”
​
​ব্যক্তিগতভাবে নির্বাচনে জয়-পরাজয়ের চেয়েও আদর্শিক লড়াইকে বড় করে দেখছেন এই সমাজকর্মী। তিনি আনন্দিত যে জাতীয় নির্বাচনে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি জয়লাভ করেছে। তবে তার দাবি, তার কাঙ্ক্ষিত ‘বাঘ’ প্রতীক নিয়ে সর্বোচ্চ আদালতে পৌঁছাতে পারাটাই এক বড় বিজয়। এখন চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের ভার বিচারকদের কলমের ওপর।
​জামালপুরবাসীর প্রতি বার্তা ও ঈদের শুভেচ্ছা
​জামালপুরের মানুষের উদ্দেশে তিনি এক আবেগঘন বার্তা দিয়েছেন। খুব শীঘ্রই তিনি নিজ গ্রামের বাড়িতে ফিরবেন বলে জানিয়েছেন। নতুন প্রজন্মের সাথে খেলাধুলা, গান-বাজনা আর নৌকা ভ্রমণে মেতে ওঠার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন তিনি।
​বক্তব্যের শেষে তিনি প্রিয় জামালপুরবাসী ও গণমাধ্যমকর্মীদের পবিত্র ঈদের আগাম শুভেচ্ছা জানান। তিনি বলেন, “মায়ের হাতের বিরিয়ানি আর বাবার আদরের সালামিতে বাচ্চাদের মন খুশিতে ভরে উঠুক।”

​একজন প্রকৃত বিপ্লবীর মতো তার আহ্বান ছিল— “সবার আগে জন্মভূমি, আমার প্রিয় বাংলাদেশ। জয় বাংলা, জয় জনতা, বিপ্লবীদের সংগ্রাম দীর্ঘজীবী হোক।”

Advertisement