Skip to content
প্রকাশ- November 2, 2026 , 22:04 pm
অন্যান্য

সংসদ নির্বাচন ভোটের দায়িত্বে অনীহা ও আগ্রহ—দুই বিপরীত চিত্র

সংসদ নির্বাচন ভোটের দায়িত্বে অনীহা ও আগ্রহ—দুই বিপরীত চিত্র

Oplus_131072

মুক্তকাল ডেক্স:
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ভোটগ্রহণ কর্মকর্তাদের খসড়া তালিকা প্রস্তুতের কাজ শেষ করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। তবে এই তালিকাকে কেন্দ্র করে সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাদের মধ্যে দেখা দিয়েছে বিপরীতমুখী প্রতিক্রিয়া। একদিকে তালিকাভুক্ত বহু কর্মকর্তা ব্যক্তিগত ও পারিবারিক কারণ দেখিয়ে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি চাইছেন, অন্যদিকে যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও নাম না থাকায় অনেক কর্মকর্তা ক্ষোভ প্রকাশ করে অন্তর্ভুক্তির জন্য তদবির করছেন।
ইসি সূত্র জানায়, এবারের নির্বাচনে কয়েক লাখ ভোটগ্রহণ কর্মকর্তার প্রয়োজন হবে। এ বিশাল কার্যক্রম পরিচালনার লক্ষ্যে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ব্যাংকসহ বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিয়ে একটি খসড়া প্যানেল তৈরি করা হয়েছে। তালিকা প্রকাশের পরপরই ইসিতে শত শত অব্যাহতির আবেদন জমা পড়েছে।
তালিকাভুক্ত অনেক কর্মকর্তার মধ্যে নির্বাচন ঘিরে একধরনের ভীতি ও অনীহা কাজ করছে। বিশেষ করে মাঠপর্যায়ের শিক্ষক ও ব্যাংক কর্মকর্তারা দায়িত্ব এড়াতে অসুস্থতা, পারিবারিক সংকট কিংবা ছোট সন্তানের দেখাশোনার মতো কারণ দেখাচ্ছেন। তবে অনেকে মনে করছেন, এর পেছনে মূল কারণ হলো ভোটের দিন কেন্দ্রগুলোতে সম্ভাব্য বিশৃঙ্খলা ও সহিংসতার আশঙ্কা।
রাজধানীর একটি সরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মচারী শারমিন ফেরদৌস পোলিং অফিসার হিসেবে মনোনীত হওয়ার পর প্রশিক্ষণের আগেই অসুস্থতার অজুহাতে নাম প্রত্যাহারের আবেদন করেছেন। একই ধরনের আবেদন করেছেন খিলগাঁওয়ের সহকারী শিক্ষক তসলিম ও ডেমরার এক ব্যাংক কর্মকর্তা লাবনী। ময়মনসিংহের এক কর্মকর্তা শিশুসন্তানের দোহাই দিয়ে পরিচিতদের মাধ্যমে ইসিতে তদবির করছেন দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি পাওয়ার জন্য। দেশজুড়ে এ ধরনের আবেদন হাজার ছাড়িয়েছে বলে জানা গেছে।
তবে এর উল্টো চিত্রও রয়েছে। অনেক অভিজ্ঞ কর্মকর্তা অভিযোগ করেছেন, যোগ্য ও দক্ষ হওয়া সত্ত্বেও রহস্যজনকভাবে তাদের নাম খসড়া তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। তাদের দাবি, স্থানীয় প্রশাসনের পছন্দ-অপছন্দ কিংবা রাজনৈতিক বিবেচনার কারণে অভিজ্ঞ প্রিসাইডিং ও পোলিং অফিসারদের বাদ দেওয়া হয়েছে। রেহেনাসহ অনেকে এটিকে একটি ‘রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব’ হিসেবে উল্লেখ করে নির্বাচনে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, অভিজ্ঞদের বাদ দিয়ে নতুন বা নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর লোক নিয়োগ দিলে নির্বাচনের স্বচ্ছতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা প্রশ্নের মুখে পড়তে পারে।
আইন অনুযায়ী, অসুস্থতা বা যুক্তিসংগত কারণ ছাড়া কোনো কর্মকর্তা নির্বাচনি দায়িত্ব পালনে অস্বীকৃতি জানালে তা শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে।
এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা নিয়োগে নির্ধারিত নীতিমালা কঠোরভাবে অনুসরণ করা হচ্ছে। প্রকৃত ও যৌক্তিক কারণে যারা দায়িত্ব পালনে অক্ষম, তাদের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হবে। তবে অযৌক্তিকভাবে দায়িত্ব এড়ানোর চেষ্টা করলে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ইসি আরও জানিয়েছে, যেসব যোগ্য কর্মকর্তা খসড়া তালিকা থেকে বাদ পড়েছেন, তাদের তথ্য পুনরায় যাচাইয়ের সুযোগ রয়েছে। চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের আগে সব অভিযোগ ও আবেদন খতিয়ে দেখে একটি নিরপেক্ষ ও শক্তিশালী প্যানেল গঠনের চেষ্টা চলছে।
এদিকে নির্বাচনি দায়িত্বে থাকা কোনো ব্যক্তি যদি প্রার্থীর পক্ষে বা বিপক্ষে প্রভাব বিস্তার করেন কিংবা বেআইনি কর্মকাণ্ডে জড়িত হন, তাহলে সর্বনিম্ন এক বছর থেকে সর্বোচ্চ পাঁচ বছর পর্যন্ত সশ্রম কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে।

Advertisement
Advertisement