Skip to content
প্রকাশ- November 2, 2026 , 18:18 pm
অন্যান্য

ভোট দিতে এসে কি আমরা ভুল করেছি?

ভোট দিতে এসে কি আমরা ভুল করেছি?

Oplus_131072

হৃদয় আহম্মেদ শাওন, জামালপুর প্রতিনিধিঃ

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে ৪ দিনের সরকারি ছুটি। শহর থেকে গ্রামে ভোট দিতে বাড়ি ফেরা মানুষের ঢল। বাসস্ট্যান্ড, লঞ্চঘাট, ট্রেন সবখানেই যেন উৎসবের আমেজ। কিন্তু এই উৎসবের আড়ালেই লুকিয়ে আছে কষ্ট, ক্ষোভ আর দীর্ঘশ্বাস।

Advertisement

কর্মব্যস্ত মানুষগুলো প্রিয়জনের কাছে ফিরছেন, গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করতে বাড়ি যাচ্ছেন। অথচ এই ফেরার পথেই তারা হচ্ছেন ভাড়ার চরম শিকার।

জামালপুর থেকে ইসলামপুরে যেখানে নিয়মিত সিএনজি ভাড়া ৬০ টাকা, সেখানে আদায় করা হচ্ছে ১৫০ টাকা। আর নারায়ণগঞ্জ থেকে জামালপুরের ভাড়া ৫০০ টাকার জায়গায় দাবি করা হচ্ছে ১২০০ টাকা!

এভাবেই চরম ভোগান্তির শিকার হয়েছেন ইসলামপুরের বাসিন্দা ও নারায়ণগঞ্জে কর্মরত গার্মেন্টস শ্রমিক আব্দুর রহিম। ছুটি পেয়ে সকালেই ছুটে যান বাসস্ট্যান্ডে। কিন্তু কাউন্টারের ভাড়া শুনে যেন তার মাথায় আকাশ ভেঙে পড়ে। তিন সদস্যের পরিবারের জন্য ৩৬০০ টাকা গুনে টিকিট কাটতে হয় শুধু বাড়ি এসে ভোট দেওয়ার জন্য।
জামালপুর পৌঁছেও শেষ হয়নি দুর্ভোগ। ইসলামপুর যাওয়ার পথে সিএনজি চালক দাবি করেন ১৫০ টাকা ভাড়া। অসহায় হয়ে ক্ষোভে ফেটে পড়েন আব্দুর রহিম।

কাঁপা কণ্ঠে তিনি বলেন,আমরা কি বাড়িতে ভোট দিতে এসে বিপদে পড়লাম? ঈদের সময়ও এত ভাড়া নেয় না। আমাদের মতো স্বল্প আয়ের মানুষের সাথে এভাবে জুলুম কেন? প্রশাসন কি এসব দেখে না? যাওয়ার সময়ও আবার তিনগুণ ভাড়া দিতে হবে। আগে জানলে জীবনেও ভোট দিতে আসতাম না।

তার চোখেমুখে ছিল হতাশা, ক্ষোভ আর ভাঙা স্বপ্নের ছাপ। গণতন্ত্রের উৎসব যেন তার জন্য হয়ে উঠেছে দুঃস্বপ্ন।
এ বিষয়ে জামালপুর সদর থানার ওসি মিজানুর রহমান মুঠোফোনে জানান, আমরা এখনো বিষয়টি জানি না। তবে এমন অনিয়ম হয়ে থাকলে অবশ্যই ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

অন্যদিকে সিএনজি মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মনু অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ভাড়া বেশি নেওয়ার প্রশ্নই আসে না। আমাদের জানামতে কেউ অতিরিক্ত ভাড়া নেয়নি। তবুও যদি কেউ নিয়ে থাকে, আমরা ব্যবস্থা গ্রহণ করবো, ইনশাআল্লাহ।

গণতন্ত্রের উৎসবে যখন মানুষ ভোট দিতে ঘরে ফেরে, তখন যদি তাদের কাঁধে বাড়তি ভাড়ার বোঝা চাপানো হয়—তাহলে প্রশ্ন জাগে, এই উৎসব কি সত্যিই সবার জন্য?

ভোট দিতে এসে যদি মানুষ এমন দুর্ভোগে পড়ে, তবে সাধারণ মানুষের মনে জন্ম নেয় একটাই প্রশ্ন
ভোট দিতে এসে কি আমরা ভুল করেছি?

Advertisement