সাইদুর রহমান, জামালপুর শহর প্রতিনিধি
গত ৫ অক্টোবর, রবিবার বিকাল ৩টায় জামালপুর উইজডম সেন্ট্রাল কলেজ মিলনায়তনে বিশ্ব শিক্ষক দিবস উপলক্ষে এক শিক্ষক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে বাংলাদেশ আদর্শ শিক্ষক ফেডারেশন, জামালপুর শহর শাখা।
অনুষ্ঠানটি পবিত্র কুরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে শুরু হয়। কুরআন তেলাওয়াত করেন মাওলানা ফরহাদ রেজা। এরপর উদ্বোধনী বক্তব্য প্রদান করেন জিল্লুর রহমান, সভাপতি, বাংলাদেশ আদর্শ শিক্ষক ফেডারেশন, জামালপুর শহর শাখা। তিনি বলেন, “১৯৯৪ সাল থেকে ইউনেস্কো বিশ্ব শিক্ষক দিবস পালনের সিদ্ধান্ত নেয়। শিক্ষা ও গবেষণার মানোন্নয়নে এই দিবসটি বিশ্বব্যাপী পালন করা হচ্ছে। তারই অংশ হিসেবে আজকের এ সমাবেশের আয়োজন করা হয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, “শিক্ষকরা যতটুকু সম্মান পেয়েছেন, ততটাই অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়েছেন। তারা পদোন্নতি থেকেও বঞ্চিত রয়েছেন।” তাই তিনি সব শিক্ষককে আহ্বান জানান, যেন তারা একতাবদ্ধ হয়ে বাংলাদেশ আদর্শ শিক্ষক ফেডারেশনের মাধ্যমে সরকারের কাছে যৌক্তিক দাবি উপস্থাপন করেন।
অনুষ্ঠানের সঞ্চালনায় ছিলেন জগলুল পাশা, প্রভাষক, বাংলা বিভাগ, মাদারগঞ্জ আব্দুল আলী মির্জা কাশেম কামিল মাদরাসা।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন:
মাহমুদুল্লাহ, প্রভাষক, আরবি, কামালখান হাট কামিল মাদরাসা
জালালউদ্দিন, সভাপতি, কলেজ শিক্ষক পরিষদ
মো. আব্দুল কুদ্দুস, সভাপতি, মাধ্যমিক শিক্ষক পরিষদ
জিয়াউল কবীর, অধ্যক্ষ, উইজডম সেন্ট্রাল স্কুল অ্যান্ড কলেজ
আল ইমরান সুজন, উপদেষ্টা, শিক্ষক ফেডারেশন, জামালপুর শহর শাখা
সুলতান মাহমুদ, অধ্যক্ষ, জামালপুর রেসিডেনসিয়াল মডেল কলেজ
প্রফেসর মোহাম্মদ খাজা জিয়াউল হক, ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ, সরকারি আশেক মাহমুদ কলেজ
প্রফেসর এ.বি.এম. জুলফিকার আলী, সাবেক বিভাগীয় প্রধান, ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগ, সরকারি আশেক মাহমুদ কলেজ
প্রফেসর মনিরুজ্জামান মনির, অধ্যক্ষ, চৌমুহনী সরকারি কলেজ
এডভোকেট আব্দুল আওয়াল, সিনিয়র সহ-সভাপতি, জামালপুর আইনজীবী সমিতি
প্রধান বক্তা ছিলেন প্রফেসর মোজাম্মেল হক, সাবেক অধ্যক্ষ, সরকারি আশেক মাহমুদ কলেজ, জামালপুর। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মাওলানা আব্দুস সাত্তার, প্রধান উপদেষ্টা, বাংলাদেশ আদর্শ শিক্ষক ফেডারেশন, জামালপুর জেলা।
