প্রকাশ : ১৩ ডিসেম্বর ২০২৫
বিশেষ প্রতিনিধি
ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য স্বতন্ত্র প্রার্থী শরিফ ওসমান হাদিকে গুলি করার ঘটনায় আলোচিত সাবেক ছাত্রলীগ নেতা ফয়সাল করিম মাসুদ অস্ত্র মামলায় দুই দফায় জামিন পেয়েছেন বলে চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে।
ডিজিটাল অনুসন্ধানী মাধ্যম দ্য ডিসেন্ট-এর অনুসন্ধানে জানা গেছে, ফয়সাল করিম মাসুদ প্রথম দফায় চলতি বছরের ১৬ ফেব্রুয়ারি এবং দ্বিতীয় দফায় ১২ আগস্ট হাইকোর্ট থেকে জামিন পান।
তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৮ নভেম্বর ডাকাতির সময় অস্ত্রসহ গ্রেফতার হওয়ার পর তার বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে মামলা হয়। ওই মামলায় ফয়সাল করিমের পক্ষে অ্যাডভোকেট কায়সার কামাল ও অ্যাডভোকেট মাহফুজুর রহমান জামিন আবেদন করলে হাইকোর্টের বিচারপতি মোহাম্মদ আলী ও বিচারপতি এস কে তাহসিন আলীর বেঞ্চ তাকে ছয় মাসের জামিন দেন।
পরবর্তীতে জামিনের মেয়াদ বাড়ানোর জন্য পুনরায় আবেদন করা হলে চলতি বছরের ১২ আগস্ট বিচারপতি মোহাম্মদ আলী ও বিচারপতি ইউসুফ আব্দুল্লাহ সুমনের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এক বছরের জামিন মঞ্জুর করেন বলে দাবি করেছে দ্য ডিসেন্ট।
আদালতের নথি পর্যালোচনায় দেখা যায়, ১৬ ফেব্রুয়ারি জামিনের আদেশ দেওয়ার মাত্র তিন দিনের মধ্যেই—১৯ ফেব্রুয়ারি—তা সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়। হাইকোর্টের উভয় আদেশের কপি ওয়েবসাইটে পাওয়া গেছে।
এর আগে দ্য ডিসেন্ট দাবি করেছিল, হাদিকে গুলি করা সন্দেহভাজন ব্যক্তি ঘটনার আগে ইনকিলাব কালচারাল সেন্টারে উপস্থিত ছিলেন। গত ৯ ডিসেম্বর তিনি সেখানে গিয়ে হাদির পাশে বসে আলোচনা শুনছিলেন বলেও দাবি করা হয়।
প্রতিষ্ঠানটি জানায়, ইনকিলাব কালচারাল সেন্টারের সিসিটিভি ফুটেজ, ১২ ডিসেম্বর হামলার সময় পুলিশের সংগৃহীত সিসিটিভি ভিডিও, বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত ছবি এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পাওয়া ৫০টির বেশি ছবি তুলনামূলক বিশ্লেষণ করে তারা এই তথ্য নিশ্চিত হয়েছে।
দ্য ডিসেন্ট-এর দাবি, হাদির ওপর বাইকের পেছন থেকে গুলি চালানো ব্যক্তি, নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নেওয়া ব্যক্তি এবং কালচারাল সেন্টারে উপস্থিত ব্যক্তির সঙ্গে ফয়সাল করিম মাসুদ ওরফে দাউদ খানের চেহারার মিল পাওয়া গেছে। ফয়সাল করিম রাজধানীর আদাবর থানা ছাত্রলীগের নেতা ছিলেন বলে পুরোনো সংবাদ থেকে জানা যায়।
বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো—গুলিবর্ষণকারী ব্যক্তির বাম হাতে থাকা বিশেষ ডিজাইনের ঘড়ির সঙ্গে ফয়সাল করিম মাসুদের ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রাম প্রোফাইলে থাকা একাধিক ছবিতে দেখা ঘড়ির হুবহু মিল পাওয়া গেছে।
প্রসঙ্গত, ২০২৪ সালের নভেম্বর মাসে রাজধানীর মোহাম্মদপুরের আদাবর এলাকায় একটি অফিসে অস্ত্রের মুখে ১৭ লাখ টাকা লুটের ঘটনায় প্রধান আসামি হিসেবে ফয়সাল করিম মাসুদ র্যাবের হাতে গ্রেফতার হন। তবে পরবর্তীতে কীভাবে তিনি মুক্তি পান, সে বিষয়ে এখনো কোনো স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি।




