জামালপুরের মাদারগঞ্জে পল্লী বিদ্যুতের ট্রান্সফরমারের তামার কয়েল চুরির অভিযোগে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতাসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সোমবার রাতে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়। মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরে আদালতের মাধ্যমে তাঁদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন রবিনুর ইসলাম (২৮), সেলিম (৩২), সুমন (২৮), সুমন ওরফে নুরু মিয়া (২৮) ও রাসেল মিয়া (২২)। তাঁদের মধ্যে রাসেল মিয়া মাদারগঞ্জ পৌরসভার ৩ নং ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক।
পুলিশ জানায়, গত দুই মাসে মাদারগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় ২৬টির বেশি ট্রান্সফরমার চুরির ঘটনা ঘটেছে। লোডশেডিংয়ের সময় রাতের অন্ধকারে ট্রান্সফরমারের ভেতর থেকে তামার কয়েল খুলে নেওয়া হতো বলে তদন্তে তথ্য পাওয়া গেছে। এসব ঘটনায় বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যাহত হয়ে গ্রাহক ও কৃষকেরা ভোগান্তিতে পড়েন।
পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষের অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্তে নেমে পুলিশ চক্রটির সদস্যদের শনাক্ত করে। অভিযানে তাঁদের কাছ থেকে চুরির কাজে ব্যবহৃত বিভিন্ন সরঞ্জাম জব্দ করা হয়।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৯ আগস্ট রাতে মাদারগঞ্জ পৌরসভার গাবেরগ্রাম এলাকায় একটি ১৫ কেভিএ ট্রান্সফরমারের তামার কয়েল চুরি হয়। চুরি যাওয়া কয়েলের আনুমানিক মূল্য ১ লাখ ৭ হাজার টাকা। এ ঘটনায় ৯ সেপ্টেম্বর মাদারগঞ্জ মডেল থানায় দণ্ডবিধির ৩৭৯/৩৪ ধারায় মামলা হয়।
পুলিশ আরও জানায়, গ্রেপ্তার রবিনুর ইসলাম আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। চক্রটির মূল হোতাদের শনাক্ত ও অন্য সদস্যদের গ্রেপ্তারে তদন্ত চলছে।
মাদারগঞ্জ পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, ব্যক্তির অপকর্মের দায় সংগঠন নেবে না। অপরাধ প্রমাণিত হলে তাঁর বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মাদারগঞ্জ মডেল থানার ওসি স্নেহাশীষ রায় বলেন, ‘আসামিদের কাছ থেকে চুরির সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে। চক্রটির মূল হোতাদের খুঁজে বের করতে সাত দিনের রিমান্ডের আবেদন করা হয়েছে। জড়িত সবাইকে আইনের আওতায় আনা হবে।’




