মুক্তকাল ডেক্স
প্রকাশ: ০১ জানুয়ারি ২০২৬
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জোটগত সমঝোতার অংশ হিসেবে জামায়াতে ইসলামী শতাধিক আসন ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেয় আগেই। ১০ দলীয় (প্রক্রিয়াধীন ১১ দলীয়) নির্বাচনি সমঝোতা ঘোষণার পর সেই সিদ্ধান্তের বাস্তবায়ন শুরু হলেও সম্ভাবনাময় অনেক আসন ছেড়ে দেওয়ায় দলটির তৃণমূল পর্যায়ে চাপা অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।
জোটের বৃহত্তর স্বার্থে কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বেশ কয়েকটি আসনে জামায়াত প্রার্থীরা মনোনয়নপত্র জমা দেননি। যদিও দীর্ঘদিন ধরে ওই সব আসনে গণসংযোগ, সামাজিক কার্যক্রম ও নির্বাচনি প্রস্তুতি চালিয়ে আসছিলেন নেতাকর্মীরা। মনোনয়ন না থাকলেও তারা আবেগঘন স্মৃতিচারণের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট আসনের প্রার্থীদের জন্য শুভকামনা জানিয়েছেন। তবে আরও আসন ছাড়ার ক্ষেত্রে মাঠপর্যায়ের বাস্তবতা বিবেচনার আহ্বান জানাচ্ছেন অনেকেই।
এদিকে চাহিদামতো আসন নিশ্চিত না হওয়ায় ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশসহ কয়েকটি দলের মধ্যেও অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। সমঝোতা চূড়ান্ত না হওয়ায় মনোনয়নপত্র জমার শেষদিনে একাধিক দল বাড়তি আসনে প্রার্থী দেয়, যা জোটের ভেতরে অস্বস্তি বাড়িয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনুসারীদের পাল্টাপাল্টি সমালোচনাও চোখে পড়ছে।
মনোনয়নপত্র জমার শেষদিনের আগে গত রোববার সংবাদ সম্মেলনে ১০ দলীয় নির্বাচনি সমঝোতার ঘোষণা দেন জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান। এতে আগে থেকে আন্দোলনরত আট দলের সঙ্গে নতুন করে যুক্ত হয় লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি) ও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। পরদিন এবি পার্টিও অনানুষ্ঠানিকভাবে এই প্রক্রিয়ায় যুক্ত হয়।
সূত্রমতে, ১১ দল মিলে ৩০০ আসনের বিপরীতে সাত শতাধিক মনোনয়নপত্র জমা পড়েছে। এর মধ্যে জামায়াতে ইসলামী ২৭৬, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ২৭২, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ৯০, খেলাফত মজলিস ৬৭, এনসিপি ৪৭ এবং এলডিপি প্রায় ২৫টি আসনে মনোনয়ন জমা দিয়েছে। অনেক সমঝোতাকৃত আসনেও একাধিক দলের প্রার্থী থাকায় জটিলতা তৈরি হয়েছে।
মনোনয়ন জমার পরদিন আসন সমঝোতা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন ইসলামী আন্দোলনের সিনিয়র নায়েবে আমির মুফতি ফয়জুল করীম। তিনি গণমাধ্যমে জামায়াতের সমালোচনা করেন। যদিও খালেদা জিয়ার মৃত্যুর কারণে এ বিষয়ে নির্ধারিত প্রেস ব্রিফিং স্থগিত করা হয়, সামাজিক মাধ্যমে দলটির অনুসারীদের প্রতিক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে।
ইসলামী আন্দোলনের কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক শেখ ফজলুল করীম মারুফ বলেন, “আসন সমাধানে আমরা সন্তুষ্ট নই। তাই ২৭২টি আসনে মনোনয়ন দিয়েছি। আলোচনা চলমান আছে, সমাধান হলে একসঙ্গে—না হলে আলাদাভাবে নির্বাচন করব।”
অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামী ও ছাত্রশিবিরের তৃণমূল নেতাকর্মীদের একাংশ অভিযোগ করছেন, ভোটের বাস্তব অবস্থা বিবেচনা না করে কিছু ছোট দল অতিরিক্ত আসনের দাবি করছে। এ পরিস্থিতিতে জামায়াতকে পড়তে হচ্ছে চাপে।
তবে জামায়াত মিডিয়া সেলের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, জোটের বৃহত্তর স্বার্থে নিশ্চিত আসন ছেড়ে দেওয়া জামায়াতের রাজনৈতিক ত্যাগ ও আদর্শিক অবস্থানের অনন্য দৃষ্টান্ত।
এ বিষয়ে জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, “আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো সমস্যা নেই। আলোচনায় বসলে সব জটিলতার সমাধান হবে, ইনশাআল্লাহ।”
সম্ভাবনাময় আসন ছাড়ায় জামায়াতে চাপা অসন্তোষ
Oplus_131072




