Skip to content
প্রকাশ- November 3, 2026 , 0:01 am
জামালপুর

মেলান্দহে বিসিআইসি সার ডিলারের বিরুদ্ধে কালোবাজারির অভিযোগ, কৃষকদের মধ্যে ক্ষোভ

মেলান্দহে বিসিআইসি সার ডিলারের বিরুদ্ধে কালোবাজারির অভিযোগ, কৃষকদের মধ্যে ক্ষোভ

সাজ্জাদ হোসাইন শাহিন – স্টাফ রিপোর্টার:

জামালপুরের মেলান্দহ উপজেলার কুলিয়া ইউনিয়নে বিসিআইসি সার ডিলার মেসার্স কৃষিমন্ত্র মেশিনারীজের বিরুদ্ধে কালোবাজারিতে চলতি মৌসুমের ১ম ধাপের সার বিক্রি, কৃষকদের সার না দেওয়া এবং কৃত্রিম সংকট তৈরির অভিযোগ উঠেছে। এছাড়া দোকানে সাইনবোর্ড না থাকা, নিয়মিত দোকান খোলা না রাখা এবং নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে সার বিক্রির গুঞ্জনও রয়েছে।

Advertisement

সরেজমিনে কুলিয়া ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে এসব অভিযোগের কথা জানা গেছে। তবে অভিযোগগুলোর বিষয়ে ডিলারের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

তারাকান্দি এলাকার কৃষক খায়রুল বলেন, তাঁর ৭-৮ বিঘা জমি রয়েছে। এখনও সব জমিতে ধান লাগানো শেষ হয়নি, তাই তিনি এখনো সার নেননি। একই এলাকার কৃষক সুলতান বলেন, তাঁর প্রায় ১৫ বিঘা জমি রয়েছে। ধান লাগানো শুরু করেছেন, তবে এখনো সার নেননি।

কৃষক আব্দুর রহমান জানান, তাঁর প্রায় ২ একর জমি রয়েছে। অর্ধেক জমিতে ধান লাগানো হলেও প্রয়োজনীয় সার পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ করেন তিনি।

ভালুকা এলাকার বাসিন্দা নাজিম উদ্দিন বলেন, তাঁর প্রায় ৮ বিঘা আবাদি জমি রয়েছে। তিনি এখনো কোনো সার পাননি। তাঁর অভিযোগ, ‘বিএস’ পর্যায়ে দায়িত্বশীলরা তাঁদের চেনেন না।চিনিতোলা এলাকার কৃষক তোতা বলেন, তাঁর প্রায় ৪ বিঘা জমি রয়েছে। কিন্তু এখনো সার পাননি। তাঁর অভিযোগ, সার পেতে নেতাদের পেছনে ঘুরতে হয় এবং প্রভাবশালীদের আগে সার দেওয়া হয়।

আরেক কৃষক আমজাদ জানান, তাঁর ৩ বিঘা জমি রয়েছে। তিনিও এখনো সার পাননি।
অন্যদিকে, ভালুকা এলাকার কৃষক আব্দুর রহমান বলেন, তাঁর ১ বিঘা জমি রয়েছে। এখনো ধান লাগাননি, তাই সারও নেননি। প্রয়োজন হলে তিনি সার কিনবেন বলে জানান।

স্থানীয় এক ব্যক্তি নাম প্রকাশ না করার শর্তে অভিযোগ করেন, ‘মোসা’ নামে এক ব্যবসায়ী দুই অটো করে সার কিনে নিয়ে যান। তাঁর দাবি, একজন কৃষক ডিলারের কাছ থেকে ১ বস্তা সার কিনতে না পারলেও দোকানদার বা পাইকাররা ২০ বস্তা পর্যন্ত সার নিয়ে যাচ্ছেন।

স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, ডিলারের দোকানে নিয়মিত সার পাওয়া না যাওয়ায় কৃষকদের মধ্যে এক ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। কেউ কেউ অভিযোগ করছেন, সাধারণ কৃষকদের সার না দিয়ে প্রভাবশালী ব্যক্তি ও পাইকারদের কাছে বেশি পরিমাণে সার সরবরাহ করা হচ্ছে।

এদিকে, ডিলারের দোকানে কোনো সাইনবোর্ড না থাকার বিষয়টিও স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্নের সৃষ্টি করেছে। দোকানটি নিয়মিত খোলা থাকে না বলেও অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় কৃষকরা। একই সঙ্গে ইউনিয়নের বরাদ্দকৃত সার, ডিলারের মজুত, বিক্রির রেজিস্টার এবং কৃষকদের কাছে বিতরণের হিসাব তদন্তের দাবি উঠেছে।

তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মেসার্স কৃষিমন্ত্র মেশিনারীজের সত্বাধীকারি আবু সাঈদ এর মুঠোফোনে একাধিকার যোগাযোগ করে বক্তব্য পাওয়া  যায়নি।

কৃষি কর্মকর্তা আব্দুর রউফ বলেন, সার্বক্ষণিকভাবে সার বিক্রয় কার্যক্রম নজরদারিতে রাখা হয়। কৃষক ছাড়া অন্য কারও সার নেওয়ার সুযোগ নেই। প্রতিটি ডিলারের দোকানে বাধ্যতামূলকভাবে সাইনবোর্ড ও নির্ধারিত মূল্য তালিকা টানাতে হবে। নিয়মের কোনো ব্যত্যয় ঘটলে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে জরিমানা করার বিধান রয়েছে।

Advertisement