Skip to content
প্রকাশ- November 3, 2026 , 0:31 am
জামালপুর

বকশীগঞ্জে গরুর খাদ্য সংকট, খাওয়ানো হচ্ছে কচুরিপানা

বকশীগঞ্জে গরুর খাদ্য সংকট, খাওয়ানো হচ্ছে কচুরিপানা

বকশীগঞ্জ( জামালপুর) প্রতিনিধি||

জামালপুরের বকশীগঞ্জ উপজেলায় গরুর খাদ্য নিয়ে ভয়াবহ সংকট দেখা দিয়েছে। দানাদার খাদ্যের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়া এবং বোরো মৌসুমে অতিরিক্ত বৃষ্টির কারণে কৃষকরা পর্যাপ্ত খড় শুকাতে পারেননি।

Advertisement

ফলে বর্তমানে খড়ের দাম স্বাভাবিকের তুলনায় প্রায় তিন গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। এ অবস্থায় কৃষকরা বাধ্য হয়ে গবাদিপশুকে খাওয়াচ্ছেন ক্ষতিকর কচুরিপানা।

স্থানীয়ভাবে জানা যায়, আঠারো শতকের শেষ দিকে এক ব্রাজিলিয়ান পর্যটকের মাধ্যমে কচুরিপানা বাংলাদেশে আসে। বর্তমানে দেশের প্রায় সর্বত্রই এটি অনিয়ন্ত্রিতভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। সংকটকালীন প্রান্তিক খামারিরা গবাদিপশুর বিকল্প খাদ্য হিসেবে কচুরিপানা ব্যবহার করে থাকেন। তবে এতে সীমিত পুষ্টিগুণ থাকলেও রয়েছে বহু ক্ষতিকর উপাদান।

বিশেষজ্ঞদের মতে, কচুরিপানার ড্রাই ম্যাটারের পরিমাণ মাত্র ৫.৬% এবং ক্রুড প্রোটিন ১৫.১৯%।

এতে ২১-২৪% ফাইবার থাকলেও রয়েছে নানা ক্ষতিকর উপাদান। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো ক্যালসিয়াম অক্সালেট (০.৮১-১.২%), সীসা (৯০-১৪৬ মি.গ্রা./প্রতি কেজি ড্রাই ম্যাটার), পারদ (০.৪-০.৫ মি.গ্রা./কেজি) এবং আর্সেনিক।

প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তারা জানান, অতিরিক্ত কচুরিপানা খাওয়ালে গরুর স্বাস্থ্যের মারাত্মক ক্ষতি হতে পারে।

যেমন- গরুর খাওয়ার রুচি কমে যাওয়া, কলিজা কৃমি আক্রান্ত হওয়া, দুধ উৎপাদন হ্রাস পাওয়া, গাভী ধীরে ধীরে শুকিয়ে যাওয়া ইত্যাদি।

তবে সঠিক প্রক্রিয়াজাতকরণের মাধ্যমে সীমিত পরিমাণ কচুরিপানা খাওয়ানো সম্ভব।

যেমন- কচুরিপানা ভালোভাবে রোদে শুকানো, গো-খাদ্যের সঙ্গে মিশিয়ে অল্পমাত্রায় ব্যবহার করা বা সাইলেজ প্রক্রিয়ায় সংরক্ষণ করা হলে কিছুটা উপকার পাওয়া যেতে পারে। কচুরিপানায় পটাশিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম ও কিছু ভিটামিন থাকায় অল্প পরিমাণে এটি খাওয়ালে উপকারও পাওয়া সম্ভব।

এ বিষয়ে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা বলেন, বর্তমানে গরুর খাদ্য সংকট সত্যিই ভয়াবহ। আমরা কৃষকদের পরামর্শ দিচ্ছি যেন গবাদিপশুকে অতিরিক্ত কচুরিপানা না খাওয়ান। সঠিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করে সীমিত পরিমাণ ব্যবহার করলে সমস্যা হবে না।

বকশীগঞ্জ উপজেলার বাট্টাজোড় ইউনিয়নের বীরগাঁও মাদ্রাসাবাড়ী গ্রামের কৃষক আব্দুর রহিম জানান, খড়ের দাম এতটাই বেড়ে গেছে যে তা তাদের সাধ্যের বাইরে চলে গেছে।

কৃষক শফিকুল ইসলাম বলেন, গত বছর যে খড়ের গাদা ৪-৫ হাজার টাকায় কিনেছি, এ বছর সেটির দাম প্রায় ১২-১৩ হাজার টাকা। তাই বাধ্য হয়ে গরুকে কচুরিপানা খাওয়াচ্ছি।

আরেকজন কৃষক মনির জানান, আমরা জানি কচুরিপানা ক্ষতিকর, কিন্তু আর কোনো উপায় নেই। খড় বা দানাদার খাদ্য কিনে খাওয়ানো আমাদের পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না।

কৃষক ও বিশেষজ্ঞদের অভিমত, জরুরি ভিত্তিতে সরকারি উদ্যোগে গোখাদ্যের বিকল্প ব্যবস্থা না নিলে এ সংকটে অনেক খামারি বড় ধরনের ক্ষতির সম্মুখীন হবেন।

Advertisement