মুক্তকাল রিপোর্টার:
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী আলহাজ্ব নুরুজ্জামান বাদলের মৃত্যুর পর শেরপুর-৩ (শ্রীবরদী-ঝিনাইগাতী) আসনের সংসদ নির্বাচন স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) সকালে শেরপুরের রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক তরফদার মাহমুদুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, নির্বাচনী আইন অনুযায়ী মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের সময়সীমা পার হওয়ার পর এবং ভোটগ্রহণের আগেই কোনো বৈধ প্রার্থীর মৃত্যু হলে সংশ্লিষ্ট আসনের নির্বাচনী কার্যক্রম বাতিল করতে হয়।
আইনের ১৭ নম্বর অনুচ্ছেদের ১ উপধারার বিধান অনুসারে, ইতোমধ্যে নির্বাচন স্থগিতের জন্য গণবিজ্ঞপ্তি প্রস্তুতের কাজ চলছে। বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর আনুষ্ঠানিকভাবে নতুন নির্বাচনী তফসিল ঘোষণা করা হবে বলেও জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক।
এর আগে মঙ্গলবার দিবাগত রাত ১২টার দিকে স্ট্রোক করার পর হাসপাতালে ভর্তি করা হয় শেরপুর জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি ও এই আসনের দলীয় প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদলকে। চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত ২টা ৩০ মিনিটের দিকে হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে তিনি ইন্তেকাল করেন। দলীয় সূত্রে জানা যায়, তিনি দীর্ঘদিন ধরে কিডনিজনিত জটিলতায় ভুগছিলেন।
তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন শেরপুর জেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা হাফিজুর রহমান। তিনি জানান, হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায়ই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন এই রাজনীতিবিদ।
শেরপুর-৩ আসনে এবারের নির্বাচনে আরও প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ছিলেন বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মাহমুদুল হক রুবেল, ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী মুফতি আবু তালেব সাইফুদ্দিন, বাসদ (মার্কসবাদী) প্রার্থী মিজানুর রহমান এবং বিএনপির স্বতন্ত্র প্রার্থী আমিনুল ইসলাম বাদশা।
উল্লেখ্য, গত ২৮ জানুয়ারি ঝিনাইগাতীতে নির্বাচনী ইশতেহার পাঠ অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও জামায়াতের নেতা-কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সেই সংঘর্ষে গুরুতর আহত হয়ে শ্রীবরদী উপজেলা জামায়াত সেক্রেটারি রেজাউল করিম মৃত্যুবরণ করেছিলেন। এর মধ্যেই এবার প্রার্থীর মৃত্যুর ঘটনায় আসনটির নির্বাচন নতুন করে অনিশ্চয়তার মুখে পড়ল।




