বকশীগঞ্জ (জামালপুর) প্রতিনিধি :
জামালপুরের বকশীগঞ্জ উপজেলার বগারচর ইউনিয়নে পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে হতদরিদ্র মানুষের জন্য বরাদ্দকৃত সরকারি ভিজিএফ চালের কার্ড বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। ইউনিয়নের জন্য বরাদ্দ হওয়া কার্ডের একটি বড় অংশ স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বগারচর ইউনিয়নের জন্য মোট ৮ হাজার ৪৮টি ভিজিএফ কার্ড বরাদ্দ দেওয়া হয়। অভিযোগ রয়েছে, এর মধ্যে প্রায় ৪ হাজার ২৪টি কার্ড স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীদের মাঝে বিতরণের জন্য হস্তান্তর করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার দুপুরে বগারচর ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান সোহেল রানা পলাশ তার কার্যালয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে উপজেলা বিএনপির কয়েকজন নেতার কাছে এসব কার্ড তুলে দেন বলে জানা গেছে। এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি হাসিবুল হক সঞ্জু, বগারচর ইউনিয়ন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি বেলায়েত হোসেন বুলাল, সাধারণ সম্পাদক সফিউল আলমসহ অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার (পিআইও) কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ঈদ উপলক্ষে বগারচর ইউনিয়নের ৪ হাজার ২৪ জন হতদরিদ্র, দুস্থ ও অসহায় পরিবারের জন্য ৮০ হাজার ৪৮০ কেজি চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। প্রতিটি কার্ডের বিপরীতে একজন সুবিধাভোগী ১০ কেজি করে চাল পাওয়ার কথা।
সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী, স্থানীয় প্রশাসনের গঠিত কমিটির মাধ্যমে প্রকৃত উপকারভোগীদের তালিকা প্রণয়ন ও কার্ড বিতরণের বিধান রয়েছে। তবে অভিযোগ উঠেছে, প্রশাসনের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বা ট্যাগ অফিসারের উপস্থিতি ছাড়াই বিপুল সংখ্যক কার্ড রাজনৈতিক নেতাদের হাতে হস্তান্তর করা হয়েছে, যা বিতরণ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, ভিজিএফের চাল গরিব ও অসহায় মানুষের অধিকার। রাজনৈতিক বিবেচনায় কার্ড বিতরণ করা হলে প্রকৃত দরিদ্ররা বঞ্চিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এ বিষয়ে বগারচর ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান সোহেল রানা পলাশ বলেন, “দলীয় নির্দেশনা অনুযায়ী উপজেলা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি হাসিবুল হক সঞ্জুর হাতে কার্ড তুলে দেওয়া হয়েছে, যাতে ইউনিয়ন পরিষদের ওপর কোনো ধরনের চাপ সৃষ্টি না হয়।”
তবে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা হাবিবুর রহমান সুমন বলেন, “নিয়ম অনুযায়ী ট্যাগ অফিসারের উপস্থিতিতে প্রকৃত উপকারভোগীদের মাঝে কার্ড ও চাল বিতরণ করতে হয়। কোনো রাজনৈতিক দলের হাতে এভাবে কার্ড হস্তান্তরের সুযোগ নেই। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।”
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মুরাদ হোসেন বলেন, “সরকারি ত্রাণ বা ভিজিএফ কার্ড রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের মাধ্যমে বিতরণের কোনো বিধান নেই। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
ভিজিএফ কার্ড বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ, বিএনপি নেতাদের হাতে অর্ধেক কার্ড




