মুক্তকাল ডেস্ক:
রাজনৈতিক প্রতিহিংসার জের ধরে ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ শরিফ ওসমান বিন হাদিকে পরিকল্পিতভাবে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে—এমন তথ্য উঠে এসেছে পুলিশের তদন্তে। এ ঘটনায় পল্লবী থানা যুবলীগের সাবেক সভাপতি ও ৬ নম্বর ওয়ার্ডের আওয়ামী লীগ মনোনীত কাউন্সিলর তাইজুল ইসলাম চৌধুরী বাপ্পিকে হত্যার নির্দেশদাতা ও পরিকল্পনাকারী হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ওসমান হাদি ছিলেন সমসাময়িক রাজনৈতিক অঙ্গনে পরিচিত ও আলোচিত মুখ। ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র হিসেবে তিনি ভিন্নধর্মী রাজনৈতিক ধারার সূচনা করেন। নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের অতীত কর্মকাণ্ড নিয়ে তিনি সভা-সমাবেশ এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ধারাবাহিকভাবে সমালোচনামূলক বক্তব্য দিয়ে আসছিলেন। এতে ছাত্রলীগ ও তাদের সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে।
পুলিশ জানায়, হাদিকে গুলি করা ফয়সাল করিম মাসুদ নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। হত্যাকাণ্ডের পর ফয়সাল ও মোটরসাইকেলচালক আলমগীর শেখকে পালাতে সহায়তা করেন মানবপাচারকারী ফিলিফ স্নাল এবং কাউন্সিলর বাপ্পি। আসামিদের রাজনৈতিক পরিচয় এবং ভুক্তভোগীর পূর্ববর্তী রাজনৈতিক বক্তব্য বিশ্লেষণ করে তদন্তে নিশ্চিত হওয়া গেছে—রাজনৈতিক প্রতিহিংসাই ছিল এই হত্যাকাণ্ডের মূল কারণ।
সার্বিক তদন্ত ও সাক্ষ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে গ্রেপ্তার আসামিদের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় রেকর্ড করা হয়েছে। বিভিন্ন স্থানের সিসিটিভি ফুটেজ, উদ্ধারকৃত অস্ত্র ও গুলির ফরেনসিক রিপোর্ট, মোবাইল ফোনসহ অন্যান্য ইলেকট্রনিক ডিভাইসের ফরেনসিক বিশ্লেষণের মাধ্যমে আসামিদের সম্পৃক্ততা প্রমাণিত হয়। এসব তথ্যের ভিত্তিতে ১৭ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়েছে।
পুলিশ আরও জানায়, ভবিষ্যতে নতুন কোনো তথ্য বা সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পাওয়া গেলে আদালতে সম্পূরক অভিযোগপত্র দাখিল করা হবে।
ভারতে পলাতক আসামিদের বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তদন্ত কর্মকর্তা বলেন, চার্জশিট দাখিলের পর আদালতে চার্জ গঠনের প্রক্রিয়া শেষে আসামিদের প্রত্যর্পণ কার্যক্রম শুরু হবে। এ বিষয়ে রাষ্ট্রীয় অন্যান্য সংস্থা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।
মূল আসামি ফয়সাল করিম মাসুদের ভিডিও বার্তা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ভিডিওটি সঠিক হলেও তার অবস্থান দুবাই নয়; তদন্তে জানা গেছে তিনি বর্তমানে ভারতে অবস্থান করছেন।
এ মামলায় এখন পর্যন্ত ১৭ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ১২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং পাঁচজন পলাতক রয়েছেন। পলাতক আসামিরা হলেন—ফয়সাল করিম মাসুদ, আলমগীর শেখ, ফিলিফ স্নাল, তাইজুল ইসলাম চৌধুরী বাপ্পি ও ফয়সালের বোন জেসমিন।
তদন্ত কর্মকর্তারা জানান, এখন পর্যন্ত প্রাপ্ত তথ্যে পল্লবীর সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলর বাপ্পিকেই এই হত্যাকাণ্ডের মূল নির্দেশদাতা হিসেবে পাওয়া গেছে। পরবর্তীতে নতুন কোনো সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
রাজনৈতিক প্রতিহিংসায় ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ড: ওয়ার্ড কাউন্সিলর বাপ্পির নির্দেশে গুলি, ১৭ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট




