Skip to content
প্রকাশ- November 2, 2026 , 19:57 pm
অন্যান্য

অটোরিকশার লোভে চালককে হত্যা, ১২ ঘণ্টার মধ্যে মূল অভিযুক্তসহ গ্রেপ্তার ৬

অটোরিকশার লোভে চালককে হত্যা, ১২ ঘণ্টার মধ্যে মূল অভিযুক্তসহ গ্রেপ্তার ৬

সাজ্জাদ হোসাইন শাহিন-স্টাফ রিপোর্টার:

জামালপুরে অটোরিকশা ছিনিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যে অটোরিকশা চালক নায়েব আলীকে হত্যা করার ঘটনায় মাত্র ১২ ঘণ্টার মধ্যে মূল অভিযুক্তসহ ছয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। এ সময় হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত জিআই তার এবং চোরাই অটোরিকশার বিভিন্ন যন্ত্রাংশও উদ্ধার করা হয়েছে।

Advertisement

পিবিআই সূত্র জানায়, অটোরিকশা চালক নায়েব আলী গত ২১ জুন ভোর ৪টার দিকে প্রতিদিনের মতো কমিউটার ট্রেনের যাত্রীদের স্টেশনে পৌঁছে দেওয়ার জন্য বাড়ি থেকে বের হন। তবে অন্যান্য দিনের মতো তিনি আর বাড়ি ফিরে আসেননি। পরে তাঁর ছেলে মো. মামুন ওরফে মমিন মেলান্দহ থানায় একটি নিখোঁজ ডায়েরি (জিডি) করেন। একই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকেও বিষয়টি প্রচার করা হয়।

ফেসবুকে প্রকাশিত নিখোঁজ সংক্রান্ত পোস্ট দেখে এক ব্যক্তি নায়েব আলীর স্বজনদের জানান, ইসলামপুর উপজেলার চরপুটিমারী ইউনিয়নের বেনুয়ারচর বাজার থেকে প্রায় এক কিলোমিটার দূরের একটি নির্জন ধানক্ষেতে লাগেজের ভেতরে অজ্ঞাত এক ব্যক্তির মরদেহ পাওয়া গেছে। পরে নিহতের স্বজনরা ইসলামপুর থানায় গিয়ে মরদেহটি নায়েব আলীর বলে শনাক্ত করেন।

এ ঘটনায় নিহতের ছেলে মামুন বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে ইসলামপুর থানায় হত্যা, প্রমাণ গোপন এবং চুরির অভিযোগে মামলা দায়ের করেন। মামলাটি পিবিআই সদর দপ্তরের নির্দেশনায় পিবিআই জামালপুর জেলা স্ব-উদ্যোগে গ্রহণ করে এবং তদন্তভার এসআই ফয়জুর রহমানের ওপর ন্যস্ত করা হয়।পিবিআই প্রধান অতিরিক্ত আইজিপি মো. মোস্তফা কামালের তত্ত্বাবধান এবং পিবিআই জামালপুর ইউনিটের পুলিশ সুপার পংকজ দত্ত, পিপিএম-এর সার্বিক নির্দেশনায় তদন্ত শুরু হয়। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তদন্তকারীরা ঘটনার রহস্য উদঘাটনে সক্ষম হন।তদন্তের একপর্যায়ে ২৪ জুন রাত সাড়ে ৩টার দিকে মেলান্দহ উপজেলার চাকদহ সর্দারবাড়ি এলাকা থেকে মূল অভিযুক্ত নাহিদুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে চোরাই অটোরিকশার যন্ত্রাংশ উদ্ধার অভিযান চালিয়ে সোলাইমান কবির, শফিকুল ইসলাম, আব্দুল কাদের, রাসেল হোসেন এবং চোরাই মালামাল পরিবহনে সহযোগিতাকারী সাগর পাশাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পিবিআই জামালপুরের পুলিশ সুপার পংকজ দত্ত জানায়, নাহিদুল ইসলামের জরুরি ভিত্তিতে ১০ হাজার টাকার প্রয়োজন ছিল। সেই টাকা জোগাড়ের উদ্দেশ্যে অটোরিকশা চুরির পরিকল্পনা করে তিনি সহযোগীদের নিয়ে নায়েব আলীকে হত্যা করেন। হত্যার পর মরদেহ গোপন করতে লাগেজে ভরে ধানক্ষেতে ফেলে রাখা হয়।অভিযানে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত জিআই তার ছাড়াও চোরাই অটোরিকশার চারটি ব্যাটারি, একটি কন্ট্রোলার, তিনটি চাকা, মোটর ডিফারেনশিয়াল, দুটি সকেট বাম্পার, সামনের গ্লাস এবং লোহার বডির বিভিন্ন কাটা অংশ উদ্ধার করা হয়।পিবিআই আরও জানায়, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে চোরাই মালামাল ক্রয়-বিক্রয়ের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। তাদের মধ্যে কয়েকজন অভ্যাসগতভাবে চোরাই মালামাল কেনাবেচার সঙ্গে সম্পৃক্ত বলে তদন্তে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।পরবর্তীতে গ্রেপ্তার নাহিদুল ইসলামকে আদালতে হাজির করা হলে তিনি স্বেচ্ছায় ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় দোষ স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। পিবিআই জানিয়েছে, মামলার তদন্ত এখনও চলমান রয়েছে এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের বিষয়ে অনুসন্ধান অব্যাহত আছে।

Advertisement