সাইদুর রহমান, জামালপুর শহর প্রতিনিধি
জামালপুরে ইজিবাইক ও রিকশা মালিক শ্রমিক ঐক্য পরিষদের উদ্যোগে প্রতিবাদ মিছিল ও পূর্ণদিবস ধর্মঘট পালিত হয়েছে। রবিবার (২ নভেম্বর) সকাল ৬টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত চলা এই ধর্মঘটে শহরের প্রধান সড়কগুলোতে যান চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে যায়। ফলে সাধারণ মানুষ ও কর্মজীবী শ্রেণি চরম দুর্ভোগে পড়ে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সকাল থেকেই শহরের ব্যস্ততম পাঁচ রাস্তা মোড়, কলেজ রোড, নিউ মার্কেট মোড়, ট্রাফিক মোড়সহ বিভিন্ন এলাকায় ইজিবাইক চালকরা জড়ো হয়ে তাদের দাবির পক্ষে স্লোগান দিতে থাকেন। তারা শহরের প্রধান সড়কগুলোতে মিছিল বের করে প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।
ইজিবাইক ও রিকশা মালিক শ্রমিক ঐক্য পরিষদের নেতারা বলেন,
“আমরা দীর্ঘদিন ধরে প্রশাসনের কাছে দাবি জানিয়ে আসছি, কিন্তু কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। বাধ্য হয়েই আমরা আজ ধর্মঘটের মতো কঠোর পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হয়েছি।”
তাদের দাবি অনুযায়ী—
লাইসেন্স নবায়ন ফি কমাতে হবে।
গাড়ি রং করার সিদ্ধান্ত অবিলম্বে বাতিল করতে হবে। পৌর এলাকায় নতুন কোনো ইজিবাইক লাইসেন্স প্রদান বন্ধ রাখতে হবে।
যানজট নিরসনের লক্ষ্যে কম্পপুর মোড়, রশিদপুর মোড়, টিবওয়েল পাড় মোড়, শেরপুর ব্রিজের উপরে ও নিচে স্থায়ী চেকপোস্ট বসাতে হবে।
লাইসেন্সবিহীন কোনো ব্যাটারি চালিত যানবাহন শহরে চলতে দেওয়া যাবে না।
ইজিবাইক চালক ও মালিকরা আরও বলেন, প্রশাসন যদি দ্রুত তাদের যৌক্তিক দাবি মেনে না নেয়, তাহলে এই ধর্মঘট অনির্দিষ্টকালের জন্য চলবে এবং পরবর্তীতে আরও কঠোর আন্দোলন ঘোষণা করা হবে।
ধর্মঘটের কারণে শহরের পরিবহন ব্যবস্থা ভেঙে পড়ে। স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী, অফিসগামী কর্মচারী ও সাধারণ মানুষ পায়ে হেঁটে গন্তব্যে যেতে বাধ্য হন। কেউ কেউ ভ্যান ও অটোরিকশার মতো বিকল্প যানবাহন ব্যবহার করেন, তবে ভাড়া ছিল স্বাভাবিকের চেয়ে দ্বিগুণ।
পৌর প্রশাসনের এক কর্মকর্তা বলেন, “ইজিবাইক চালকদের কিছু দাবি যৌক্তিক, তবে কিছু বিষয় নিয়ম অনুযায়ী পরিবর্তন সম্ভব নয়। আলোচনার মাধ্যমে একটি সমাধান বের করা হবে।”
এদিকে শহরের বিভিন্ন এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন ছিল। পরিস্থিতি সার্বিকভাবে শান্তিপূর্ণ থাকলেও যান চলাচল বন্ধ থাকায় শহরের বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ডে প্রভাব পড়ে।
ইজিবাইক চালকরা জানান, “আমরা চাই শহরের পরিবহন ব্যবস্থা ঠিক থাকুক, কিন্তু প্রশাসন যদি বারবার আমাদের উপর অন্যায় চাপ দেয়, তাহলে আমরা আন্দোলন ছাড়া কোনো পথ দেখছি না।”
ধর্মঘট শেষে তারা ঘোষণা দেন— প্রশাসন যদি তিন দিনের মধ্যে তাদের দাবি বাস্তবায়নে আশ্বাস না দেয়, তবে পরবর্তী কর্মসূচি হিসেবে অবস্থান ধর্মঘট ও বিক্ষোভ সমাবেশ করা হবে।




