জামালপুর সদর উপজেলার দাপুনিয়া এলাকায় গ্রাম্য সালিসে দাবিকৃত ৫০ হাজার টাকা না পেয়ে মাইকিং করে ৭ পরিবারকে সমাজচ্যুত করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা শনিবার (১৪ জুন) জামালপুর সদর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করেছেন।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জামালপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু ফয়সল মো. আতিক।
ঘটনাটি ঘটেছে গত শুক্রবার (১৩ জুন) রাত ১১টার দিকে। স্থানীয়ভাবে মাইকিং করে এসব পরিবারের নাম উল্লেখ করে তাদের সমাজচ্যুত করার ঘোষণা দেওয়া হয়।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার দাপুনিয়া এলাকার মো. মন্টু মিয়া (৪২) ও আহাম্মদ আলীর ছেলে মো. মুনছুর মিয়া (৪৫) বিদ্যুৎ সংযোগ নিয়ে কথা কাটাকাটিতে জড়িয়ে পড়েন। এর জের ধরে শুক্রবার জুমার নামাজের পর উভয়পক্ষের মধ্যে মারামারির ঘটনা ঘটে।
পরে রাত ৮টার দিকে স্থানীয় বকুলতলা মোড়ে একটি গ্রাম্য সালিসের আয়োজন করা হয়। সালিসে উপস্থিত শামিম আহমেদ, আমিনুল ইসলামসহ কয়েকজন মুনছুর মিয়ার কাছে বিষয়টি মীমাংসার জন্য ৫০ হাজার টাকা দাবি করেন। টাকা না দেওয়ায় মুনছুর মিয়াসহ তার আত্মীয়দের ৭ পরিবারকে সমাজচ্যুত করার হুমকি দেওয়া হয়।
রাত ১১টার দিকে এলাকায় মাইকিং করে ওই ৭ পরিবারের নাম ঘোষণা করে বলা হয়, কেউ যদি তাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখে, তাকেও সমাজচ্যুত করা হবে। এমনকি মসজিদ, দোকান, স্কুল বা রাস্তায় তাদের দেখা গেলে ঘরবাড়ি আগুনে পুড়িয়ে দেওয়া হবে বলেও হুমকি দেওয়া হয়।
ভুক্তভোগী ইসমাইল মৌলবীর ছেলে মৌকির হোসেন বলেন, “মন্টু মিয়ার সঙ্গে মুনছুর মিয়ার ঝামেলা হয়েছিল। আমরা শুধু আত্মীয় হওয়ায় আমাদেরও সমাজচ্যুত করা হয়েছে। এখন ভয়েই কোথাও যেতে পারছি না।”
আরেক ভুক্তভোগী জহুরুল ইসলাম আনন্দ বলেন, “মাইকিংয়ের পর দোকানদাররা আমাদের কাছে কিছু বিক্রি করছে না। ছোট বাচ্চারাও দোকানে গিয়ে কিছু কিনতে পারছে না। এখনো নানা ধরনের হুমকি আসছে।”
অভিযোগকারী ইসমাইল মৌলবী বলেন, “টাকা না দেওয়ায় আমাদের মাইকিং করে সমাজচ্যুত করেছে। মাইকিংয়ে বলা হয়, আমরা যদি মসজিদ, বাজার বা রাস্তায় চলাফেরা করি, আমাদের ও আমাদের বাড়িঘর আগুনে পুড়িয়ে দেওয়া হবে।”
অভিযুক্তদের মন্তব্য নেওয়ার জন্য একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তারা সাড়া দেননি।
এ বিষয়ে জামালপুর সদর থানার ওসি আবু ফয়সল মো. আতিক বলেন, “অভিযোগ পাওয়ার পরপরই এলাকায় পুলিশ পাঠানো হয়েছে। উভয় পক্ষই একই এলাকার। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”




