নয়ন আসাদ ।।
দমবন্ধ এক সময়ে!
একদা জুলাই এসেছিল,
দিয়ে গেছে বুক ভরে নিঃশ্বাস নেওয়ার সাহস!
কি দমবন্ধ এক সময়!
ক্রসফায়ারের মুখোমুখি বাবা, মেয়েকে মিথ্যা সান্তনা দিতে ধরে আসা কন্ঠ শুনে বলছে, আব্বু, তুমি কানতেছ যে…?
ক্রসফায়ারের শিকার ছেলের লাশ নিতে এসে আর্তনাদ করছিলেন ছাত্রদল নেতা নুরুজ্জামান জনির মা। বলছিলেন, আমাদেরও মেরে ফেলেন। বলছিলেন, আল্লাহ ওদের বিচার করবে।’ রনির সন্তান তখনো পৃথিবীতে আসেনি, এসে সে তার বাবাকে দেখতে পায়নি। একটু বড় হয়ে তার জিজ্ঞাসা ছিল বাবার নামের আগে মরহুম লেখা হয় কেন?
বিএনপি নেতা ইলিয়াস আলী, শিবির নেতা মোসাদ্দেকরা আর কখনো ফেরেনি। না লাশ হয়ে না জীবিত। তাদের মায়েদের অভিশাপ আরশে পৌঁছাবে না এমনটাই কি ভেবেছিল ওরা?
চোখ বন্ধ করি,
নির্বাচনের দিনগুলোতে চলে যাই,
২০১৪, ২০১৮, ২০২৪
দেখি ভোটকেন্দ্রের সামনে দাঁড়িয়ে থাকা মুখগুলো।
মুখগুলো ওমন বীভৎস কেন লাগে?
বুক ফুলিয়ে ভোট চুরির উল্লাস করা ওগুলো কি মানুষের মুখ ছিল?
ওরা কি নিজেদের মানুষই মনে করত?
তারপর এল জুলাই।
কেউ কি জানত, এই জুলাই শিকল ভাঙবে?
রাজপথে নেমে আসবে লাখো লাখো আবাবীল?
কিসের টানে এল ওরা?
খোদা পাঠিয়েছিলেন তাই?
খোদা একদিন একদল ছোট্ট পাখি পাঠিয়েছিলেন অত্যাচারী হাতি বাহিনীর বিরুদ্ধে। ওয়া আরসালা আলাইহিম তাইরান আবাবিল। এই দেশের পীচঢালা রাজপথেও খোদা যেন পাঠালেন কিছু আবাবিল!
খুনি অবাক হয়ে দেখে, একটা করে গুলি খায় একটাই মরে, একটাই যায়, বাকিডি যায় না!
সেই জুলাইয়ে,
বাবা সন্তানের লাশ কাঁধে নিয়েছিলেন।
বোন ভায়ের লাশ কাঁধে নিয়েছিলেন।
মা মেয়ের লাশ কাঁদে নিয়েছিলেন।
চারদিকে রক্ত,
বুলেট,
টিয়ারশেল,
গুলি,
স্নাইপার,
সাউন্ড গ্রেনেড,
হেলিকপ্টার,
আক্রোশ!
কত নাম ইতিহাসে লেখা থাকবে?
কতদিন লেখা থাকবে?
আমি জানি না।
তবে আমি জানি,
অন্যায়ের দিন একদিন শেষ হয়।
জালিমের দিন একদিন শেষ হয়।




