জামালপুর প্রতিনিধি
জামালপুর: পরিবেশ সুরক্ষার আইন থাকলেও জামালপুর জেলায় পলিথিন ও একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিকের লাগামহীন ব্যবহার পরিস্থিতিকে ভয়াবহ করে তুলেছে। শহর থেকে গ্রাম—যত্রতত্র ফেলা প্লাস্টিক বর্জ্য কৃষিজমি, নদী-নালা, জীববৈচিত্র্য ও জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় হুমকিতে পরিণত হয়েছে।
কৃষিজমিতে উর্বরতা হ্রাস
কৃষিনির্ভর জেলা জামালপুরে পলিথিন দূষণের সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়ছে জমিতে। হাট-বাজারের প্লাস্টিক ব্যাগ বৃষ্টির পানির সঙ্গে ভেসে জমিতে জমা হচ্ছে। বছরের পর বছর নিচে চাপা পড়ে থাকা পলিথিন মাটির ভৌত গঠন নষ্ট করছে।
একজন স্থানীয় কৃষক জানান, “পলিথিন জমিতে একবার ঢুকলে তা আর পচে না। এতে জলধারণ ক্ষমতা কমে যায়, শিকড় ঠিকভাবে প্রবেশ করতে পারে না। ধান-পাটের ফলন আগের মতো নেই।”
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এভাবে চলতে থাকলে বহু জমি ধীরে ধীরে কৃষির অনুপযোগী হয়ে পড়বে।
নদী-নালা ও জলাশয়ে দূষণ
জামালপুরের খাল-বিল ও নদীতে প্লাস্টিক বর্জ্যের চাপ আশঙ্কাজনক। নদীর তীর ও বাজারের পাশের বর্জ্য বর্ষার জলে ভেসে জলাশয়ের তলদেশে জমে দূষণ বাড়াচ্ছে। এতে মৎস্যসম্পদ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, জীববৈচিত্র্য হুমকির মুখে পড়ছে।
দূষিত পানি ছড়িয়ে পড়ায় মশা-মাছির প্রজনন বৃদ্ধি পাচ্ছে, যার ফলে ডায়রিয়া, ডেঙ্গু ও জলবাহিত রোগের ঝুঁকি বেড়ে যাচ্ছে। প্লাস্টিক খেয়ে গবাদিপশুর অসুস্থতার ঘটনাও বাড়ছে।
জনস্বাস্থ্যে কেমিক্যাল ঝুঁকি
পলিথিনে গরম খাবার রাখা বা প্লাস্টিক পাত্রে দীর্ঘদিন খাবার সংরক্ষণ করলে BPA ও Phthalates-এর মতো রাসায়নিক খাদ্যে মিশে যেতে পারে। পরিবেশবিদদের মতে, এসব কেমিক্যাল ক্যানসার, হরমোনজনিত সমস্যা ও দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করে।
সমাধানে কঠোর নিয়ম প্রয়োগের দাবি
পরিবেশ সচেতনদের দাবি—
পলিথিন নিষিদ্ধকরণে কঠোর নজরদারি
কাপড় ও পাটের ব্যাগ ব্যবহারে জনসচেতনতা
পৃথক প্লাস্টিক সংগ্রহ ও রিসাইক্লিং ব্যবস্থা
কার্যকর বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও স্থানীয় পর্যায়ে বিশেষ মনিটরিং
তাদের মতে, এখনই উদ্যোগ না নিলে জামালপুরে পলিথিন দূষণ এক অনিয়ন্ত্রিত পরিবেশ বিপর্যয়ে রূপ নেবে।




