Skip to content
প্রকাশ- November 2, 2026 , 16:55 pm
অন্যান্য

বছরের ৮ মাসই বন্ধ সিইউএফএল: গ্যাস সংকটে উৎপাদন স্থবির, আমদানির চাপ বাড়ার আশঙ্কা

বছরের ৮ মাসই বন্ধ সিইউএফএল: গ্যাস সংকটে উৎপাদন স্থবির, আমদানির চাপ বাড়ার আশঙ্কা

মুহাম্মদ ফয়সাল: আনোয়ারা প্রতিনিধি:

দেশের অন্যতম প্রধান রাষ্ট্রায়ত্ত সার কারখানা চিটাগাং ইউরিয়া ফার্টিলাইজার লিমিটেড (সিইউএফএল) গত এক বছরে অধিকাংশ সময়ই উৎপাদন বন্ধ ছিল। তীব্র গ্যাস সংকট ও বারবার যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে কারখানাটি বছরে প্রায় আট মাস বন্ধ থাকায় দেশের সার উৎপাদনে নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সর্বশেষ গত ৪ মার্চ থেকে জাতীয় গ্রিডে গ্যাসের চাপ কমে যাওয়ায় সরকারি নির্দেশনায় অনির্দিষ্টকালের জন্য কারখানাটির উৎপাদন কার্যক্রম আবারও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এর আগে গত বছরের এপ্রিল থেকে অক্টোবর পর্যন্ত টানা প্রায় সাড়ে ছয় মাস গ্যাস সংকটের কারণে উৎপাদন বন্ধ ছিল।
পরে নভেম্বরে কারখানাটি পুনরায় চালুর উদ্যোগ নেওয়া হলেও যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে তা সফল হয়নি। তবে ডিসেম্বরের শেষভাগ থেকে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সীমিত সময়ের জন্য উৎপাদন চালু ছিল। কিন্তু গ্যাস সরবরাহে আবারও সংকট দেখা দেওয়ায় ৪ মার্চ থেকে পুনরায় উৎপাদন স্থগিত করা হয়।
কারখানা সূত্র জানায়, সিইউএফএল-এ প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১১০০ থেকে ১২০০ মেট্রিক টন ইউরিয়া সার উৎপাদন করা সম্ভব। দীর্ঘ সময় ধরে উৎপাদন বন্ধ থাকায় দেশের সারের বাফার স্টক বা জরুরি মজুদে চাপ তৈরি হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অভ্যন্তরীণ উৎপাদন কমে গেলে সরকারের ওপর আমদানি নির্ভরতা বাড়বে। এতে আন্তর্জাতিক বাজার থেকে তুলনামূলক বেশি দামে সার আমদানি করতে হতে পারে, যা বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করবে।
অন্যদিকে, সারের সরবরাহ ব্যাহত হলে খুচরা বাজারে দাম বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে। এতে সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন প্রান্তিক কৃষকরা, কারণ সারের দাম বৃদ্ধি পেলে কৃষি উৎপাদনের খরচও বেড়ে যায়।
সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত কারখানাটি পুনরায় চালুর সম্ভাবনা নেই। ফলে আগামী কৃষি মৌসুমে সারের চাহিদা পূরণ করা সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে।

Advertisement

Advertisement