Skip to content
প্রকাশ- November 2, 2026 , 20:59 pm
অন্যান্য

কলেবর বাড়ছে জামায়াত জোটের ৮ দলের সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে আরও ৪ দল

কলেবর বাড়ছে জামায়াত জোটের ৮ দলের সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে আরও ৪ দল

Oplus_131072

মুক্তকাল ডেক্স:
জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশসহ সমমনা আট দলের জোটের পরিধি আরও বিস্তৃত হচ্ছে। চলমান আলোচনা অনুযায়ী নির্বাচনকালীন এ জোটে যুক্ত হতে যাচ্ছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), এবি পার্টি, এলডিপি ও লেবার পার্টি। নতুন চারটি দল যুক্ত হওয়ার প্রক্রিয়া চলায় আসন সমঝোতা চূড়ান্ত করতে কিছুটা সময় লাগছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট নেতারা। তবে দ্রুত সমাধানে দিনরাত কাজ চলছে বলে জানা গেছে।
দীর্ঘদিন ধরে পাঁচ দফা দাবি নিয়ে আন্দোলনে রয়েছে জামায়াতে ইসলামীসহ আট দল। এ জোটে বর্তমানে রয়েছে পীর সাহেব চরমোনাইয়ের নেতৃত্বাধীন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, খেলাফত মজলিস, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, খেলাফত আন্দোলন, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টি, জাগপা ও বিডিপি। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পরই তারা প্রার্থী বাছাই ও আসন সমঝোতার কাজ শুরু করে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ইতোমধ্যে প্রায় ৮০ শতাংশ সমঝোতা সম্পন্ন হয়েছে। বাকি আসনগুলোতে সম্ভাব্য বিজয়ী, মাঠপর্যায়ের সাংগঠনিক শক্তি এবং শীর্ষ নেতৃত্বের অবস্থান বিবেচনায় নিয়ে চুলচেরা বিশ্লেষণ চলছে।
জোট নেতারা জানান, ‘ইসলামী শক্তির এক বাক্স’ নীতির ভিত্তিতে পারস্পরিক সমঝোতার মাধ্যমে প্রার্থী চূড়ান্ত করা হবে। আসন বণ্টনে সবচেয়ে বড় দল হিসেবে জামায়াতে ইসলামী তুলনামূলক বেশি আসন পাবে। এরপর ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, খেলাফত মজলিস ও বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস প্রায় সমপর্যায়ের আসন পেতে পারে। বাকি দলগুলোর মধ্যে পরবর্তী ধাপে আসন বণ্টন হবে।
এরই মধ্যে জুলাই আন্দোলনের নেতাদের সমন্বয়ে গঠিত এনসিপির সঙ্গে জামায়াত জোটের আলোচনা এগিয়েছে। এনসিপি প্রায় ৩০টি আসনের দাবি তুললেও চূড়ান্ত সংখ্যা নির্ধারণে আরও আলোচনা চলছে। মাঠপর্যায়ে সংগঠন দুর্বল হলেও জুলাই আন্দোলনে এনসিপির ভূমিকা এবং সংস্কারপন্থী অবস্থানকে গুরুত্ব দিচ্ছে জোট।
এনসিপির সদস্যসচিব আখতার হোসেন বলেন, “সংস্কার প্রশ্নে যারা আন্তরিক ও প্রতিশ্রুতিবদ্ধ—আমরা তাদের সঙ্গেই এগোতে চাই। নির্বাচন, জোট বা আসন সমঝোতার বিষয়ে বিভিন্ন দলের সঙ্গে আলোচনা চলছে।”
এনসিপির সঙ্গে থাকা গণতান্ত্রিক সংস্কার জোটের শরিক এবি পার্টিরও জামায়াত জোটে যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। অন্যদিকে, বিএনপি জোট ত্যাগ করে এলডিপি ও লেবার পার্টিরও জামায়াত জোটে আসার বিষয়ে আলোচনা চলছে। এলডিপি ১০টি আসন চাইলেও ৪-৫টি আসনে সমঝোতা হতে পারে বলে জানা গেছে। লেবার পার্টির ক্ষেত্রে ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরানকে একটি আসন দেওয়ার আলোচনা রয়েছে।
জোট নেতারা জানিয়েছেন, জোট ভাঙনের কোনো আশঙ্কা নেই। সবাই ঐক্য ধরে রাখতে এবং সম্মানজনক সমাধানে পৌঁছাতে আন্তরিক। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এক বিবৃতিতে গণমাধ্যমে অপতথ্য ও বিভ্রান্তিকর উপস্থাপনা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছে।
আট দলের সমন্বয়ক ও জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ড. হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, “নতুন চারটি দল যুক্ত হলে সব দলকেই কিছু আসন ছাড় দিতে হবে। এ নিয়েই আলোচনা চলছে। তবে সংস্কার ও ইসলামী ঐক্যের প্রশ্নে সবাই অটল।”
নেতারা আশা প্রকাশ করেছেন, আগামী দু-এক দিনের মধ্যেই সব আলোচনা শেষ করে আনুষ্ঠানিকভাবে আসন সমঝোতার ঘোষণা দেওয়া হবে।

Advertisement
Advertisement