Skip to content
প্রকাশ- November 2, 2026 , 15:32 pm
মাদারগঞ্জ

তিন বছরেও ফেরেনি আমানত, মাদারগঞ্জে গ্রাহকদের উপজেলা পরিষদ ঘেরাও

তিন বছরেও ফেরেনি আমানত, মাদারগঞ্জে গ্রাহকদের উপজেলা পরিষদ ঘেরাও

তিন বছর ধরে আন্দোলন করেও আমানতের টাকা ফেরত না পাওয়ার অভিযোগে জামালপুরের মাদারগঞ্জে উপজেলা পরিষদ ঘেরাও করে বিক্ষোভ করেছেন বিভিন্ন সমবায় সমিতির ভুক্তভোগী গ্রাহকেরা। রোববার দুপুর ১২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত এ কর্মসূচি চলে। টাকা ফেরত না পাওয়া পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে উপজেলা পরিষদ ঘেরাও কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন আন্দোলনকারীরা।

‘আন্দোলনরত সকল বঞ্চিত গ্রাহক’ ব্যানারে আয়োজিত কর্মসূচিতে প্রায় দুই হাজার গ্রাহক অংশ নেন। দুপুরে মাদারগঞ্জ পৌরসভার গাবেরগ্রাম চৌরাস্তা থেকে অর্থ উদ্ধার আন্দোলনের নেতা শিবলুল বারী রাজুর নেতৃত্বে লাঠি হাতে বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি উপজেলা পরিষদ চত্বরে গিয়ে অবস্থান নেয়। পরে আন্দোলনকারীরা উপজেলা পরিষদ ঘেরাও করে বিক্ষোভ করতে থাকেন। এতে কিছু সময়ের জন্য উপজেলা পরিষদের স্বাভাবিক প্রশাসনিক কার্যক্রম ব্যাহত হয়।

Advertisement

জেলা সমবায় দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, মাদারগঞ্জের ২৩টি সমবায় সমিতিকে ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করা হয়েছে। এসব সমিতির গ্রাহকসংখ্যা ৩২ হাজার ৪২৪ জন। গ্রাহকদের অভিযোগ, এসব সমিতিতে তাঁদের প্রায় ৭২০ কোটি ১৯ হাজার ১৫০ টাকা আটকে আছে। ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহকদের মধ্যে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, কৃষক, প্রবাসী, দিনমজুর, পোশাকশ্রমিক ও চাকরিজীবীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ রয়েছেন।

আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষিত এসব সমবায় সমিতির অধিকাংশের পরিচালক আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী। পাশাপাশি জামায়াতের নেতাদেরও একাধিক সমবায় সমিতির সঙ্গে সম্পৃক্ততা রয়েছে বলে তাঁরা দাবি করেন। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সমবায় সমিতির পরিচালকদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

কর্মসূচি চলাকালে রকিবুল ইসলাম নামে এক গ্রাহক ও অর্থ উদ্ধার কমিটির এক নেতার সঙ্গে আন্দোলনকারীদের হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। পরে রকিবুল ইসলামকে উপজেলা পরিষদের একটি পরিত্যক্ত কক্ষে আটকে রাখেন আন্দোলনকারীরা বলে জানা গেছে।

এ বিষয়ে অর্থ উদ্ধার আন্দোলনের নেতা শিবলুল বারী রাজু বলেন, আন্দোলনের সময় রকিবুল ইসলাম বিক্ষুব্ধ গ্রাহকদের সামনে উসকানিমূলক ও আপত্তিকর মন্তব্য করেন। এতে উপস্থিত গ্রাহকেরা ক্ষুব্ধ হয়ে তাঁর ওপর চড়াও হন।

শিবলুল বারী রাজু বলেন, ‘প্রায় তিন বছর ধরে আমরা আন্দোলন করছি। এখনো সাধারণ গ্রাহকেরা তাঁদের আমানতের টাকা ফেরত পাননি। গ্রাহকেরা টাকা হাতে না পাওয়া পর্যন্ত এ আন্দোলন চলবে। প্রয়োজনে অনির্দিষ্টকালের জন্য উপজেলা পরিষদ ঘেরাও কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়া হবে।’

সংসদ সদস্যের দেওয়া প্রতিশ্রুতির বিষয়ে তিনি বলেন, ‘সাধারণ গ্রাহকেরা ওই প্রতিশ্রুতি মেনে নেননি। ওই প্রতিশ্রুতি ভুক্তভোগীদের স্বার্থের পরিবর্তে সমবায়গুলোর মালিকপক্ষের স্বার্থ রক্ষা করবে।’

মাদারগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) স্নেহাশীষ রায় বলেন, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ঘটনাস্থলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ছয়জন সদস্য দায়িত্ব পালন করছেন।

মাদারগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সুমন চৌধুরী বলেন, ‘এ বিষয়ে সংসদ সদস্য মহোদয় ও অর্থ উদ্ধার কমিটির সঙ্গে কথা হয়েছিল। তাঁরা আন্দোলন করবেন না বলে জানিয়েছিলেন। এখন কী কারণে আবার আন্দোলন করছেন, সে বিষয়ে আমি অবগত নই।’

তিনি বর্তমানে জেলা পর্যায়ের একটি সভায় রয়েছেন বলেও জানান।

Advertisement