মাদারগঞ্জ প্রতিনিধি:
জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলার পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ে কর্মরত এক নারী কর্মচারীর বিরুদ্ধে মুক্তিযোদ্ধা কোটায় চাকরি গ্রহণে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্ত মৌসুমী আক্তার বর্তমানে পরিদর্শিকা (FWV) পদে দায়িত্ব পালন করছেন।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, তার প্রকৃত জন্মদাতা পিতার নাম মোজা সরকার হলেও চাকরির নথিতে পিতার নাম পরিবর্তন করে বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল কালাম উল্লেখ করা হয়েছে। আবুল কালাম সম্পর্কে তিনি শ্বশুর। তিনি উপজেলার চরপাকেরদহ ইউনিয়নের কোয়ালীকান্দি ফকিরপাড়া এলাকার বাসিন্দা, সাবেক ইউপি সদস্য ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য হিসেবে পরিচিত।
পারিবারিক কাগজপত্রে মৌসুমী আক্তারের পিতা হিসেবে মোজা সরকার এবং মাতা হিসেবে মরিয়ম বেগমের নাম রয়েছে। তাদের চার সন্তানের মধ্যে তিনি তৃতীয়। তার স্থায়ী ঠিকানা—গ্রাম চরপাকেরদহ (নব্যচর), থানা মাদারগঞ্জ, জেলা জামালপুর।
তবে চাকরি-সংক্রান্ত নথিতে পিতার নাম আবুল কালাম এবং মাতার নাম রায়হানা বেগম উল্লেখ করা হয়েছে। ঠিকানাও পরিবর্তন করে কোয়ালীকান্দি, ডাকঘর তেঘরিয়া দেখানো হয়েছে। উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, তিনি ২০১৪ সালের ২০ নভেম্বর পরিদর্শিকা (FWV) পদে নিয়োগ পান।
অভিযোগ রয়েছে, পিতা-মাতার নাম পরিবর্তন করে তিনি তেঘরিয়া কেন্দ্র থেকে এসএসসি এবং তেঘরিয়া শাহেদ আলী কারিগরি কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেন। ২০১৩ সালে একই পরিচয়ে জাতীয় পরিচয়পত্র তৈরি করে পরের বছর মুক্তিযোদ্ধা কোটায় সরকারি চাকরিতে যোগ দেন বলে দাবি স্থানীয়দের।
অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে চাইলে মৌসুমী আক্তার কথা বলতে অনীহা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, এ বিষয়ে তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না এবং অফিসে যোগাযোগের পরামর্শ দেন।
এ বিষয়ে জেলা পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ের উপপরিচালক মো. আলী আমজাদ দপ্তরী জানান, এখনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে সত্যতা যাচাই এবং প্রমাণ মিললে দায়ীদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ও আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।




