Skip to content
প্রকাশ- November 2, 2026 , 23:58 pm
অন্যান্য

কেন কমছে শিক্ষার প্রতি ভালোবাসা: এক বাস্তবতার বিশ্লেষণ

কেন কমছে শিক্ষার প্রতি ভালোবাসা: এক বাস্তবতার বিশ্লেষণ

Oplus_131072

ইমরান হোসেন
শিক্ষার সাথে শিক্ষার্থীদের সংশ্লেষ ক্রমাগত কমছে
ভবিষ্যতে এটার পরিমাণ দ্রুত বাড়বে বলেই বিশ্বাস। অনুরূপভাবে বলা যায় শিক্ষার্থীদের সাথে শিক্ষকদের শিখন শিক্ষণের সম্পর্ক কমছে। তথ্যের সহজপ্রাপ্যতা এর অন্যতম কারণ। কেননা তাদের ভাবনাটা কেবল প্রচলিত গাইড/নোটবই, গুগল নির্ভর। দীর্মসময় কক্ষে বসে বক্তৃতার সারমর্ম খোঁজার চেয়ে তৈরিকৃত মর্ম আমাদের মনে টানে বেশি। নির্ভাবনায় বসেও তথ্য প্রাপ্তির সম্ভবনা থাকে বলে তথ্য আর তত্ত্বীয় জ্ঞানের সন্ধান করা হয়ে উঠে না। সনদ নির্ভর শিক্ষা কোন রকমে সদনে সনদে পৌঁছে দিচ্ছে ঠিকই ব্যক্তির ব্যক্তিত্বকে সংশোধন কিংবা সুঠাম করতে পারছে না। অপরদিকে সামাজিক অবস্থান, কর্মস্থলে ছাত্ররাজনীতির দাপটের অপব্যবহার ক্রমশই তাদেরকে ছাত্রদের থেকে নিরাপদ দূরত্বে থাকতে উৎসাহ যোগায়। উৎসবে কিংবা পার্বণে তাদের তেজোদৃপ্ত (তেজোদীপ্ত নয়) আহবান অন্য শিক্ষার্থীদের যেমন টানতে পারে না, তেমনি মঞ্চে উপবিষ্টদেরও বিরক্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। কারণ আমাদের বেশিরভাগ আলোচকের আলোচনা একমুখী, প্রচলিত কথারই প্রতিফলন, অনেকক্ষেত্রে আড়ম্বরহীন প্যাঁচাল। কেননা ভালোবাসার কথা বারবার শুনতে ভাল লাগলেও, সব ভালোবাসার কথা সব ক্ষেত্রে বলা সমীচীন নয়, দরকারও পড়ে না। যেজন্য আমাদের বেশিরভাগ উৎসব হয়ত কেবলই ছবি করে স্মৃতি রাখার জন্য, নয়ত কোন রাজনৈতিক ফায়দা লুটার কায়দা মাত্র। সেটা বেশিরভাগ পেশার ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য হতে পারে। তার দৃষ্টান্ত হিসেবে রাজনীতিকদের সাথে আমাদের ছবি তোলার হিড়িক দেখলেই অনুভব করা যায়। অপরদিকে যে দেশে কম পড়ালেখা করা মানুষ অল্প সময়ে বেশি পয়সার মালিক হয় অথবা ছোট পদের বেতনে শহরের/নগরের বড় বাড়ির মালিক/নাগর হয়ে থাকেন, সেদেশের মানুষকে সৎ ও মহৎ মানুষ হবার উপদেশ দিলে গ্যালারিতে হাস্যরস তৈরি হওয়াটা অস্বাভাবিক নয়। যে ছেলেটা পড়ালেখায় খুব বেখেয়ালি ছিল, হয়ত কিছুদিন পর তার ইশারাতেই আপনার বদলি কিংবা কাঙ্ক্ষিত পদায়ন অপেক্ষা করছে। বড় হতে হতে ছোট শিশুরা এসব দেখলে কেন মহৎ হবার ব্রত নিয়ে জীবনটাকে বিব্রত করবে? প্রাইভেট প্রতিষ্ঠান বৃদ্ধি, বিভিন্ন রকম পরীক্ষার জন্য প্রতিষ্ঠানের সাথে আর্থিক লেনদেন, শ্রেণিতে পড়ানোর বাহিরে অতিরিক্ত প্রাইভেট পড়ানোর মানসিকতার কারণে শিক্ষকতা এখন অনেকটা চাকরিমাত্র। কর্মসংস্থানে সংস্থাপিত হবার সংকট, চাকরির নিয়োগে কথিত অনিয়ম আর লেনদেনের বিষয়টি সাধারণ শিক্ষার্থী ও অভিভাবককে অনিশ্চিত গন্তব্যের দিকে অসাধারণ ঈঙ্গিত করছে। ফলত তারা নানা উপায়ে কোন রকমে একটা সনদ প্রাপ্তির জন্য মরিয়া। আর যেকোন উপায়ে একটি চাকরিই তাদের আরাধ্য। তারা তাদের শিক্ষকের সামাজিক ক্ষমতার সাথে যখন অন্য পেশার সক্ষতমার তুলনা করে তখন থেকেই এ পেশার প্রতি অনীহা আসে। কারণ সে উপলব্ধি করতে শিখে, কেবল জ্ঞান অর্জন নয়, বরং দম্ভ দেখাবার মতন দাপট অর্জন করাটাও জরুরি। ক্রমাগত অবেহালা ও কম সুবিধার তুলনা দিতে দিতে এ পেশার মানুষের ভেতরেও জ্ঞান চর্চার পরিমাণ অনেকটা স্তিমিত। কোন কোন ক্ষেত্রে স্থবির। যন্ত্রে শান না দিলে যেমন মরীচা যন্তণার কারণ হয়ে পড়ে এখানেও তেমনই। কারো জানবার ক্ষুধা না থাকলে সে পড়েই বা কাকে জানাবে? চাতকী চাহিয়া না থাকিলে বৃষ্টিতে কী লাভ হইবে? আদতে কোন বিশেষ পেশাকে মহৎ বলিলে অন্য পেশাকে হেয় করা হয়, কিংবা সে পেশাদারকে নানা অজুহাতে বিভিন্ন সুযোগ থেকে বঞ্চিত করা হয়।
কারণ আমরা কথায় কথায় প্রতিপক্ষ বানাতে পারি, আর সাথে দিতে পারি উচিত শিক্ষা। সে অর্থে শিক্ষাটা কখনো গালি অর্থে বা নেতিবাচকভাবেও ব্যবহৃত হয়।

Advertisement
Advertisement