আব্দুর রহিম খান
মাদারগঞ্জ প্রতিনিধি :
জামালপুরের মাদারগঞ্জে কোটি টাকার ডাম্পিং স্টেশন দীর্ঘদিন ধরে অকেজো পড়ে থাকায় পৌরসভার ময়লা-আবর্জনা মহাসড়কের পাশেই ফেলা হচ্ছে। এতে দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন পথচারী ও স্থানীয় বাসিন্দারা।
বুধবার সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, মাদারগঞ্জ-জামালপুর মহাসড়কের বালিজুড়ী বাজার ফার্নিচার মোড়ের পাশে প্রতিদিন বাজারের ময়লা-আবর্জনা ফেলছেন পৌরসভার পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা। এতে সড়কের পাশে সৃষ্টি হয়েছে বড় ময়লার স্তূপ। দুর্গন্ধে দুর্ভোগে পড়ছেন পথচারী ও ব্যবসায়ীরা।
স্থানীয়রা জানান, অপরিকল্পিতভাবে ময়লা ফেলার কারণে পরিবেশ দূষণ বাড়ছে। ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে মানুষ, পশুপাখি ও গাছপালা।
পৌরসভার ময়লা প্রক্রিয়াজাত করে জৈব সার উৎপাদনের লক্ষ্যে শুভগাছা এলাকায় একটি ডাম্পিং স্টেশন কাম বায়োগ্যাস প্লান্ট নির্মাণ করা হয়। উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, ২০২১-২২ অর্থবছরে প্রায় ৮৫ লাখ ৬৫ হাজার ২৪৭ টাকা ব্যয়ে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হয় এবং ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বর মাসে পৌরসভার কাছে হস্তান্তর করা হয়।
স্থানীয় বাসিন্দা আমিনুর ও রবিউল জানান, দুই বছর আগে প্রকল্পের কাজ শেষ হলেও এখন পর্যন্ত সেখানে কোনো ময়লা নেওয়া হয়নি কিংবা জৈব সার উৎপাদন শুরু হয়নি। বর্তমানে ডাম্পিং স্টেশনের ভেতরে ভুট্টা শুকানো হচ্ছে।
স্থানীয় শিক্ষক খালেদুজ্জামান মনি তালুকদার বলেন, দ্রুত ডাম্পিং স্টেশন চালু করা হলে পরিবেশ দূষণ কমবে এবং সড়কের পাশেও আর ময়লা ফেলতে হবে না।
ডাম্পিং স্টেশনের ভেতরে ভুট্টা রাখা আব্দুর রাজ্জাক জানান, আগে সেখানে বিভিন্ন এলাকার তরুণরা আড্ডা ও নেশা করত। বর্তমানে গেটে তালা দেওয়ার পর জায়গাটি নিরাপদ রয়েছে।
মাদারগঞ্জ উপজেলা জনস্বাস্থ্য সহকারী প্রকৌশলী শফিকুল ইসলাম বলেন, পৌরসভার ময়লা প্রক্রিয়াজাত করে জৈব সার তৈরির উদ্দেশ্যে ডাম্পিং স্টেশনটি নির্মাণ করা হয়েছে এবং এটি পৌরসভার কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
এ বিষয়ে মাদারগঞ্জ পৌরসভার প্রশাসক সুমন চৌধুরী জানান, ডাম্পিং স্টেশন পরিচালনায় প্রয়োজনীয় টেকনিক্যাল সাপোর্ট ও জনবল না থাকায় এটি চালু করা সম্ভব হয়নি। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে।




