Skip to content
প্রকাশ- November 2, 2026 , 23:07 pm
অন্যান্য

ভেঙে গেল জামায়াত নেতৃত্বাধীন ইসলামি জোট

ভেঙে গেল জামায়াত নেতৃত্বাধীন ইসলামি জোট

মুক্তকাল রিপোর্টার:
শেষ পর্যন্ত ভেঙেই গেল জামায়াতের নেতৃত্বাধীন ইসলামি জোট। জোটের দ্বিতীয় বৃহত্তম শরিক দল চরমোনাই পীর মুফতি রেজাউল করিমের নেতৃত্বাধীন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ জোট থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আজই এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসতে পারে।
জানা গেছে, গত এক সপ্তাহ ধরে আসন বণ্টন নিয়ে একাধিক দফা বৈঠক হলেও কোনো সমঝোতায় পৌঁছানো যায়নি। ইসলামী আন্দোলনের পক্ষ থেকে কমপক্ষে ৮০টি আসন ছাড়ার দাবি জানানো হয়। কিন্তু জামায়াত এত সংখ্যক আসন ছাড়তে রাজি না হওয়ায় আলোচনা ভেঙে পড়ে।
এই পরিস্থিতিতে জামায়াত ও ইসলামী আন্দোলন ছাড়া জোটের অন্যান্য শরিক দল আলাদা বৈঠক করে। খেলাফত মজলিসের একাংশের আমীর মাওলানা মামুনুল হক চরমোনাই পীরের সঙ্গে যোগাযোগ করে মধ্যস্থতার চেষ্টা চালালেও তা ব্যর্থ হয়। পরে তিনি গভীর রাতে পুরো পরিস্থিতি জামায়াতের শীর্ষ নেতাদের অবহিত করেন।
জোটের একাধিক শরিক ও জামায়াত নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ইসলামী আন্দোলনের পক্ষ থেকে স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে—জোটে থাকা আর সম্ভব নয়। তবে চরমোনাইয়ের দল সরে গেলেও অন্য শরিক দলগুলো জোটে থাকার বিষয়ে ঐকমত্যে পৌঁছেছে। ফলে ১১ দলীয় জোট এখন কার্যত ১০ দলীয় জোটে রূপ নিচ্ছে।
জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আব্দুল হালিম জানান, আজ দুপুরের মধ্যে জোটের শীর্ষ নেতারা বৈঠকে বসবেন। এরপর স্থগিত হওয়া সাংবাদিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে।
জোট সংশ্লিষ্ট এক নেতা জানান, নতুন করে কিছু আসনের বিন্যাস হতে পারে, তবে এতে বড় কোনো সমস্যা হবে না।
জোট সূত্রে আরও জানা যায়, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) জোটে যোগ দেওয়ার পর থেকেই ইসলামী আন্দোলনের চাপ বাড়তে থাকে। দলটি দাবি করে—তাদের অন্তত ১৪৩টি আসনে বিজয়ী হওয়ার মতো সমর্থন রয়েছে এবং তারা এনসিপি ও জামায়াতের প্রভাবশালী নেতাদের আসনেও দাবি তোলে।
প্রথমে ইসলামী আন্দোলনের জন্য ৪০টি আসন ছাড়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়, পরে তা বাড়িয়ে ৪৫টি করা হয় এবং সঙ্গে ৬–৭টি আসন উন্মুক্ত রাখার কথা বলা হয়। তবে ইসলামী আন্দোলন ৮০ আসনের দাবিতে অনড় থাকে। অন্যদিকে জামায়াত এত আসন ছাড়লে জোটের ভারসাম্য নষ্ট হবে—এই যুক্তিতে তারা রাজি হয়নি।
ইতোমধ্যে ইসলামী আন্দোলনের ২৬৬ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। এসব আসনে তারা হাতপাখা প্রতীক নিয়ে স্বতন্ত্রভাবে নির্বাচনে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে।
উল্লেখ্য, বুধবার বিকেলে জামায়াত জোটের সংবাদ সম্মেলন হওয়ার কথা থাকলেও আসন সমঝোতা চূড়ান্ত না হওয়ায় তা স্থগিত করা হয়। শেষ পর্যন্ত সব প্রচেষ্টা ব্যর্থ হওয়ায় আজ সকালে জোট ভেঙে যাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হয়।

Advertisement
Advertisement