মুক্তকাল ডেক্স
চব্বিশের জুলাই–আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে দেওয়া সাজা বাড়ানোর আবেদন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের চেম্বার আদালতের কার্যতালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর রায়ে শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান কামালকে দুটি অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করা হয়। এর মধ্যে একটি অভিযোগে মৃত্যুদণ্ড এবং অপর অভিযোগে আমৃত্যু কারাদণ্ড দেওয়া হয়। আমৃত্যু কারাদণ্ডের সাজা বাড়িয়ে উভয়ের জন্য মৃত্যুদণ্ড চেয়ে রাষ্ট্রপক্ষ আপিল করেছে।
সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত আজ বৃহস্পতিবারের কার্যতালিকায় মামলাটি ৫৮ নম্বর ক্রমিকে রয়েছে। প্রসিকিউশন সূত্র জানায়, আপিলে মোট আটটি গ্রাউন্ড বা যুক্তি উপস্থাপন করা হয়েছে।
গত ১৭ নভেম্বর বিচারপতি মো. গোলাম মর্তুজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এই ঐতিহাসিক রায় ঘোষণা করেন। একই মামলায় রাজসাক্ষী হওয়া সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুনকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে অংশ নেন চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলামসহ একাধিক প্রসিকিউটর। আসামিপক্ষে পলাতক শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান কামালের হয়ে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মো. আমির হোসেন শুনানি করেন। রাজসাক্ষীর পক্ষে ছিলেন আইনজীবী যায়েদ বিন আমজাদ। রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তা হিসেবে বক্তব্য উপস্থাপন করেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান।
এই মামলায় গণঅভ্যুত্থানের প্রথম শহীদ আবু সাঈদের বাবা ছাড়াও স্বজনহারা পরিবারের সদস্যরা সাক্ষ্য দেন। স্টার উইটনেস হিসেবে সাক্ষ্য দেন জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম ও দৈনিক আমার দেশ-এর সম্পাদক ড. মাহমুদুর রহমান। মোট ৫৪ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের জুলাই–আগস্টে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান দমনে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার, দলীয় ক্যাডার ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একটি অংশ গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটিত করে—এমন অভিযোগে বর্তমানে দুটি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচার কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
হাসিনা–কামালের সাজা বাড়াতে আপিল, চেম্বার আদালতের কার্যতালিকায় মামলা




