Skip to content
প্রকাশ- November 2, 2026 , 16:54 pm
অন্যান্য

শেরপুরের কন্যা রামিসা হত্যাকাণ্ডে কাঁদছে বিবেক শিশুর নিরাপত্তা কোথায়?

শেরপুরের কন্যা রামিসা হত্যাকাণ্ডে কাঁদছে বিবেক শিশুর নিরাপত্তা কোথায়?

Oplus_131072

স্টাফ রিপোর্টার :
শেরপুর জেলার নয়ানী বাজার খরমপুর মহল্লার বাসিন্দা হান্নান মোল্লার কন্যা রামিসা (৭) নির্মম ও নৃশংস হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছে। স্থানীয়ভাবে পরিচিত ব্যবসায়ী পরিবারের এই শিশুটির এমন মর্মান্তিক মৃত্যুতে এলাকায় শোক ও ক্ষোভের ছায়া নেমে এসেছে।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, রামিসা তার পরিবারের সঙ্গে বর্তমানে ঢাকায় বসবাস করছিল। তার চাচা লিটন মোল্লা এবং পরিবারটি একসময় শেরপুর শহরের খরমপুর এলাকায় বসবাস করত।
ঘটনার দিন সকালে বড় বোনের সঙ্গে স্কুলে যাওয়ার কথা ছিল রামিসার। প্রতিদিনের মতো বই-খাতা গুছিয়ে প্রস্তুত ছিল সে। কিন্তু নির্ধারিত সময়ে তাকে খুঁজে পাওয়া না গেলে পরিবার উদ্বিগ্ন হয়ে পড়ে।
পরিবার জানায়, দুই বোন প্রতিদিন একসঙ্গেই স্কুলে যেত। রামিসাকে না পেয়ে বড় বোন খোঁজাখুঁজি শুরু করে এবং মা আশপাশের ফ্ল্যাটগুলোতে অনুসন্ধান চালান। একপর্যায়ে পাশের একটি ফ্ল্যাটের দরজার সামনে রামিসার একটি জুতা পাওয়া যায়। তখন পরিবার ধারণা করে, সে হয়তো পাশের বাসায় গেছে।
তবে বারবার দরজায় কড়া নাড়ার পরও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। দরজাটি ভেতর থেকে বন্ধ ছিল। পরে স্থানীয়দের সহযোগিতায় জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ খবর দেওয়া হয়।
পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে দরজা খুলে ভেতরে প্রবেশ করলে রক্তের দাগে ছড়িয়ে থাকা ঘর থেকে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করে। পরে বাথরুম থেকে তার বিচ্ছিন্ন মাথা পাওয়া যায়।
এ ঘটনায় জাকির নামের এক ব্যক্তি পলাতক রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। স্থানীয়দের দাবি, অভিযুক্তের বিরুদ্ধে পূর্বেও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ ছিল। তার স্ত্রীও পলায়নে সহায়তা করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
এ ঘটনার পর এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা দ্রুত অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
এদিকে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দেশে শিশু নির্যাতন ও সহিংসতার ঘটনা উদ্বেগজনকভাবে বাড়ছে। বিচার প্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতা, প্রভাবশালীদের চাপ এবং আইনের দুর্বল প্রয়োগ অপরাধীদের আরও সাহসী করে তুলছে।
তারা মনে করেন, শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পরিবার, সমাজ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও প্রশাসনের সমন্বিত উদ্যোগ জরুরি। দ্রুত বিচার ও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা না গেলে এমন ঘটনা আরও বাড়তে পারে।
রামিসার মৃত্যুতে পরিবার ও এলাকাবাসীর আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে পরিবেশ। এক শিশুর এমন মৃত্যু যেন পুরো সমাজকেই নতুন করে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে—শিশুরা আসলে কতটা নিরাপদ?

Advertisement
Advertisement