মাদারগঞ্জ প্রতিনিধি:
সারা দেশের মতো জামালপুরের মাদারগঞ্জেও দেখা দিয়েছে জ্বালানি তেলের সংকট। বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে “তেল নাই, আসলে পাবেন” লেখা সাইনবোর্ড টাঙিয়ে রাখা হয়েছে। ফলে তেল না পেয়ে চরম বিপাকে পড়েছেন যানবাহনের চালকেরা।
শনিবার সরেজমিনে দেখা যায়, জুনাইল রোডের মেসার্স মৌসুমি তুহিন ফিলিং স্টেশন-এ অকটেন, পেট্রোল ও ডিজেল—কোনোটিই নেই। পাম্প কর্তৃপক্ষ “তেল নাই” লেখা নির্দেশনা টাঙিয়ে দিয়েছে।
পাম্পের ম্যানেজার আলী জানান, ডিপো থেকে সরবরাহ না থাকায় তাদের পাম্পে তেল নেই। তবে আগামীকাল রোববার তেলের গাড়ি আসতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।
এদিকে বালিজুড়ী-জামালপুর সড়কের মেসার্স লাবনী ফিলিং স্টেশন-এ পেট্রোল ও অকটেন নেই। তবে শনিবার বেলা ২টা পর্যন্ত আগের দামে কিছু ডিজেল বিক্রি চলছিল।
পাম্পের ম্যানেজার রাজু আহমেদ বলেন, পেট্রোল ও অকটেন শেষ হয়ে যাওয়ায় সাইনবোর্ড টাঙিয়ে দেওয়া হয়েছে—“তেল নাই, আসলে পাবেন।” তিনি জানান, আগামী এক-দু’দিনের মধ্যে তেলের গাড়ি আসতে পারে।
তেলের অভাবে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন মোটরসাইকেল ও অন্যান্য যানবাহনের চালকেরা। মোটরসাইকেল চালক রাঙ্গা মিয়া, শাহ আলম ও জুয়েলসহ অনেকেই জানান, গাড়িতে তেল প্রায় শেষ। অফিস বা বাড়ি পর্যন্ত পৌঁছাতে পারবেন কি না তা নিয়ে তারা উদ্বিগ্ন। তেল শেষ হয়ে গেলে রমজানের এই সময়ে গাড়ি ধাক্কা দিয়ে নিতে হবে—যা অত্যন্ত কষ্টকর।
উপজেলার বিভিন্ন সড়কের পাশের দোকান ও বাজারগুলোতেও বোতলজাত পেট্রোল কয়েকদিন ধরেই নেই। গাবের গ্রাম চৌরাস্তা মোড় ও তারতাপাড়া মোড়ের কয়েকটি দোকানে কথা বলে জানা যায়, প্রায় তিন দিন আগেই তাদের কাছে অকটেন ও পেট্রোল শেষ হয়ে গেছে। পাম্পে গেলেও তেল পাওয়া যাচ্ছে না।
তবে কয়েকটি সূত্র জানিয়েছে, খোলা বাজারে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী গোপনে বোতলজাত পেট্রোল ও অকটেন চড়া দামে বিক্রি করছে। আগে যেখানে প্রতি লিটার বোতলজাত পেট্রোল ১২৫–১৩০ টাকায় বিক্রি হতো, সেখানে বর্তমানে সংকটের সুযোগ নিয়ে ১৫০ থেকে ২০০ টাকা পর্যন্ত দাম নেওয়া হচ্ছে। তাও সহজে পাওয়া যাচ্ছে না।
এ ঘটনায় মাদারগঞ্জ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও ম্যাজিস্ট্রেট রাসেল দিও-এর নেতৃত্বে পাম্প ও বিভিন্ন দোকানে অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।
মাদারগঞ্জে তেলের সংকট: “তেল নাই, আসলে পাবেন”—পাম্পের নির্দেশনা; দিশেহারা গাড়িচালকরা




