Skip to content
প্রকাশ- November 2, 2026 , 19:09 pm
অন্যান্য

সরিষাবাড়ীতে শিক্ষকের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীকে গোপনে বিয়ের অভিযোগে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের ক্ষোভ

সরিষাবাড়ীতে শিক্ষকের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীকে গোপনে বিয়ের অভিযোগে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের ক্ষোভ

Oplus_131072

সরিষাবাড়ী ( জামালপুর) প্রতিনিধি :
জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলার পোগলদিঘা ইউনিয়নের যমুনা উচ্চ বিদ্যালয়ে এনটিআরসি থেকে নিয়োগপ্রাপ্ত একজন আইসিটি শিক্ষকের বিরুদ্ধে সদ্য নবম শ্রেণী থেকে দশম শ্রেণীতে উত্তীর্ণ এক শিক্ষার্থীর সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্কের অভিযোগ ওঠার পর গোপনে এভিডেভিট মুলে বিয়ে করার ঘটনায় এলাকাজুড়ে তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসতেই বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয়দের মধ্যে চাপা ক্ষোভ ও তীব্র প্রতিবাদ দেখা দিয়েছে। শিক্ষকের এ বিষয় নিয়ে ধুম্রজালের সৃষ্টি হয়েছে বলেও একটি পক্ষ মন্তব্য করেছেন।
অভিযুক্ত শিক্ষক মুশফিকুর রহমান লিটন যমুনা উচ্চ বিদ্যালয়ের (তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি ) আইসিটি বিষয়ের শিক্ষক। তিনি সিরাজগঞ্জ জেলার কাজিপুর উপজেলার গুজাবাড়ি গ্রামের তোতা মিয়ার ছেলে। সে জামালপুর জেলার সরিষাবাড়ী উপজেলার পোগলদিঘা ইউনিয়নের চর পোগলদিঘা গ্রামের খলিলুর রহমান এর মেয়ে কানিজ ফাতেমা কে বিয়ে করেন। তাদের উরশজাত সন্তান মাসফিয়া ইবনাত নামে একটি মেয়ে রয়েছে। তাদের সাংসারিক জীবনে বনিবনা না হওয়ার জের ধরে আদালতে পৃথক দুটি মামলা চলমান রয়েছে বলে শিক্ষক লিটনের স্ত্রী কানিজ ফাতেমা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি আরও অভিযোগ করে বলেন, যমুনা উচ্চ বিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত দশম শ্রেণীর এক শিক্ষার্থীর সঙ্গে তার অনৈতিক সম্পর্ক হওয়ার পর থেকেই উভয়ের মধ্যে বনিবনা শুরু হয়। এরই ধারাবাহিকতায় আদালতে মামলা চলমান থাকাবস্থায় অপ্রাপ্ত বয়স্ক শিক্ষার্থীকে গোপনে বিয়ে করেন।
এ ঘটনাটি বিদ্যালয় ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় জানাজানি হলে বিদ্যালয়ে পাঠদানরত শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। দশম শ্রেণীর শিক্ষার্থী ইমন হাসান ও সুমন মিয়া ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আমরা তার সন্তানের মতো। তার স্ত্রী ও সন্তান থাকা সত্ত্বেও সে একজন অপ্রাপ্তবয়স্ক শিক্ষার্থীকে বিয়ে করেছে । আমরা তাকে আর বিদ্যালয়ে দেখতে চাই না। এর বিচার চাই।”
একই সুরে কথা বলেন বিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী মুরাদ হাসান ও জীবন মাহমুদ। তারা বলেন, “একজন শিক্ষক হয়ে কিভাবে অপ্রাপ্তবয়স্ক একজন শিক্ষার্থীকে বিয়ে করেন। তা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। আমরা এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই এবং অনতিবিলম্বে অভিযুক্ত শিক্ষককে বিদ্যালয় থেকে অপসারণের দাবি জানাচ্ছি।”
শিক্ষার্থী আফসানা আক্তার মিমের বড় নানা আব্দুর রশিদ বলেন,“আমাদের পরিবারকে না জানিয়ে গোপনে কাজীপুর উপজেলায় নিয়ে এভিডেভিট মুলে বিয়ের কাজ সমপ্ন্ন করা হয়েছে। এটি সামাজিক ও নৈতিকভাবে জঘন্য কাজ। আমরা এর তীব্র নিন্দা জানাই।” এ ছাড়াও তিনি আরও জানান, সরিষাবাড়ী উপজেলার সাতপোয়া এলাকায় তার মামা হাফিজুর রহমান এর বাসায় বিয়ের পর রেখে দিয়েছেন বলেও গোয়াখাড়া গ্রামের রোকন চাকলাদার বিষয়টি জানিয়েছেন।
এ ব্যাপারে যমুনা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক মুশফিকুর রহমান লিটন এর নিকট জিজ্ঞাসা করা হলে তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ মিথ্যা ও ষড়যন্ত্র বলে দাবী করে তিনি পাশ কাটিয়ে যান।
এ বিষয়ে যমুনা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবুল কালাম আজাদ বলেন, “বিদ্যালয়ের শিক্ষক-কর্মচারীরা এ বিষয়ে আগে কিছুই জানতেন না। তবে এলাকাবাসী সমবেতভাবে বিদ্যালয়ে এসে
অভিযুক্ত শিক্ষককে বিদ্যালয় থেকে বের করে দিয়েছে। আমরা তাকে আপাতত তিন দিনের ছুটি দিয়েছি।” তিনি আরও জানান, এ বিষয়টি তদন্ত করে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও শিক্ষা অফিসার তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যাবস্থা গ্রহন করবেন বলে তিনি জানান।
জানতে চাইলে উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার রুহুল আমীন বেগ জানান,এ বিষয়টি যমুনা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষকের ব্যাপারে আমাদের কে অবগত করেছেন। বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবেন বলে প্রধান শিক্ষক জানিয়েছেন।
এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার তাসনিমুজ্জামান জানান, বিষয়টি আমাকে কেউ অবগত করেনি। জেনে শিক্ষকের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যাবস্থা নেওয়া হবে।

Advertisement
Advertisement