স্টাফ রিপোর্টার :
ড. মুহাম্মদ ইউনূস বিদায়বেলায় দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৩৩ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করে দায়িত্ব ছেড়েছেন বলে জানানো হয়েছে। পাশাপাশি দেশবাসীর জন্য ছয় মাসের খাদ্য মজুদ নিশ্চিত রেখে যাওয়ার কথাও তুলে ধরা হয় তার বিদায়ী বক্তব্যে।
দায়িত্ব গ্রহণের সময় দেশের রিজার্ভ ছিল প্রায় ১৯ বিলিয়ন ডলার—এমন প্রেক্ষাপটে ইউনূস সরকারের সময়কালে রিজার্ভ ১৪ বিলিয়ন ডলার বৃদ্ধি পেয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র দাবি করছে। অর্থের হিসাবে যা প্রায় ১ লাখ ৬৮ হাজার কোটি টাকার সমপরিমাণ। মাত্র দেড় বছরে এই প্রবৃদ্ধি অর্জনকে সরকারের বড় সাফল্য হিসেবে তুলে ধরা হচ্ছে।
সরকারি মহল বলছে, আগের সরকারের রেখে যাওয়া বিপুল অঙ্কের ঋণ পরিশোধের চাপের মধ্যেও রিজার্ভ বৃদ্ধির এ ধারা বজায় রাখতে হয়েছে। একই সঙ্গে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ ও জনস্বার্থে বিভিন্ন খাতে শত শত কোটি টাকার ভর্তুকিও দিতে হয়েছে।
বিদায়ী বক্তব্যে ড. ইউনূস সরাসরি কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ না তুললেও ইঙ্গিত দেন, রাজনৈতিক অস্থিরতা, আন্দোলন–সংঘাত এবং প্রশাসনিক জটিলতা তার সরকারের কাজের গতি ব্যাহত করেছে। তিনি চেয়েছিলেন রাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান সমন্বিতভাবে সংস্কার কার্যক্রম এগিয়ে নেবে এবং তিনি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বিনিয়োগ ও কূটনৈতিক সম্পর্ক জোরদারে কাজ করবেন। তবে অভ্যন্তরীণ অস্থিতিশীলতা অনেক পরিকল্পনা বাস্তবায়নে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে পর্যবেক্ষকদের মত।
উল্লেখ্য, অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্ব নিতে শুরুতে অনাগ্রহী থাকলেও ছাত্রদের অনুরোধে সীমিত সময়ের জন্য দায়িত্ব গ্রহণে রাজি হন ড. ইউনূস। তার শর্ত ছিল—সংস্কার কার্যক্রম পরিচালনায় প্রয়োজনীয় সহযোগিতা নিশ্চিত করা।
বিদায়ের সময় তিনি জনগণকে ধন্যবাদ জানান এবং নিজের সীমাবদ্ধতার দায় স্বীকার করে দায়িত্ব হস্তান্তর করেন। রাজনৈতিক অঙ্গনে তার মেয়াদ নিয়ে সমালোচনা যেমন আছে, তেমনি অর্জন নিয়েও আলোচনা চলছে। বিশ্লেষকদের মতে, সময়ই নির্ধারণ করবে এই সময়কালকে ইতিহাস কীভাবে মূল্যায়ন করবে।
বিদায়ী ভাষণে ড. ইউনূস:রিজার্ভে রেখে গেলেন ৩৩ বিলিয়ন।
Oplus_131072