মাওলানা আব্দুস সাত্তার বলেন, “শিক্ষকতা মূলত নবী আনা কাজ। রাসুল (সা.)-কে পাঠানো হয়েছিল একজন শিক্ষক হিসেবে। তিনি যেমন সমাজ ও রাষ্ট্রে পরিবর্তন এনেছেন, তেমনি আমাদেরকেও তাঁর পথ অনুসরণ করে শিক্ষকতা পেশার মাধ্যমে সমাজ পরিবর্তনে ভূমিকা রাখতে হবে। বর্তমান সরকার বিভিন্ন খাতে পরিবর্তন আনলেও শিক্ষাক্ষেত্রে এখনও কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন ঘটেনি। তাই সকল শিক্ষককে একত্রিত হয়ে যৌক্তিক দাবি পেশ করতে হবে।”
প্রফেসর খাজা জিয়াউল হক বলেন, “আমরা শিক্ষক হিসেবে আমাদের প্রাপ্য অধিকার থেকে বঞ্চিত। কুরআন ও হাদীসের শিক্ষা থেকে দূরে গিয়ে নাস্তিক্যবাদী ও পুঁজিবাদী শিক্ষাব্যবস্থা দিয়ে সমাজে সুস্থ পরিবর্তন আনা সম্ভব নয়। ইসলামী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা হলে শিক্ষকের ন্যায্য অধিকারসহ সকল বঞ্চিত মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা পাবে।”
এডভোকেট আব্দুল আওয়াল বলেন, “আজ থেকে চির উন্নত হল শিক্ষা গুরুর শির।” তিনি শিক্ষার সাথে নৈতিকতার গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, “নৈতিকতা ও মূল্যবোধ না থাকলে সমাজে বিপর্যয় নেমে আসে। আমীরে জামায়াত বলেছেন, দায়িত্ব পেলে আমরা শিক্ষাব্যবস্থাকে নতুনভাবে সাজাবো।”
সুলতান মাহমুদ বলেন, “পৃথিবীতে যত পেশা আছে, তার মধ্যে শিক্ষকতা সবচেয়ে মর্যাদাবান। কিন্তু আজ শিক্ষককেই তার দাবি আদায়ের জন্য রাস্তায় নামতে হচ্ছে। অথচ রাষ্ট্রযন্ত্রের চালকরাও কোনো না কোনো সময় শিক্ষকের কাছেই শিক্ষা লাভ করেছেন। তাই শিক্ষকরা যেন সরকারকে তাদের ন্যায্য দাবি জানাতে পারেন, সে বিষয়ে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।”
আল ইমরান সুজন বলেন, “শিক্ষকই দেশ ও জাতি গড়ার কারিগর। শিক্ষকের মান উন্নয়নের মধ্য দিয়েই ভবিষ্যতের নেতৃত্ব তৈরি হবে। আমরা এমন একটি সমাজ চাই যেখানে কারো অধিকারের জন্য আন্দোলনে নামতে হবে না; রাষ্ট্র নিজেই তার নাগরিকদের অধিকার ফিরিয়ে দেবে।”
জিয়াউল কবীর বলেন, “স্বাধীনতার ৫৪ বছর পার হলেও শিক্ষকরা এখনও তাদের ন্যায্য অধিকার ফিরে পাননি। তারা সবসময় বঞ্চিত, অবহেলিত এবং বৈষম্যের শিকার। তাই শিক্ষকদের সঠিক অধিকার আদায়ে সোচ্চার হতে হবে এবং ন্যায় ও ইনসাফভিত্তিক রাষ্ট্র গঠনের লক্ষ্যে এগিয়ে আসতে হবে।”
অনুষ্ঠানে অন্যান্য বক্তারাও বলেন, “আমরা শিক্ষকরা আজ বঞ্চিত। আমাদের ন্যায্য অধিকার আদায়ের জন্য মাঠে নামতে হয়। বিশেষ করে মৌলিক চাহিদা যেমন বেতন, বাসাভাড়া, চিকিৎসার ক্ষেত্রে বড় ধরনের বৈষম্য রয়েছে—যা দূর করতে হবে।”
শেষে দোয়ার মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।




