জামালপুর প্রতিনিধি:
ইজিবাইক ধর্মঘটে শহরে যানবাহন সংকটে পড়েন সাধারণ মানুষ ও পরীক্ষার্থীরা। এমন সময়ে সরকারি আশেক মাহমুদ কলেজের শিক্ষার্থীরা এগিয়ে এসে চালু করেন ফ্রি বাইক সার্ভিস, যা প্রশংসা কুড়ায় সর্বমহলে।
আজ রবিবার সকাল থেকেই জামালপুর শহরের প্রধান সড়কে ইজিবাইক ও রিকশা মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদের ধর্মঘটে জনজীবন অচল হয়ে পড়ে। বিশেষ করে অনার্স দ্বিতীয় বর্ষের পরীক্ষার্থীদের পরীক্ষাকেন্দ্রে পৌঁছাতে চরম ভোগান্তির সৃষ্টি হয়।
এ অবস্থায় সরকারি আশেক মাহমুদ কলেজের একদল শিক্ষার্থী পরীক্ষার্থীদের জন্য ফ্রি বাইক সার্ভিস চালু করেন। কলেজের ছাত্র ও ছাত্রী হোস্টেলের শিক্ষার্থীরা নিজেদের মোটরসাইকেল ব্যবহার করে সরকারি জাহিদা শফী মহিলা কলেজসহ বিভিন্ন পরীক্ষাকেন্দ্রে পরীক্ষার্থীদের পৌঁছে দেন। দূরপাল্লা থেকে আসা শিক্ষার্থীদের সিএনজি স্ট্যান্ড থেকে কলেজ পর্যন্ত পৌঁছে দেন তারা।
শিক্ষার্থীদের এই উদ্যোগে শতাধিক পরীক্ষার্থী সময়মতো পরীক্ষাকেন্দ্রে পৌঁছাতে সক্ষম হন।
ফ্রি সার্ভিসে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থী হৃদয় আহম্মেদ শাওন বলেন,যানবাহন না থাকায় অনেক পরীক্ষার্থী বিপাকে পড়েছিল। আমরা ভাবলাম, নিজেরাই যদি কিছু করি তাহলে হয়তো উপকার হবে। আমাদের লক্ষ্য ছিল, কেউ যেন পরীক্ষায় দেরি না করে।
অন্য অংশগ্রহণকারী সরকারি আশেক মাহমুদ কলেজের ছাত্রদলের সদস্য সচিব শাহরিয়ার বায়েজিদ বলেন,
এই উদ্যোগের মাধ্যমে আমরা দেখাতে চেয়েছি সংকটকালেও একে অপরের পাশে দাঁড়ানোই মানবতার পরিচয়।
ছাত্রী আফরিন জান্নাত আঁখি বলেন,মেয়েদের নিরাপদে কেন্দ্রে পৌঁছানোর বিষয়টি আমরা অগ্রাধিকার দিয়েছি। সবার সহযোগিতায় কাজটি সুন্দরভাবে সম্পন্ন হয়েছে।
পরীক্ষার্থী রাকিব হাসান বলেন,বাইক সার্ভিস না থাকলে আজকের পরীক্ষায় দেরি হতো। ভাইয়াদের এই উদ্যোগে আমরা সত্যিই উপকৃত হয়েছি।
আরেক পরীক্ষার্থী ফাতেমা আক্তার বলেন,ভাইয়া-আপুরা যেভাবে সহায়তা করেছেন, মনে হয়েছে আমরা সবাই একই পরিবারের সদস্য।
শিক্ষার্থীদের এই মানবিক উদ্যোগে শহরের সাধারণ মানুষও প্রশংসা করেছেন। তারা বলেন, এমন উদ্যোগ তরুণ সমাজের ইতিবাচক মনোভাবের প্রতিফলন।
জামালপুরের সরকারি আশেক মাহমুদ কলেজের শিক্ষার্থীরা শুধু যানবাহন সংকটে সহযোগিতা করেননি, তারা দেখিয়ে দিয়েছেন মানবতা ও সামাজিক দায়বদ্ধতার মাধ্যমে পরিবর্তন আনাই তরুণ প্রজন্মের আসল শক্তি।




