প্রকাশ: ১৯ নভেম্বর ২০২৫,
আগামী জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রায় এক বছর আগেই সব আসনে প্রাথমিক প্রার্থী ঘোষণা করেছিল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। সেই তালিকায় ছিল প্রায় ৮০ শতাংশ নতুন মুখ—যাদের বেশিরভাগই তরুণ। ঘোষণার পর থেকেই তারা নিজ নিজ এলাকায় গণসংযোগ ও প্রচারণায় সক্রিয় রয়েছেন।
তবে দলটি শুরু থেকেই জানিয়ে আসছে—এই তালিকাই চূড়ান্ত নয়। সেই ধারাবাহিকতায় এবার আরও বড় চমক নিয়ে প্রার্থী তালিকা চূড়ান্ত করতে যাচ্ছে জামায়াত। ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহেই—অথবা তফসিল ঘোষণার আগেই—এই তালিকা প্রকাশ করা হবে বলে দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে।
বৈচিত্র্যময় প্রার্থীর সম্ভাবনা
বিশ্বস্ত সূত্র বলছে, এবার চূড়ান্ত তালিকায় দেখা যেতে পারে বিভিন্ন ধর্মের প্রতিনিধি, বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব, সাংবাদিক, আলেম, নারী নেতৃত্ব ও বিভিন্ন পেশাজীবীকে। এমনকি চার বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদে নির্বাচিত কয়েকজন তরুণ নেতাকেও প্রার্থী করার সম্ভাবনা রয়েছে।
দলীয় কাঠামোর বাইরের ব্যক্তিরাও ‘দাঁড়িপাল্লা’ কিংবা সমমনা দলের প্রতীক ব্যবহার করে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারবেন।
দলের শীর্ষ নেতৃত্বের বক্তব্য
গত ৪ নভেম্বর ওমরাহ পালন শেষে প্রেস ব্রিফিংয়ে জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেন:
“আমরা বিভিন্ন সময়ে আঞ্চলিক পর্যায়ে প্রাথমিক তালিকা জানিয়েছি। সময়মতো কেন্দ্রীয়ভাবে চূড়ান্ত তালিকা ঘোষণা করা হবে।”
দলের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের মঙ্গলবার ‘আমার দেশ’কে বলেন:
“চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা ডিসেম্বরের প্রথম দিকেই ঘোষণা করা হবে। আগের তালিকায় পরিবর্তন আসার সম্ভাবনা রয়েছে।”
নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নতুন কৌশল
দলটির অভ্যন্তরীণ সূত্র জানায়, আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে ‘অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ’ বলে বিবেচনা করছে জামায়াত। বিভিন্ন জরিপ ও মাঠ পর্যায়ের তথ্য অনুযায়ী জনসমর্থন বাড়ছে এমন ধারণা থেকে এবার সর্বাত্মক জয়ের লক্ষ্যে প্রার্থী বাছাই, কৌশল এবং আসন সমঝোতায় বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে তারা। আন্দোলনরত আট দলের সঙ্গে আলোচনা চলছে, এবং আসন সমঝোতার ভিত্তিতেই চূড়ান্ত প্রার্থী নির্ধারণ করা হবে।
আমিরের বক্তব্য
সোমবার রাজধানীতে এক অনুষ্ঠানে জামায়াতের আমির বলেন—
“এই নির্বাচন দেশ ও জাতির জন্য একটি টার্নিং পয়েন্ট। সারাদেশে দলীয় প্রার্থীদের বিজয়ী করতে সবাইকে সর্বশক্তি নিয়োগ করতে হবে।”




