শেরপুর পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের ক্রাফট ইন্সট্রাক্টর মোহাম্মদ ইব্রাহিম (ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার) মৃত্যুবরণ করেছেন। জানা গেছে, গত ১২ আগস্ট প্রতিষ্ঠানটির কতিপয় শিক্ষক, প্রিন্সিপাল ও ভাইস প্রিন্সিপালের প্ররোচণায় ছাত্রদের দ্বারা তিনি হেনস্তার শিকার হন। এ ঘটনার মানসিক আঘাত ও নির্যাতনের ফলে তিনি হার্ট অ্যাটাক করেন এবং ১৮ আগস্ট মারা যান।
এদিকে, একই প্রতিষ্ঠানের আরেক ক্রাফট ইন্সট্রাক্টর সোহাগ মিয়াও দীর্ঘদিন ধরে বেতন-ভাতা বঞ্চনা, মানসিক নির্যাতন এবং হত্যার হুমকির শিকার হচ্ছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। ঘটনার দিন তিনিও অসুস্থ হয়ে বর্তমানে শেরপুর সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
ভুক্তভোগী শিক্ষকরা (ক্রাফট ইন্সট্রাক্টর) অভিযোগ করে জানান, শুধু ইব্রাহিম বা সোহাগ মিয়া নন—ময়মনসিংহ ও শেরপুর পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে কর্মরত সকল ক্রাফট ইন্সট্রাক্টরই দীর্ঘদিন ধরে নানা রকম মানসিক নির্যাতন, হুমকি এবং বেতন বঞ্চনার শিকার হচ্ছেন। তাদের মতে, এটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয় বরং একটি পরিকল্পিত নির্যাতনের ধারাবাহিকতা।
তাদের সমাজের দাবি, ইব্রাহিমের মৃত্যু স্বাভাবিক নয়; এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। কারণ, সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষ দীর্ঘদিন ধরে বেতন আটকে রেখেছে, অযথা হেয় প্রতিপন্ন করেছে এবং নানা হুমকি প্রদান করেছে।
এ ঘটনায় ক্রাফট ইন্সট্রাক্টর সমাজ গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তারা জানিয়েছেন, দ্রুত দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে সারা দেশের ক্রাফট ইন্সট্রাক্টররা বাদী হয়ে মামলা দায়ের করতে বাধ্য হবেন।
ভুক্তভোগীরা আরও প্রশ্ন তুলেছেন- ক্রাফট ইন্সট্রাক্টররা বিএসসি অনার্স ও ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার হয়েও যদি ন্যায্য অধিকার, সম্মান ও প্রাপ্য বেতন থেকে বঞ্চিত হতে হয়, তবে এই বৈষম্য ও অপমানের কারণ কী?
তারা সরকারের কাছে অবিলম্বে সুষ্ঠু তদন্ত, দোষীদের শাস্তি এবং ক্রাফট ইন্সট্রাক্টরদের ন্যায্য বেতন-ভাতা ও অধিকার নিশ্চিত করার জোর দাবি জানিয়েছেন।




