স্টাফ রিপোর্টার:
বকশীগঞ্জ উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি জুবাইদুল ইসলাম শামীমের বিরুদ্ধে পরকীয়াসহ অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। দেওয়ানগঞ্জ উপজেলায় রাতের আঁধারে অন্যের স্ত্রীর সঙ্গে অনৈতিক অবস্থায় হাতেনাতে আটকের ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকাজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ইতোমধ্যে ঘটনাটির ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি জেলা ও উপজেলার সর্বত্র টপ নিউজে পরিণত হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ১ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখ রাত আনুমানিক ৯টার দিকে দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার পোল্লাকান্দি গ্রামের মাহফুজের বাড়িতে ওই অনৈতিক কর্মকাণ্ড চলাকালে স্থানীয়রা জুবাইদুল ইসলাম শামীমকে আটক করে। এ সময় পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে এলাকাবাসী তাকে দড়ি দিয়ে হাত-পা বেঁধে রাখে।
খবর পেয়ে রাত সাড়ে ১১টা থেকে ১২টার মধ্যে বকশীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির নেতা মিস্টার গাজী এবং বকশীগঞ্জ পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কমিশনার সুজন ঘটনাস্থলে পৌঁছান। তাদের উপস্থিতিতে এবং স্থানীয়দের সহায়তায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয় বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান।
অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট ওই নারী খাদিজার একটি তিন বছর বয়সী পুত্রসন্তান রয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, বর্তমানে ওই নারী ও তার সন্তান বকশীগঞ্জ উপজেলা ছাত্রদল সভাপতি শামীমের বাসায় অবস্থান করছেন। এ নিয়ে এলাকায় তীব্র সমালোচনা ও নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।
ঘটনার পর বকশীগঞ্জবাসীর পক্ষ থেকে বকশীগঞ্জ ও দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার সাবেক সংসদ সদস্য এম. রশিদুজ্জামান মিল্লাত, জেলা ছাত্রদল এবং উপজেলা বিএনপির কাছে অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের বিরুদ্ধে দ্রুত সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়েছে। স্থানীয়দের মতে, এ ধরনের কর্মকাণ্ডে দলের ভাবমূর্তি মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন হচ্ছে।
এদিকে, ঘটনার প্রেক্ষিতে ৬ জানুয়ারি জেলা ছাত্রদলের সভাপতি আতিকুর রহমান সুমিল ও সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম সফিকের স্বাক্ষরিত এক শোকজ নোটিশ অভিযুক্ত ছাত্রদল নেতার কাছে পাঠানো হয়েছে। নোটিশে আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে কেন তাকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হবে না—সে বিষয়ে লিখিত ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত জুবাইদুল ইসলাম শামীমের বক্তব্য জানার জন্য একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। একইভাবে উপজেলা ছাত্রদল ও উপজেলা বিএনপির পক্ষ থেকেও তাৎক্ষণিক কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
ছাত্রদলের একাধিক সিনিয়র নেতা মনে করছেন, এমন ঘটনায় দলীয় শৃঙ্খলা ও আদর্শ প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে এবং দলীয় কমান্ড চরম বিব্রত অবস্থায় রয়েছে। তারা দ্রুত ও কঠোর সাংগঠনিক সিদ্ধান্তের দাবি জানান।
ছাত্রদল সভাপতির বিরুদ্ধে অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ—রাতের আঁধারে আটক, জারি শোকজ নোটিশ
Oplus_131072




