সরিষাবাড়ী প্রতিনিধি :
জামালপুরের সরিষাবাড়ীতে এক নারীকে কেন্দ্র করে দুই যুবকের টানাটানি ও বাগবিতণ্ডার জেরে লঙ্কাকাণ্ড ঘটে গেছে। মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে উপজেলার আওনা ইউনিয়নের জগন্নাথগঞ্জ পুরাতন ঘাট বাজার এলাকায় এই অদ্ভুত ঘটনাটি ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে স্থানীয় জনতা ওই দুই যুবক ও নারীকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছে।
জানা যায়, পোগলদিঘা ইউনিয়নের চর পোগলদিঘা গ্রামের মনোহারি ব্যবসায়ী আতিকুল হাসান রাসেলের সাথে একই ইউনিয়নের গাছপাড়া গ্রামের শারমিন আক্তারের বিয়ে হয়। রাসেলের দাবি, তিনি শারমিনকে পড়াশোনা করিয়ে প্যাথলজিস্ট হিসেবে গড়ে তোলেন। পরে শারমিন ‘জনসেবা হসপিটাল এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে’ চাকরি নিলে প্রতিষ্ঠানটির মালিক লিয়াকত শিকদারের সাথে পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়েন।
”সে লিয়াকতকে বিয়ে করে ছোট্ট কন্যা সন্তানকে আমার কাছে ফেলে রেখে চলে যায়। পরে লিয়াকতের অত্যাচারে সে আবার আমার কাছে ফিরে আসে এবং সন্তানের মুখের দিকে তাকিয়ে আমি তাকে গ্রহণ করি। কিন্তু লিয়াকত পুনরায় চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে তাকে ভাগিয়ে নিয়ে যায় এবং এখন বেআইনিভাবে নিজের স্ত্রী দাবি করছে।”
অন্যদিকে, আওনা ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাবেক নেতা ও হাসপাতাল মালিক লিয়াকত শিকদার নিজেকে শারমিনের বৈধ স্বামী হিসেবে দাবি করেছেন। তার ভাষ্যমতে, শারমিন তার প্রথম স্বামী রাসেলকে ডিভোর্স দেওয়ার পরই তাকে বিয়ে করেছেন। গত আড়াই মাস ধরে তারা জগন্নাথগঞ্জ ঘাট এলাকায় একটি বাসা ভাড়া নিয়ে বসবাস করছেন।
মঙ্গলবার দুপুরে দুই পক্ষের মধ্যে তীব্র বাকবিতণ্ডা শুরু হলে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয়দের মতে, লিয়াকত শিকদার ইতিপূর্বেও একাধিক নারী কেলেঙ্কারিতে জড়িত ছিলেন। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে জনতা তিনজনকে আটক করে থানায় খবর দেয়।
সরিষাবাড়ী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) বাচ্চু মিয়া জানান, ”এক নারীকে দুই যুবক স্ত্রী হিসেবে দাবি করায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। আমরা বর্তমানে তিনজনকে থানা হেফাজতে রেখেছি। নিকাহনামা ও তালাকনামার প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করে আইনি প্রক্রিয়ায় ওই নারীকে তার বৈধ স্বামীর কাছে সোপর্দ করা হবে।”




