মোঃ ইমরান হোসেন
সহকারী অধ্যাপক বাংলা
ঢাকা কলেজ বা ইডেন কলেজ (এমন পুরনো ৭টি কলেজ) এর ঐতিহ্য ও সুনাম নষ্ট করার জন্য একদল লোক মরিয়া হয়ে ওঠেছে।
শিক্ষা নিয়ে আপনাদের যদি এতই ভাবনা থাকে তবে নিজেদের বিশ্ববিদ্যালয় প্রদত্ত মাস্টার্সের মান অন্যদেশের ডিপ্লোমা সমমান কেন?
আপনারা যদি দেশের শিক্ষার মানকে আন্তর্জাতিক করার জন্য এতই উৎসুক হন তবে আপনার প্রতিষ্ঠানের সেবার মান এত নিম্নগামী কেন?
আপনাদের উচ্চমার্গীয় সেবায় আপনাদের সেবাগ্রহিতা এত হতাশ কেন? আপনাদের নামে এত কুৎসা কেন?
বৈশ্বিক গবেষণায় আমাদের মান এত অবনমনে (কেন কাট,কপি,পেস্ট!) কেন যায়?
আপনার যদি বিশ্ববিদ্যালয়ে চাকরি করে বেতন/ভাতার বিলে না পোষায় তবে অন্যভাবে আয়ের খাত বাড়ান। দেশে ফ্রিল্যান্সিং এর অনেক কদর।
দেশের লক্ষাধিক দরিদ্র শিক্ষার্থী বিভাগীয় শহরে পড়ালেখার পাশাপাশি নানা কর্ম করে পড়ালেখার খরচ যোগাতে পারত, নিজেকে উপযোগী করে গড়ে তুলতে পারত অল্প খরচে সেটার ব্যয় বাড়ানোর মতলব আসলে কেন?
নাকি সরকারি বড়ো কলেজ সংকুচিত করে নতুন নতুন প্রাইভেট/বেসরকারি কলেজ/বিশ্ববিদ্যালয় খোলে সেখানে নানা কিসিমের অধ্যাপকগণ বাড়তি আয়ের পথ প্রশস্ত করবেন? আর বিশ্ববিদ্যালয়ের নানা প্রশাসনিক পদে যাবার উদগ্র বাসনা জেগেছে আমাদের?
এমনি দেশটাতে অধিকাংশ মানুষ আইনপ্রণেতা, শাসক, সভাপতি, সমন্বয়ক, সম্পাদক, সিইও কিংবা আমির (হামজা নয়) হবার জন্য মরিয়া।
যখন দেশে জেলায় জেলায় বিশ্ববিদ্যালয় গড়া শুরু হলো তখন অনেকে এসবের বিরোধিতা করেছেন।
আবার তারাই নতুন করে বিষ-বিদ্যালয় গড়ার জন্য আদাজল খেয়ে লেগেছেন।
কেন?
এদেশে নতুন জেলা/বিভাগ/উপজেলা সৃষ্টির উদ্দেশ্য সম্পর্কে অনেকে ওয়াকিবহাল।
নতুন শুরু করেছেন বিশ্ববিদ্যালয় খোলার খেলা। রবী ঠাকুর বলেছেন, “যে খেলা সৃষ্টি খেলে সে খেলা তোমার তো নয়।”
যদি বিশ্ববিদ্যালয় খুলতেই হয় তবে বুড়িগঙ্গা/সাভার/মোহাম্মদপুর/যাত্রাবাড়ি পার হয়ে নতুন স্থানে বালু ভরাট করে শতাধিক প্রতিষ্ঠান খুলুন। শর্ত থাকে যে পুরনো বিশ্ববিদ্যালয়ের কেউ যেনো এসবে পদায়িত না হোন এবং সন্ধ্যাকালীন খেপ মারতে না যান।
কলেজের মান নিয়ে যেহেতু আপনারা ভাবছেন তাহলে সকল কলেজকে বিশ্ববিদ্যালয়ে ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে কলেজে রূপান্তর করে আন্তর্জাতিক মানের সনদ কারখানা খুলে বসুন।
রাষ্ট্র হিসাবে বাংলাদেশ সৃষ্টির পূ্র্বে যে বিদ্যায়তনগুলো মহীরুহ হয়ে সুনাম ছড়াচ্ছে স্বাধীনতার ৫৫ বছরে বাংলাদেশের কোন বিশ্ববিদ্যালয় আহামরি কি প্রভাবটা ফেলেছে?
ঢাবির শিক্ষা ও গবেষণা নামক যে প্রতিষ্ঠান তাদেরই কী এমন বিশেষ অবদান দেশে শিক্ষা ক্ষেত্রে রয়েছে?
মানি, এটা সত্য যে যুগের পর যুগ একশ্রেণির সুবিধাভোগী ক্ষমতা ও নজরকাড়া রূপ নিয়ে এসব প্রতিষ্ঠানো পড়ানোর পরিবর্তে পদ দখল করে রেখেছে। অনেকের হয়ত পড়ানোর মান নিয়ে আপত্তি আছে।
বাংলাদেশে এমন কোন সেক্টর আছে যেখানে অযোগ্য লোকরা তার যোগ্যতার চেয়ে উচ্চতর পদ দখল করে রাখেনি বলতে পারবেন কেউ?
বরং এদেশে সততা, নিষ্ঠা ও যোগ্যতার মানদণ্ডে অযোগ্য মানুষগুলো সেরা স্থানগুলোকে কলুষিত করেছে নানাভাবে। সেটি চলমান পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর দিকে তাকালে স্পষ্টত দৃশ্যমান হবে।
সরকারি সিদ্ধান্তে সব কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরিত হলেও যেমন নাগরিক হিসেবে আমার করার কিছু থাকবে না, তেমনি পুরো শিক্ষা ব্যবস্থা নষ্ট করে দিলেও একশ্রেণি আনন্দমিছিল আয়োজন করে ‘বগুড়ার দই’ বলে নাটোরের বটতলার কাঁচাগোল্লা বিতরণ করবে উল্লাসের সাথে।
যেমন করে পরাধীন জাতি অনেক সাধনা করে সাধের নতুন স্বাধীনতার স্বাদ পেলে অসাধারণ তৃপ্তি পায় তেমন করে ঢোক গিলবে।
দেশে পাড়ায় বিশ্ববিদ্যালয় হোক, সমস্যা নেই। তার আগে প্রয়োজন বিদ্যমান প্রতিষ্ঠানসমূহের সেবা ও পরিচর্চা করা।
তা না-হলে সরকারি হাসাপাতলের সেবার মান বৃদ্ধি না করে শহরের মোড়ে মোড়ে যেমন ক্লিনিক স্থাপন করে ব্যবসাবান্ধব চিকিৎসক তৈরি করছি তেমনি সনদবান্ধব অধ্যাপক তৈরি হতে বেশিদিন অপেক্ষা করতে হবে না।
শিক্ষা নিয়ে নতুন নতুন কুপ্রস্তাব নয় বরং সংকট কাটিয়ে সংস্কারের মান সমুন্নত হোক।




