Skip to content
প্রকাশ- November 2, 2026 , 23:58 pm
অন্যান্য

বকশীগঞ্জে আশ্রয়ন প্রকল্পে ভাটা: নিরাপত্তা ও কর্মসংস্থানের অভাবে শূন্য হচ্ছে ঘরগুলো

বকশীগঞ্জে আশ্রয়ন প্রকল্পে ভাটা: নিরাপত্তা ও কর্মসংস্থানের অভাবে শূন্য হচ্ছে ঘরগুলো

মোহাম্মদ গোলাম মোস্তফা (বকশীগঞ্জ) প্রতিনিধি:
সরকারের ‘আশ্রয়ন প্রকল্প’-এর লক্ষ্য ছিল গৃহহীন ও ভূমিহীন মানুষের জন্য নিরাপদ আবাসন নিশ্চিত করা। কিন্তু জামালপুরের বকশীগঞ্জ উপজেলার কামালপুর ইউনিয়নের ডুমুরতলা আশ্রয়ন প্রকল্পে সেই লক্ষ্য অনেকটাই ব্যাহত হয়েছে। প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা, কর্মসংস্থান ও মৌলিক সুবিধার অভাবে প্রকল্পটি ধীরে ধীরে জনশূন্য হয়ে পড়ছে।
২০২১-২২ অর্থবছরের আশ্রয়ণ-২ প্রকল্পের আওতায় বকশীগঞ্জ উপজেলায় মোট ২১২টি ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারকে ঘর প্রদান করা হয়। এর মধ্যে প্রথম পর্যায়ে ১৪২টি, দ্বিতীয় পর্যায়ে ৫০টি এবং তৃতীয় পর্যায়ে ২০টি ঘর নির্মাণ করা হয়। তবে ডুমুরতলা প্রকল্প এলাকায় নির্মিত ২৮টি ঘরের মধ্যে বর্তমানে বসবাস করছে মাত্র ১০টি পরিবার। বাকি ১৮টি ঘর পড়ে আছে পরিত্যক্ত অবস্থায়, যা অনেকটাই ‘ভূতুড়ে বাড়ি’র রূপ নিয়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, অধিকাংশ ঘরের দরজা-জানালা বন্ধ ও তালাবদ্ধ। কিছু ঘরে ফাটল ধরেছে, যা বসবাসের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। চারপাশে আগাছা ও ঝোপঝাড়ে ভরে গেছে পরিবেশ। রাতে পুরো এলাকা অন্ধকার ও নির্জন হয়ে পড়ে, যা বাসিন্দাদের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা বাড়াচ্ছে।
স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, প্রকল্প এলাকার আশপাশে ঝোপঝাড় ও পাহাড়ি পরিবেশ থাকায় বনবিড়াল ও শেয়ালের উপদ্রব রয়েছে। রাতে পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা না থাকায় নারী ও শিশুদের নিরাপত্তা নিয়ে চরম উদ্বেগ বিরাজ করছে।
প্রকল্পের বাসিন্দা মো. বিজয়, নুর হোসেন ও কাপাসি বেগম বলেন,
“আমরা ঘর পেয়েছি, কিন্তু কাজের কোনো ব্যবস্থা নেই। নিরাপত্তাও নেই। কোনো ভাতা বা সরকারি সহায়তাও পাচ্ছি না। পরিবার নিয়ে খুব কষ্টে দিন কাটছে।”
তারা আরও জানান, খাদ্য সহায়তা অনিয়মিত, বিদ্যুৎ সুবিধা অপর্যাপ্ত এবং চিকিৎসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান দূরে হওয়ায় জীবনযাপন আরও কঠিন হয়ে পড়েছে।
স্থানীয় এলাকাবাসীর দাবি, প্রকল্পটি সচল রাখতে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। তারা ফাঁকা ঘরগুলোতে নতুন পরিবার পুনর্বাসন, পর্যাপ্ত নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, সোলার লাইট স্থাপন, কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি, নিয়মিত সরকারি তদারকি এবং আশপাশের ঝোপঝাড় পরিষ্কারের দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে কামালপুর ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান গোলাপ জামাল জানান, বর্তমানে প্রকল্পে কতটি পরিবার বসবাস করছে বা চলে গেছে, সে বিষয়ে তার কাছে সুনির্দিষ্ট তথ্য নেই। তিনি আরও বলেন, প্রকল্পের বাসিন্দাদের খোঁজখবর নিয়মিত রাখা হয় না।
অন্যদিকে, বকশীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুল হাই বলেন,
“আশ্রয়ন প্রকল্পগুলোর বর্তমান অবস্থা খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কোনো পরিবার সরকারি সহায়তা থেকে বঞ্চিত থাকলে দ্রুত তা নিশ্চিত করা হবে।”
বিশেষজ্ঞদের মতে, আশ্রয়ন প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য সফল করতে শুধু ঘর নির্মাণই যথেষ্ট নয়; প্রয়োজন টেকসই পুনর্বাসন, কর্মসংস্থান এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। অন্যথায় এ ধরনের প্রকল্প দীর্ঘমেয়াদে কার্যকারিতা হারাবে।

Advertisement
Advertisement