Skip to content
প্রকাশ- November 2, 2026 , 22:04 pm
অন্যান্য

১১ দলের উদ্যোগে গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে জামালপুরে গণমিছিল

১১ দলের উদ্যোগে গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে জামালপুরে গণমিছিল

Oplus_131072

স্টাফ রিপোর্টার:
জুলাই সনদ তথা গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে ১১ দলের ঐক্য জোটের উদ্যোগে জামালপুর জেলা শাখা গণমিছিল করেছে।
গত ০২ তারিখ শনিবার শহরের পিটিআই মোড়ে একটি সংক্ষিপ্ত সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশ শেষে সেখান থেকে একটি মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে তমালতলা গিয়ে শেষ হয়।
সমাবেশে সঞ্চালনা করেন অধ্যক্ষ সুলতান মাহমুদ, সহকারী সেক্রেটারি, জামালপুর জেলা শাখা। পবিত্র কুরআন তেলাওয়াত করেন মুহাম্মদ জিয়াউল কবির জিন্নাহ, সাবেক সভাপতি, বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির জামালপুর জেলা শাখা।
উক্ত সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী জামালপুর জেলা শাখার আমীর মাওলানা আব্দুস সাত্তার।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জামালপুর জেলার সেক্রেটারী,অ্যাডভোকেট আব্দুল আউয়াল এবং জাতীয় নাগরিক পার্টির জেলা শাখার আহ্বায়ক ও সমন্বয়ক সাকিল আহমেদ।
এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন ইসলামী ছাত্রশিবির জামালপুর জেলা শাখার প্রচার সম্পাদক শামসুউদ্দিন সোলায়মান, জামায়াতে ইসলামী সদর উপজেলা সেক্রেটারি রেজাউল করিম নোমান, সদর উপজেলা আমীর মাওলানা মঞ্জুরুল ইসলাম, মাদারগঞ্জ উপজেলা সেক্রেটারি মাওলানা ফরহাদ হোসেন, জামালপুর জেলা শাখার কর্মপরিষদ সদস্য আশেক মাহমুদ শান্ত, বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন জামালপুর জেলা শাখার সভাপতি অ্যাডভোকেট আছিমুল ইসলাম, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস জামালপুর জেলা শাখার প্রচার সম্পাদক আব্দুল আলিম এবং জামায়াতে ইসলামী জামালপুর শহর শাখার আমীর আল ইমরান সুজন।
সমাবেশে বক্তব্য রাখতে গিয়ে অ্যাডভোকেট আব্দুল আউয়াল বলেন, জুলাই শহীদদের সঙ্গে একাত্ম হয়ে জাতির সামনে বাংলাদেশ জাতীয় সংসদে যে সমঝোতা স্বাক্ষর করা হয়েছিল, তৎকালীন প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনুসের উপস্থিতিতে—সেদিন সবাই বিশ্বাস করেছিল যে, দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে নির্যাতনের শিকার মানুষের প্রতি এই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন হবে। কিন্তু পরবর্তীতে আবারও জুলাই সনদ নিয়ে আন্দোলন করতে হবে—এটি কেউ আশা করেনি।
তিনি আরও বলেন, নির্বাচনের আগে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও নির্বাচনের পর জাতীয় সংসদে দাঁড়িয়ে সেটিকে “অভিনয়” বলা হয়েছে, যা জাতির সঙ্গে প্রতারণার শামিল। একটি সরকারের গুরুত্বপূর্ণ নেতা যদি জাতির সামনে মিথ্যা কথা বলে, তাহলে তার কাছ থেকে ভালো কিছু আশা করা যায় না। তিনি অভিযোগ করেন, দেশের ১৮ কোটি মানুষকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, জুলাই সনদের দাবি কোনো একক দলের নয়; এটি জুলাই আন্দোলনের শহীদ ও পঙ্গুদের পরিবারসহ দেশের মানুষের দাবি। তাই সরকারকে বাধ্য করা হবে এই সনদ মেনে নিতে।
এছাড়াও অন্যান্য বক্তারা বলেন, স্বাধীনতার ৫৪ বছর পার হলেও সাধারণ মানুষের ভাগ্যের তেমন কোনো পরিবর্তন হয়নি। তারা দাবি করেন, ১৭ বছর পর জুলাই-আগস্ট আন্দোলনের মাধ্যমে দেশ নতুনভাবে স্বাধীনতার স্বাদ পেলেও বর্তমান সরকার নির্বাচনী ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের মাধ্যমে জনগণের অধিকার হরণ করে ক্ষমতায় এসেছে এবং ফ্যাসিস্ট কায়দায় দেশ পরিচালনা করছে।
বক্তারা আরও বলেন, দেশে আইনশৃঙ্খলার অবনতি হচ্ছে, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি অব্যাহত রয়েছে—“পাম্প আছে তেল নেই, খাম্বা আছে কারেন্ট নেই”—এভাবে জনভোগান্তি বাড়ছে। তারা অভিযোগ করেন, সরকার দেশ গঠনের পরিবর্তে বিভিন্ন ধরনের কার্ড বিতরণে ব্যস্ত, যার কারণে জনগণ সরকারকে “কার্ড বাবা” বলে আখ্যায়িত করেছে।
উক্ত সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মাওলানা আব্দুস সাত্তার বলেন, “জুলাই সনদ বাস্তবায়ন এখন সময়ের দাবি। জনগণের রায়কে উপেক্ষা করে কোনো সরকার টিকে থাকতে পারে না। যদি এই সনদ বাস্তবায়ন না করা হয়, তাহলে রাজপথে আন্দোলনের মাধ্যমেই তা আদায় করা হবে।”
সমাবেশ শেষে ১১ দলের ঐক্য জোটের নেতাকর্মীরা শহরের বিভিন্ন স্থান থেকে অংশগ্রহণ করে কর্মসূচিকে সফল করেন।

Advertisement
Advertisement