Skip to content
প্রকাশ- November 2, 2026 , 23:57 pm
অন্যান্য

নতুন বাংলাদেশের রূপরেখা তুলে ধরলেন জামায়াত আমির

নতুন বাংলাদেশের রূপরেখা তুলে ধরলেন জামায়াত আমির

Oplus_131072

মুক্তকাল ডেক্স
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ‘নতুন বাংলাদেশ’ বিনির্মাণে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক ক্ষেত্রে একটি সুদূরপ্রসারী রূপরেখা উপস্থাপন করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেছেন, ভবিষ্যতের বাংলাদেশ হবে বৈষম্যহীন, স্বচ্ছ ও মানবিক রাষ্ট্র—যেখানে বিভাজনের পরিবর্তে ঐক্য, ন্যায় ও আশাই রাজনীতির মূল চালিকাশক্তি হবে।
মঙ্গলবার রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত জামায়াতে ইসলামীর পলিসি সামিট–২০২৬-এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সকাল ৯টায় পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে শুরু হওয়া এ সামিটে দেশের বিশিষ্ট চিন্তাবিদ, নীতিনির্ধারক, কূটনৈতিক প্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতা, ব্যবসায়ী, পেশাজীবী ও জ্যেষ্ঠ গণমাধ্যম ব্যক্তিরা অংশ নেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, জামায়াতে ইসলামী এমন একটি রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তুলতে চায়, যেখানে আধুনিক বাজার অর্থনীতি কার্যকর থাকবে, প্রশাসন হবে জবাবদিহিমূলক এবং ধর্ম, বর্ণ ও লিঙ্গনির্বিশেষে সবাই সমান সুযোগ পাবে। ন্যায়, স্বচ্ছতা ও নৈতিকতার ওপর ভিত্তি করেই টেকসই উন্নয়ন সম্ভব বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
নারীর ক্ষমতায়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে জামায়াতে ইসলামীতেই নারীর অংশগ্রহণ তুলনামূলকভাবে বেশি। বর্তমানে দলের মোট সদস্যের প্রায় ৪৩ শতাংশ নারী। নতুন বাংলাদেশে প্রাথমিক থেকে উচ্চশিক্ষা পর্যন্ত নারীদের সমান অধিকার নিশ্চিত করা হবে এবং সামাজিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক ক্ষেত্রে কোনো ধরনের বৈষম্য মেনে নেওয়া হবে না।
তরুণ প্রজন্মকে রাষ্ট্রীয় উন্নয়নের প্রধান শক্তি উল্লেখ করে জামায়াত আমির বলেন, যুব কর্মসংস্থান নতুন সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার হবে। তিনি একটি আধুনিক কল্যাণ রাষ্ট্র গঠনের অঙ্গীকার করেন, যেখানে স্বচ্ছ বাজার অর্থনীতির পাশাপাশি সামাজিক নিরাপত্তাও নিশ্চিত থাকবে। শিল্পায়নে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প (এসএমই) এবং সরাসরি বৈদেশিক বিনিয়োগে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার কথাও জানান তিনি।
দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, রাষ্ট্রীয় সম্পদ যেন ব্যক্তিগত বা দলীয় স্বার্থে ব্যবহৃত না হয়, সে বিষয়ে জামায়াতে ইসলামী আপসহীন থাকবে। একই সঙ্গে তিনি কৃষি খাতের আধুনিকায়ন ও খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দেন।
সংখ্যালঘুদের অধিকার ও নিরাপত্তা রক্ষাকে তিনি রাজনৈতিক দায়িত্বের পাশাপাশি ধর্মীয় কর্তব্য হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি জানান, জামায়াতে ইসলামীতে বিভিন্ন ধর্মাবলম্বীর প্রায় পাঁচ লাখ সদস্য রয়েছেন, যারা দেশ গঠনে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করছেন।
বক্তব্যের শেষাংশে জামায়াত আমির দেশি-বিদেশি অংশীদারদের সঙ্গে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, বিভাজনের রাজনীতি নয়—ঐক্যের মাধ্যমেই একটি সমৃদ্ধ, মানবিক ও ইনসাফভিত্তিক বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব।

Advertisement
Advertisement