Skip to content
প্রকাশ- November 2, 2026 , 15:32 pm
সরিষাবাড়ি

সরিষাবাড়ীতে অরক্ষিত ৩০টি রেলক্রসিং: মারাত্মক ঝুঁকিতে জনজীবন, বাড়ছে দুর্ঘটনা

সরিষাবাড়ীতে অরক্ষিত ৩০টি রেলক্রসিং: মারাত্মক ঝুঁকিতে জনজীবন, বাড়ছে দুর্ঘটনা

সরিষাবাড়ী প্রতিনিধি: জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলায় রেলপথজুড়ে ছড়িয়ে থাকা অরক্ষিত ক্রসিংগুলো স্থানীয় বাসিন্দাদের জন্য মারাত্মক ঝুঁকির কারণ হয়ে উঠেছে। ছোট-বড় মিলিয়ে ৩০টিরও বেশি রেলক্রসিংয়ে নেই কোনো গেটম্যান কিংবা কার্যকর নিরাপত্তা ব্যবস্থা। ফলে প্রতিনিয়ত জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পারাপার হচ্ছেন সাধারণ মানুষ, আর প্রায়শই ঘটছে মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি।

​স্থানীয় রেলওয়ে সূত্রে জানা যায়, সরিষাবাড়ী রেলপথ দিয়ে নিয়মিত বেশ কয়েকটি আন্তঃনগর ও লোকাল ট্রেন চলাচল করে। পুরো উপজেলায় প্রায় ৪০টি রেলক্রসিং থাকলেও মাত্র ৯টিতে গেটম্যান নিয়োজিত আছেন। বাকি ক্রসিংগুলো সম্পূর্ণ অরক্ষিত অবস্থায় রয়েছে। এছাড়া স্থানীয়ভাবে অবৈধ বা অনুমোদনহীন কিছু ছোট ক্রসিংও গড়ে উঠেছে, যা দুর্ঘটনার আশঙ্কা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

Advertisement

​উপজেলার তারাকান্দি রেলস্টেশন সংলগ্ন ব্যস্ততম রেলক্রসিং এলাকায় সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সেখানে চারটি ডাবল লাইন থাকা সত্ত্বেও কোনো গেটম্যান নেই। প্রতিদিন স্কুলপড়ুয়া শিক্ষার্থী, পথচারী এবং বিভিন্ন ধরনের যানবাহন—যেমন অটোরিকশা, ভ্যান, ব্যাটারিচালিত রিকশা ও প্রাইভেটকার—কোনো সতর্কতা ছাড়াই পারাপার হচ্ছে। ক্রসিংয়ের আশপাশে গাছপালা ও বিভিন্ন স্থাপনা থাকায় ট্রেন আসার বিষয়টি আগে থেকে সহজে টের পাওয়া যায় না।

​স্থানীয় ব্যবসায়ী ও বাসিন্দারা জানান, রেললাইনের কাছেই একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও একটি উচ্চ বিদ্যালয় রয়েছে। ফলে শিক্ষার্থীদের নিয়মিত যাতায়াত এই বিপজ্জনক পথ দিয়েই। উপজেলার অন্যতম ব্যস্ততম ক্রসিং হওয়া সত্ত্বেও এখানে নিরাপত্তামূলক কোনো ব্যবস্থা না থাকায় চরম উদ্বিগ্ন অভিভাবক ও সচেতন মহল।

​সম্প্রতি সাতপোয়া ইউনিয়নের জামতলা এলাকার একটি অরক্ষিত ক্রসিংয়ে ট্রেনে কাটা পড়ে প্রাণ হারায় এক শিশুকন্যা। নিহত শিশুটির বাবা, যিনি পেশায় একজন শিক্ষক, আক্ষেপ প্রকাশ করে বলেন, “ক্রসিংয়ে যদি অন্তত একজন গেটম্যান থাকতেন, তবে হয়তো আমার মেয়ের জীবন এভাবে অকালে ঝরে যেত না।” তিনি অনতিবিলম্বে এসব ক্রসিংয়ে গেট ও জনবল দেওয়ার আহ্বান জানান।
​একই অবস্থা কান্দারপাড়া বাসস্ট্যান্ড এলাকার একাধিক অরক্ষিত ক্রসিংয়ের। সেখানেও প্রতিদিন বিপুল সংখ্যক মানুষ ঝুঁকি নিয়ে পারাপার হচ্ছেন। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, এসব গুরুত্বপূর্ণ স্থানে অবিলম্বে গেট নির্মাণসহ স্থায়ী গেটম্যান নিয়োগ দেওয়া জরুরি।

​এ বিষয়ে সরিষাবাড়ী রেলওয়ে স্টেশন কর্তৃপক্ষ জানায়, গুরুত্বপূর্ণ ক্রসিংগুলোতে গেট নির্মাণ ও জনবল নিয়োগের বিষয়ে ইতোমধ্যে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে চিঠি দিয়ে জানানো হয়েছে। সিদ্ধান্তটি সম্পূর্ণ কেন্দ্রীয়ভাবে নেওয়া হয় বলে জানায় স্থানীয় কর্তৃপক্ষ।

​সুশীল সমাজের মতে, কেবল সতর্কতামূলক সাইনবোর্ড টাঙিয়ে দিয়ে কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব শেষ হতে পারে না। ক্রমবর্ধমান দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি রোধে অরক্ষিত ক্রসিংগুলোতে দ্রুত ব্যারিয়ার স্থাপন এবং গেটম্যান নিয়োগ নিশ্চিত করা আবশ্যক।

Advertisement