বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স বলেছেন, নির্বাচন ছাড়া গণ-অভ্যুত্থানের শহীদদের স্বপ্ন বাস্তবায়ন সম্ভব নয়। শহীদদের রক্ত বৃথা যেতে দেয়া হবে না। গণ-অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়ন করে বৈষম্যহীন বঞ্চনামুক্ত রাষ্ট্র গঠন করা হবে।
বৃহস্পতিবার (২৪ জুলাই) বিকেলে ময়মনসিংহের ধোবাউড়া উপজেলার ঘোষগাঁও বাজারে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের শহীদ মোহাম্মদ শাজাহানের প্রথম শাহাদৎ বার্ষিকী উপলক্ষে উপজেলা যুবদল আয়োজিত স্মরণ সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স বলেন ,জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের ঐক্যকে অটুট ও অক্ষুণ্ণ রেখে গণ-অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নের পথ মসৃণ করতে হবে। গণ-অভ্যুত্থানের শক্তিগুলোতে বিভক্তি, অনৈক্য থাকলে শহীদদের আত্মা কষ্ট পাবে।
তিনি বলেন, বিভিন্ন নন ইস্যুকে ইস্যু বানাতে সমাজে অস্থিরতা ও বিশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সৃষ্টি করে নির্বাচন বিলম্ব করার যড়যন্ত্র চলছে। ইসলামী আন্দোলন ও এনসিপি প্রার্থী ছাড়া শুধু মার্কা দিয়ে পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচনের দাবিতে শোরগোল তুললেও নিজেরা ঠিকই আগামী নির্বাচনের জন্য ৩০০ আসনে প্রার্থী ঘোষণা করে মাঠে ভোট চাইছে। এটা তাদের ভণ্ডামি রাজনীতির বহিঃপ্রকাশ।
বিএনপির এ যুগ্ম মহাসচিব বলেন, জনগণ যাতে হতাশ ও ক্ষুব্ধ না হয়, সেজন্য আমাদের সবাইকে সচেষ্ট থাকতে হবে। অভ্যুত্থানের শক্তির মধ্যে অনৈক্য ও বিভেদের সুযোগে ফ্যাসিবাদী শক্তি মাথাচারা দিয়ে উঠতে চাইছে। গত কয়েক দিনের ঘটনা তাই প্রমাণ করে। ফ্যাসিবাদী শক্তির উত্থানের বিরুদ্ধে সবাইকে সজাগ থাকতে হবে। ফ্যাসিবাদের প্রশ্নে কোনো ছাড় নয়। আওয়ামী ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ লড়াই অব্যাহত থাকবে।
প্রিন্স বলেন, শহীদদের বুকে ধারণ করে বিএনপি। জনগণের রায় নিয়ে ক্ষমতায় আসলে বিএনপি সব শহীদকে বীরের মর্যাদা দেবে, তাদের এলাকার সংশ্লিষ্ট রাস্তা বা প্রতিষ্ঠানের নাম শহীদদের নামে নামকরণ করা হবে। আহতদের যথাযথ পুনর্বাসন ও সুচিকিৎসা দেয়া হবে।
এর আগে এমরান সালেহ প্রিন্সসহ বিএনপি ও যুবদলের নেতাকর্মীরা কালো ব্যাজ ধারণ করে কালো পতাকা নিয়ে মৌন মিছিল সহকারে ঘোষগাঁওয়ের জরিপা পাড়া গ্রামে শহীদ শাহজাহানের কবর জিয়ারত করেন এবং পুস্পস্তবক অর্পণ করেন। তিনি শহীদের মা, খালাসহ অন্যান্য আত্মিয় পরিজনের সঙ্গে তাদের বাড়িতে সাক্ষাৎ করে সমবেদনা জানান ও খোঁজখবর নেন।




