Skip to content
প্রকাশ- November 2, 2026 , 15:16 pm
মুক্তদেশ

জানুয়ারির শেষ দিকে চালু হচ্ছে যমুনা রেলসেতু

জানুয়ারির শেষ দিকে চালু হচ্ছে যমুনা রেলসেতু

যমুনা নদীর ওপর নির্মিত দেশের প্রথম ডাবল লাইন ডুয়েল গেজ রেলওয়ে সেতুটি ২০২৫ সালের জানুয়ারির শেষের দিকে চালু হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব রেলওয়ে সেতু প্রকল্প’-এর পরিচালক আল ফাত্তাহ মো. মাসুদুর রহমান জানিয়েছেন, সেতুর মূল নির্মাণ কাজ ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে এবং সার্বিক অগ্রগতি ৯৮ শতাংশের বেশি। সেতুটির দৈর্ঘ্য ৪.৮ কিলোমিটার, যা পূর্ব রেলস্টেশন থেকে পশ্চিম রেলস্টেশনের ১৩ কিলোমিটার দূরত্ব পর্যন্ত বিস্তৃত।

Advertisement

তিনি আরও জানান, সেতুটিতে পরীক্ষামূলক ট্রেন চলাচল ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। বাণিজ্যিক কার্যক্রম শুরু করার জন্য সব প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে, যা ২০২৫ সালের জানুয়ারির শেষ বা ফেব্রুয়ারির প্রথম দিকে শুরু হবে। সেতুর প্যারামিটার পরিমাপ এবং স্ট্যাটিক লোড পরীক্ষাসহ সব ধরনের পরীক্ষা সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে।

প্রকল্পের বিবরণ:
১৬ হাজার ৭৮০.৯৫ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই সেতুটি দেশের বৃহত্তম ডেডিকেটেড ডাবল লাইন ডুয়েল গেজ রেলওয়ে সেতু। এর মধ্যে মূল সেতু নির্মাণসহ অন্যান্য আনুষঙ্গিক কাজে বরাদ্দ ছিল ১৩ হাজার কোটি টাকা। জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সি (জাইকা) প্রকল্পে প্রায় ১২ হাজার কোটি টাকা সহায়তা দিয়েছে, বাকিটা বাংলাদেশ সরকারের অর্থায়নে।

২০১৬ সালে গৃহীত প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে দুটি জাপানি যৌথ-উদ্যোগ সংস্থা। বঙ্গবন্ধু সেতুর প্রায় ৩০০ মিটার উজানে নির্মিত সেতুটি গ্যাস পাইপলাইন সুবিধাসহ ডুয়েল গেজ ডাবল ট্র্যাক দিয়ে সজ্জিত। যদিও প্রকল্পটি ২০২৩ সালের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা ছিল, ভৌত কাজ শুরু হয় ২০২০ সালের আগস্টে এবং সেতুর ভিত্তি স্থাপন শুরু হয় ২০২১ সালের মার্চে।

নতুন এই রেল সেতু দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন আনবে। এটি রাজধানী ঢাকার সঙ্গে দেশের পশ্চিমাঞ্চলের রেল যোগাযোগ আরও সহজ করবে এবং বাংলাদেশ রেলওয়ের ট্রেন পরিচালনা সক্ষমতা বাড়াবে। বর্তমানে যমুনা সেতুতে দিনে সর্বোচ্চ ২২টি ট্রেন চলাচল করতে পারে, কিন্তু নতুন সেতুতে দৈনিক ৮৮টি ট্রেন নির্বিঘ্নে চলাচল করবে। এছাড়া, সেতুটি দেশের মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) বৃদ্ধিতেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে এবং ট্রেনের সময়সূচিতে বিলম্ব কমাবে।

এই সেতুটি দেশের অর্থনীতি ও পরিবহন ব্যবস্থায় এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

মুক্তকাল/এসআর

Advertisement

Leave a Comment

Your email address will not be published.