Skip to content
প্রকাশ- November 3, 2026 , 0:27 am
অন্যান্য

জামালপুর-৪ আসনের এমপি ফরিদুল কবির তালুকদারকে মন্ত্রিত্বের দাবি

জামালপুর-৪ আসনের এমপি ফরিদুল কবির তালুকদারকে মন্ত্রিত্বের দাবি

কবীর আহমেদ
সরিষাবাড়ী প্রতিনিধি

জামালপুর-৪ (সরিষাবাড়ী) আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সভাপতি ফরিদুল কবির তালুকদার শামীমকে মন্ত্রিসভার সদস্য হিসেবে দেখার দাবি উঠেছে। সম্প্রতি মন্ত্রিসভায় নতুন সদস্য অন্তর্ভুক্তি নিয়ে আলোচনা ও গুঞ্জন উঠায় এ দাবি আরও জোরালো হয়েছে। দাদা প্রাদেশিক আইন পরিষদের সদস্য (এমপিএ) রিয়াজ উদ্দিন তালুকদার এবং চাচা বিএনপির সাবেক মহাসচিব ও সাবেক এলজিআরডি মন্ত্রী প্রয়াত আব্দুস সালাম তালুকদারের পর ফরিদুল কবির তালুকদার শামীমকে যোগ্য উত্তরসূরী হিসেবে মনে করেন এ জনপদের মানুষ।

Advertisement

রাজনৈতিক পরিবার থেকে বেড়ে উঠা ফরিদুল কবির তালুকদার শামীমের রাজনীতির হাতেখড়ি শৈশব-কৈশোর থেকেই। ছাত্রজীবনে সরিষাবাড়ী রিয়াজ উদ্দিন তালুকদার কলেজের ভিপি ছিলেন। পরে সরিষাবাড়ী পৌরসভার প্রথম ও তিনবারের চেয়ারম্যান এবং মেয়র নির্বাচিত হন। পরবর্তীতে আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলেও উপজেলা পরিষদের নির্বাচিত চেয়ারম্যান হিসেবে সফলভাবে দায়িত্ব পালন করেন। রাজনৈতিকভাবে দীর্ঘদিন ধরে উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দক্ষতার সাথে নেতৃত্ব দিয়ে দলের দুঃসময়েও ঐক্য ধরে রেখেছেন সুদৃঢ়ভাবে। যার ফলে জেলা বিএনপির সভাপতিও নির্বাচিত হন বারবার। বর্তমানে তাঁকে জেলা বিএনপির ‘ঐক্যের প্রতীক’ বলা হয়।

তাঁর পরিবার থেকেই তিনবার মন্ত্রিত্ব পেয়েছে সরিষাবাড়ীবাসী। চাচা আব্দুস সালাম তালুকদার রাষ্ট্রপতি জিয়ার সরকারে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী এবং পরবর্তীতে বেগম জিয়ার সরকারে এলজিআরডি মন্ত্রী হন। বড়ভাই মেজর জেনারেল (অব.) আনোয়ারুল কবির তালুকদার শাহজাদা হয়েছিলেন প্রথমে অর্থ ও পরিকল্পনা এবং পরে বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী। স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও সচেতন মহল মনে করেন, শিল্পনগরী হিসেবে পরিচিত সরিষাবাড়ী জেলার অন্য ৫টি আসনের মধ্যে সবসময়ই গুরুত্বপূর্ণ। অধিকাংশ সরকারের আমলেই মন্ত্রিত্বের ছোঁয়া লেগেছে এখানে। পাশাপাশি তালুকদার পরিবারের ঐতিহাসিক ভূমিকা ও যোগ্যতার ধারাবাহিকতার শামীম তালুকদারকে মন্ত্রী করা সময়ের দাবি।

জানা গেছে, ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীকে ফরিদুল কবির তালুকদার শামীম পোস্টাল ব্যালটসহ উপজেলার ৮৯টি ভোটকেন্দ্রের সবগুলোতেই বিজয়ী হয়ে সরিষাবাড়ীর নির্বাচনী ইতিহাসে এক নজিরবিহীন ঘটনার জন্ম দেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দির সঙ্গে ব্যবধান হয় ১ লাখ ২ হাজার ৪৫৯ ভোট, যা শুধু জেলার ৫টি আসনের মধ্যেই নয়, বৃহত্তর ময়মনসিংহ বিভাগেও অন্যতম বৃহৎ ব্যবধান। বিশ্লেষকদের মতে, শামীম তালুকদারের ভোটের ব্যবধান, তার নেতৃত্ব গুণ ও চাচার অবদানকে স্বীকার করলে অবশ্যই তিনি মন্ত্রিসভায় স্থান পাবেন। দলের চেয়ারম্যান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সরিষাবাড়ীবাসীকে বঞ্চিত করবেন না বলে

বিশ্বাস। সরিষাবাড়ী কলেজের প্রভাষক খায়রুল আলম শ্যামল বলেন, “একটি পৌরসভা ও ৮টি ইউনিয়ন পরিষদ নিয়ে

গঠিত প্রায় ৫ লাখ মানুষের জনপদ সরিষাবাড়ী যমুনা সার কারখানাসহ পাট-শিল্পের জন্য বিখ্যাত। বিগত সরকারের জনপ্রতিনিধিদের অদক্ষতা ও রাজনৈতিক সদিচ্ছার অভাবে এ গৌরব হারানো পথে। হারানো ঐতিহ্য ফিরে পেতে আমরা ফরিদুল কবির তালুকদার শামীমকে মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রী হিসেবে চাই।”

উপজেলা বিএনপির কোষাধ্যক্ষ আসাদুজ্জামান বাবু বলেন, “তৃণমূল নেতৃত্ব থেকে জাতীয় নেতৃত্বে উঠে আসা শামীম তালুকদার মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী হলে নিজের এলাকার পাশাপাশি দেশের উন্নয়ন ও গণতন্ত্রের ধারাবাহিকতায় নতুন দিগন্ত উন্মোচন করতে সক্ষম হবেন।”

উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি হাফিজুর রহমান মিলন, সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক খোরশেদ আলম তালুকদার চয়ন, সাবেক দপ্তর সম্পাদক মাসুম আহমেদসহ সাবেক ছাত্রনেতারা মনে করেন, “যোগ্যতা, দক্ষতা ও বিচক্ষণতার অপর নাম শামীম তালুকদার। দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষা, সাংস্কৃতিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয়। প্রতিকূল রাজনৈতিক পরিবেশেও তিনি মাঠে ছিলেন, মানুষের পাশে থেকেছেন। স্বাস্থ্য ও শিক্ষার মানোন্নয়নসহ অবহেলিত ও চরাঞ্চলের মানুষদের ভাগ্যের পরিবর্তনে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবেন। “এব্যাপারে ফরিদুল কবীর তালুকদার শামীম বলেন, “ভোটাররা আমাকে এমপি নির্বাচিত করে যে দায়িত্ব অর্পণ করেছেন, তা সততা, নিষ্ঠা ও জবাবদিহিতার সঙ্গে পালন করার দৃঢ় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। সরিষাবাড়ীকে শান্তিপূর্ণ, সৌহার্দ্যপূর্ণ ও উন্নত সরিষাবাড়ী, শান্তির সরিষাবাড়ী হিসেবে গড়ে তুলবো।” তিনি আরও বলেন, “রাষ্ট্রনায়ক তারেক রহমান আমাকে বড় ধরনের দায়িত্ব দিলে সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে উন্নয়ন,

Advertisement