আতিকুর রহমান আতিক :
দীর্ঘ ১৭ বছরের নির্বাসিত জীবন শেষে ইতিহাস গড়ে দেশে ফিরেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। বৃহস্পতিবার (২৬ ডিসেম্বর) বেলা ১১টা ৪০ মিনিটে ঢাকায় অবতরণের মধ্য দিয়ে জন্মভূমিতে প্রত্যাবর্তন করেন তিনি। জনতার উষ্ণ ভালোবাসা ও আবেগঘন অভ্যর্থনায় সিক্ত হয়ে শুরু হয় তার নতুন রাজনৈতিক অধ্যায়।
দেশে ফিরেই খালি পায়ে দেশের মাটিতে দাঁড়িয়ে একমুঠো মাটি হাতে তুলে নেন তারেক রহমান। এ সময় আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন উপস্থিত নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ। ঢাকায় পৌঁছে তিনি অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলে নিরাপত্তাসহ সার্বিক ব্যবস্থাপনার জন্য কৃতজ্ঞতা জানান।
বিমানবন্দর থেকে সরাসরি তিনি যান পূর্বাচলের ৩৬ জুলাই এক্সপ্রেসওয়ের (৩০০ ফিট সড়ক) গণসংবর্ধনাস্থলে। সেখানে লাখো মানুষের জনসমুদ্রে দাঁড়িয়ে তিনি দেশের মানুষের উদ্দেশে দেন গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য।
‘আমার দেশের জন্য আমার একটি পরিকল্পনা আছে’
সমাবেশে বক্তব্য দিতে গিয়ে দৃপ্তকণ্ঠে তারেক রহমান বলেন,
“আই হ্যাভ আ প্ল্যান— ফর দ্য পিপল অব মাই কান্ট্রি, ফর মাই কান্ট্রি।”
তিনি বলেন, এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে দেশের প্রতিটি মানুষের সহযোগিতা প্রয়োজন। গণতান্ত্রিক শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষা ও যেকোনো উসকানি এড়িয়ে চলতে হবে।
গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকার:
বক্তব্যে তিনি বলেন, বাংলাদেশে সকল ধর্ম, শ্রেণি ও পেশার মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে একটি মানবিক ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গড়তে চান। পাহাড়-সমতল, নারী-পুরুষ, শিশু ও প্রতিবন্ধী—সবাইকে নিয়ে একটি নিরাপদ বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।
তিনি বলেন,
“আজ সময় এসেছে সবাই মিলে দেশ গড়ার। আমাদের ঐক্যই পারে জনগণের প্রত্যাশা পূরণ করতে।”
অতীতের দুঃসহ সময় ও শহীদদের স্মরণ:
বিগত ১৫ বছরে গুম-খুন, নির্যাতন ও নিপীড়নের কথা তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, হাজারো মানুষ স্বৈরাচারের শিকার হয়েছে। ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের আত্মত্যাগের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, তাদের রক্তের ঋণ শোধ করতে হলে প্রত্যাশিত বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে।
চব্বিশের আন্দোলনের শহীদ ওসমান হাদিকে স্মরণ করে তিনি বলেন, গণতন্ত্র ও মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার লড়াই অব্যাহত রাখতে হবে।
শান্তি ও ধৈর্যের আহ্বান
আধিপত্যবাদী শক্তির ষড়যন্ত্র এখনো অব্যাহত রয়েছে উল্লেখ করে তিনি তরুণ প্রজন্মকে ধৈর্যশীল ও দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, শক্ত গণতান্ত্রিক ও অর্থনৈতিক ভিত্তির ওপর দেশ গড়তে তরুণদেরই নেতৃত্ব দিতে হবে।
মায়ের জন্য দোয়া চাইলেন
বক্তব্যের শেষাংশে তিনি তার অসুস্থ মা বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার জন্য দেশবাসীর কাছে দোয়া কামনা করেন। সমাবেশ শেষে তিনি এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন মায়ের কাছে যান।
জনসমুদ্রে রূপ নেয় ৩০০ ফিট:
তারেক রহমানকে স্বাগত জানাতে সকাল থেকেই পূর্বাচলের ৩০০ ফিট সড়ক জনসমুদ্রে পরিণত হয়। দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আসা লাখো নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ তার আগমনকে ঐতিহাসিক বলে অভিহিত করেন।
বিমানবন্দরে উষ্ণ অভ্যর্থনা
ঢাকা বিমানবন্দরের ভিআইপি লাউঞ্জে বিএনপির শীর্ষ নেতারা ফুলেল শুভেচ্ছা ও আলিঙ্গনের মাধ্যমে তাকে স্বাগত জানান। উপস্থিত ছিলেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ দলের স্থায়ী কমিটির সদস্যরা।
শুক্রবার জুমার নামাজের পর তারেক রহমান শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কবর জিয়ারত করবেন।গতকাল শনিবার নির্বাচন কমিশনে ভোটার নিবন্ধন শেষে তিনি জাতীয় স্মৃতিসৌধ ও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে যান।




