মাদারগঞ্জ প্রতিনিধি:
জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলার একাংশে যমুনা নদীতে জেগে ওঠা বিস্তীর্ণ চরে পেঁয়াজ ও বাদাম চাষে নতুন আশার আলো দেখছেন কৃষকরা। সবুজে ভরা চরজমিতে এখন পেঁয়াজ ও বাদামের আবাদ চোখে পড়ার মতো।
কৃষকদের ভাষ্য, আগে চরাঞ্চলে পেঁয়াজের চাষ তুলনামূলক কম হলেও গত কয়েক বছরে তা কয়েকগুণ বেড়েছে। চলতি মৌসুমে পেঁয়াজ চাষে খরচ আগের চেয়ে বেশি হলেও বাজারে পেঁয়াজের ভালো দামের কারণে তারা আশাবাদী। যমুনার পানি এ বছর তুলনামূলক আগে নেমে যাওয়ায় সময়মতো জমি প্রস্তুত করে পেঁয়াজ রোপণ করা সম্ভব হয়েছে।
পাকরুল-হিদাগাড়ী এলাকার প্রায় অর্ধশতাধিক কৃষক পেঁয়াজ ও বাদাম চাষ করে আর্থিক সাফল্যের প্রত্যাশা করছেন। অনুকূল আবহাওয়া ও রোগবালাই কম থাকায় এবার বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা দেখছেন তারা। দেশি পেঁয়াজের গুণগতমান ভালো হওয়ায় বাজারে ন্যায্যমূল্য পাওয়ার আশা করছেন চাষিরা।
সাধারণত অগ্রহায়ণ মাস থেকে যমুনার পানি কমতে শুরু করলে কৃষকরা জমি প্রস্তুতের কাজে নেমে পড়েন। পৌষ মাসে চারা রোপণ এবং চৈত্র মাসে পেঁয়াজ উত্তোলন শুরু হয়। চরাঞ্চলে পেঁয়াজ চাষে বিঘাপ্রতি খরচ হয় প্রায় তেরো থেকে পনেরো হাজার টাকা। এক বিঘা জমিতে গড়ে চল্লিশ থেকে পঞ্চাশ মণ পেঁয়াজ উৎপাদন হয়। খরচ বাদ দিয়ে প্রতিবিঘায় চল্লিশ থেকে পঁয়তাল্লিশ হাজার টাকা লাভের হিসাব করছেন কৃষকরা। দেড় থেকে দুই মাসের মধ্যেই ফসল ঘরে তুলতে পারবেন তারা।
স্থানীয় কৃষক আলতাফুর রহমান ও আকবর আলী জানান, পেঁয়াজ ও বাদামের পাশাপাশি মটরশুঁটি ও মুসুর ডালসহ নানা ফসল চাষ হয় এই চরে। তারা ভালো ফলনের আশা করছেন। কৃষক মনির ফকির বলেন, তিনি কয়েক বিঘা জমিতে চাষাবাদ করছেন এবং কৃষি অফিস থেকে কিছু বীজ সহায়তা পেয়েছেন। ন্যায্যমূল্য পেলে লাভবান হওয়ার আশা তার।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. হাবিবুর রহমান জানান, একসময় চরজমি পতিত থাকলেও এখন সেখানে সবজি ও বিভিন্ন অর্থকরী ফসলের আবাদ বাড়ছে। চলতি মৌসুমে মাদারগঞ্জ উপজেলায় একশ ত্রিশ হেক্টর জমিতে পেঁয়াজ ও দশ হেক্টরে বাদাম চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত ফসলের অবস্থা ভালো। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে বাম্পার ফলন সম্ভব।
তিনি আরও বলেন, কৃষকরা যদি ন্যায্যমূল্য পান, তবে তারা আরও বেশি করে পেঁয়াজ ও বাদাম চাষে আগ্রহী হবেন, যা স্থানীয় অর্থনীতির পাশাপাশি জাতীয় অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।




