Skip to content
প্রকাশ- November 2, 2026 , 17:19 pm
অন্যান্য

এনসিপি থেকে ১৪ জনের পদত্যাগ

এনসিপি থেকে ১৪ জনের পদত্যাগ

Oplus_131072

মুক্তকাল ডেক্স:
জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে নির্বাচনি সমঝোতায় যাওয়ার সিদ্ধান্তের পর তীব্র সংকটে পড়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। দলটির এই রাজনৈতিক সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে ভেতরে ও বাইরে ব্যাপক ক্ষোভ তৈরি হওয়ায় কেন্দ্রীয় পর্যায় থেকে শুরু করে মাঠপর্যায়ের নেতা-কর্মী ও ঘোষিত প্রার্থীদের মধ্যে ধারাবাহিক পদত্যাগের ঘটনা ঘটছে।
দলীয় একাংশ জামায়াতের সঙ্গে জোটকে আদর্শবিরোধী ও রাজনৈতিকভাবে আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখছেন। এর সরাসরি প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে দল ছাড়ার প্রবণতায়।
গত বৃহস্পতিবার, নতুন বছরের প্রথম দিনেই এনসিপির দুই গুরুত্বপূর্ণ নেতা পদত্যাগের ঘোষণা দেন। তারা হলেন— দলের মুখপাত্র, যুগ্ম সদস্যসচিব ও মিডিয়া সেলের সম্পাদক মুশফিক উস সালেহীন এবং কেন্দ্রীয় যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক খান মুহাম্মদ মুরসালীন। তারা দুজনই পৃথকভাবে দলের আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের কাছে পদত্যাগপত্র পাঠিয়েছেন। এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত নাহিদ ইসলামের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, জামায়াতের সঙ্গে নির্বাচনি আসন সমঝোতা ও জোটে যুক্ত হওয়ার সিদ্ধান্ত ঘোষণার পর থেকেই এনসিপির ভেতরে তীব্র অসন্তোষ দানা বাঁধে। যারা শুরু থেকেই দলটিকে একটি বিকল্প ও ছাত্র-নেতৃত্বাধীন নতুন রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে গড়ে তুলতে চেয়েছিলেন, তারা এই জোটকে নিজেদের রাজনৈতিক আদর্শ ও অবস্থানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলে মনে করছেন। এতে করে দলের ভেতরে মতবিরোধ চরমে পৌঁছে ধীরে ধীরে প্রকাশ্য বিভক্তিতে রূপ নিচ্ছে।
এনসিপির একাধিক নেতার অভিযোগ, জামায়াতের সঙ্গে সমঝোতার সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব দলের ভেতরে পর্যাপ্ত আলোচনা কিংবা মতামত গ্রহণ করেনি। ফলে অনেকেই নিজেদের রাজনৈতিক বিশ্বাস ও দায়বদ্ধতার জায়গা থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। পদত্যাগকারী নেতাদের কেউ কেউ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানিয়েছেন, এনসিপি যে পরিবর্তন ও নতুন ধারার রাজনীতির প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, জামায়াতের সঙ্গে জোট সেই অঙ্গীকারের পরিপন্থি।
এখন পর্যন্ত এনসিপির অন্তত ১৪ জন কেন্দ্রীয় নেতার পদত্যাগের খবর নিশ্চিত হওয়া গেছে। পদত্যাগকারীদের মধ্যে রয়েছেন— তাসনিম জারা, তাজনূভা জাবীন, ফারহাদ আলম ভূঁইয়া, আরিফ সোহেল, আজাদ খান ভাসানী, আসিফ নেহাল, মীর হাবিব আল মানজুর, মারজুক আহমেদ, মীর আরশাদুল হক, খালেদ সাইফুল্লাহ, খান মুহাম্মদ মুরসালীন, মুশফিক উস সালেহীন, ওয়াহিদুজ্জামান এবং আল আমিন টুটুল। এ ছাড়া দেশের বিভিন্ন শাখা কমিটির নেতারাও পদত্যাগ করেছেন।
পদত্যাগের পর মুশফিক উস সালেহীন সাংবাদিকদের বলেন,
‘১ জানুয়ারি ২০২৬ আমি জাতীয় নাগরিক পার্টি থেকে পদত্যাগ করেছি। আহ্বায়ক জনাব নাহিদ ইসলামের কাছে পদত্যাগপত্র পাঠানো হয়েছে। এখন থেকে এনসিপি-সংক্রান্ত কোনো তথ্য বা আপডেট আমার কাছে থাকবে না।’
তিনি আরও বলেন, দলের ভেতরে গণতান্ত্রিক চর্চার অভাব, সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতার ঘাটতি এবং নতুন জোটসঙ্গীদের রাজনৈতিক চরিত্র বিবেচনায় নিয়েই তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
অন্যদিকে, পদত্যাগের পর নিজের ফেসবুক পোস্টে খান মুহাম্মদ মুরসালীন জানান, তিনি এতদিন এনসিপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। পাশাপাশি মিডিয়া সেল, প্রচার ও প্রকাশনা সেল এবং নির্বাচনকালীন মিডিয়া উপকমিটির সেক্রেটারি হিসেবেও তিনি কাজ করেছেন। আজ থেকে তিনি দলের সব পদ ও দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তবে পদত্যাগের কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু উল্লেখ করেননি।

Advertisement
Advertisement