জামালপুরের মাদারগঞ্জে উন্মুক্ত জলাশয়ে ঘের দিয়ে মাছ চাষের প্রস্তুতি নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে আব্দুলের ছেলে ইন্তেজ আলী (৪৬) নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। উপজেলা প্রশাসনের অনুমোদন ছাড়াই জলাশয়ের দুই পাশে জাল দিয়ে বাঁধ দেওয়ার অভিযোগ করেছেন স্থানীয় জমির মালিকেরা।
সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলার বালিজুড়ী ইউনিয়নের নাংলা বাঁধের মাথায় কাঠের সেতুর পূর্ব পাশে উন্মুক্ত জলাশয়ের দুই পাশে জাল দিয়ে ঘের তৈরির ব্যবস্থা করা হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, মাছ চাষের উদ্দেশ্যে জলাশয়টি ঘিরে ফেলা হচ্ছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জলাশয়ে ঘের দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হলে জমির মালিকেরা বাধা দেন। তবে তাঁদের বাধা উপেক্ষা করে ঘের দেওয়ার কাজ চালিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে ইন্তেজ আলীর বিরুদ্ধে। এ নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে আলোচনা-সমালোচনা চলছে।
জলাশয়সংলগ্ন জমির মালিক মোহাম্মদ আলী, রবিউল ও সামিউল বলেন, নাংলা বাঁধের মাথায় নদী বা উন্মুক্ত জলাশয়ের দুই পাশেই তাঁদের জমি রয়েছে। তাঁরা সেখানে চাষাবাদ করেন। দীর্ঘদিন ধরে জলাশয়টি সবার জন্য উন্মুক্ত ছিল। কৃষকেরা সেখানে ঘাস ধুয়ে নিতেন, গবাদিপশুকে গোসল করাতেন এবং স্থানীয় লোকজন মাছ ধরতেন।
তাঁদের অভিযোগ, প্রশাসনের অনুমোদন ছাড়াই ইন্তেজ আলী জলাশয়ের দুই পাশে জাল দিয়ে ঘের দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছেন। এতে সাধারণ মানুষের জলাশয় ব্যবহারে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হতে পারে। জলাশয়টি সবার জন্য উন্মুক্ত রাখতে তাঁরা প্রশাসনের হস্তক্ষেপ ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।
অভিযুক্ত ইন্তেজ আলী বলেন, তিনি ভূমি অফিসে গিয়েছিলেন, কিন্তু সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা সেখানে ছিলেন না। অফিসের লোকজন কর্মকর্তা আসার পর যোগাযোগ করতে বলেছেন।
অনুমোদন ছাড়াই জলাশয়ে ঘের দেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘অনুমতি নেব। অনুমতি না দিলে জাল ও খুঁটিসহ উঠিয়ে ফেলব। অনুমতি ছাড়াই কাজ করছি, তবে এটা আমার অন্যায় হয়েছে।’
এ বিষয়ে মাদারগঞ্জ উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. কামরুজ্জামান খান বলেন, নাংলা বাঁধের মাথায় কাঠের সেতুর পূর্ব পাশে উন্মুক্ত জলাশয়ে ঘের দিয়ে মাছ চাষের উদ্যোগ নেওয়া ঠিক নয়। এ জলাশয়ে সবাই মাছ ধরতে পারবেন। জলাশয় ঘিরে মাছ চাষের বিষয়ে মৎস্য কার্যালয় কিছু জানে না। তাঁর কার্যালয় থেকে কাউকে জলাশয়টি লিজ দেওয়া হয়নি। লিজ দেওয়ার বিষয়টি জেলা প্রশাসকের কার্যালয় ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের মাধ্যমে হয়ে থাকে।




