মুক্তকাল ডেক্স
বাংলাদেশের রাজনীতিতে বেগম খালেদা জিয়া এক অনন্য নাম। শারীরিকভাবে তিনি বর্তমানে সক্রিয় না থাকলেও তাঁর রাজনৈতিক অবদান ও নির্বাচনি প্রচারের নজির আজও রাজনীতির মানদণ্ড হিসেবে বিবেচিত। জনগণের মূল্যায়নে নির্বাচনি প্রচারাভিযানে এখনো পর্যন্ত খালেদা জিয়াই সেরা—এই রেকর্ড ভাঙতে পারেননি শেখ হাসিনা থেকে শুরু করে বর্তমান সময়ের কোনো জাতীয় নেতা।
চার দশকের বেশি রাজনৈতিক জীবনে আন্দোলন, সংগ্রাম, সরকার পরিচালনা ও নির্বাচনি প্রচারে খালেদা জিয়া অংশ নিয়েছেন দশ হাজারেরও বেশি সভা-সমাবেশে। ১৯৯১ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত পাঁচটি জাতীয় নির্বাচনে তিনি সরাসরি অংশ নেন। বিশেষ করে ১৯৯১ সালের নির্বাচনে টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া পর্যন্ত প্রায় ১ হাজার ৮০০টি জনসভা ও পথসভায় অংশ নেওয়ার বিরল রেকর্ড রয়েছে তাঁর। একদিনে ৩৮টি জনসভা এবং টানা ৪৮ ঘণ্টা না ঘুমিয়ে প্রচারে অংশ নেওয়ার নজির বাংলাদেশের রাজনীতিতে অতুলনীয়। (সূত্র: নন্দিত নেত্রী খালেদা জিয়া)
বর্তমানে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান দল ও জোটের প্রধান নির্বাচনি প্রচারক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ১/১১–পরবর্তী সময়ে গ্রেপ্তার, রিমান্ডে নির্যাতন ও দীর্ঘ চিকিৎসার কারণে তাঁর রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে সংশয় থাকলেও সাম্প্রতিক নির্বাচনি প্রচারে তিনি সক্রিয় ভূমিকা রাখছেন। ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ স্লোগান নিয়ে বিশেষায়িত বাসে করে দেশব্যাপী তাঁর প্রচার ভোটারদের মধ্যে আগ্রহ তৈরি করেছে।
ঢাকা-১৭ ও বগুড়া-৬ আসনে প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা তারেক রহমান সিলেট থেকে শুরু করে চট্টগ্রাম, রাজশাহী, রংপুর ও ঢাকা বিভাগের বিভিন্ন এলাকায় ইতোমধ্যে প্রায় ৩০টি জনসভায় বক্তব্য রেখেছেন। সামনে খুলনা ও বরিশাল বিভাগে প্রচারের পরিকল্পনা রয়েছে।
ভিন্নধর্মী নির্বাচনি কৌশল
এবারের নির্বাচনে তারেক রহমানের প্রচার কৌশলকে অনেকেই আধুনিক ও ব্যতিক্রমী বলে মনে করছেন। একমুখী বক্তৃতার পরিবর্তে তিনি জনগণের সঙ্গে সরাসরি সংলাপে গুরুত্ব দিচ্ছেন। মঞ্চে সাধারণ মানুষকে আমন্ত্রণ জানিয়ে স্থানীয় সমস্যা শোনা এবং সমাধানের রূপরেখা তুলে ধরছেন তিনি।
তরুণদের সঙ্গে ‘পলিসি টক’-এর মাধ্যমে কর্মসংস্থান, বেকারত্ব, স্টুডেন্ট লোন ও কৃষি আধুনিকায়নের মতো বিষয় আলোচনায় আসছে। পাশাপাশি ‘কৃষক কার্ড’, ‘ফ্যামিলি কার্ড’ ও ‘হেলথ কার্ড’ চালুর প্রতিশ্রুতি ভোটারদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে, যা আগামী নির্বাচনি ইশতেহারে অন্তর্ভুক্ত হবে বলে জানানো হয়েছে।
ডিজিটাল ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার
তারেক রহমান ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহারে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছেন। ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজ, ইউটিউব, এক্স (X) এবং পডকাস্টের মাধ্যমে তিনি নিয়মিত নিজের রাজনৈতিক ভিশন তুলে ধরছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠান ‘সোশ্যাল ব্লেড’-এর তথ্যমতে, তিনি বিশ্বের শীর্ষ ১০০ ফেসবুক কনটেন্ট নির্মাতার তালিকায় স্থান পেয়েছেন।
এছাড়া ‘আমার ভাবনায় বাংলাদেশ’ শিরোনামে রিল প্রতিযোগিতা, অনলাইনে নারীদের হয়রানি রোধে পাঁচ দফা পরিকল্পনা এবং আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি কোম্পানির বাংলাদেশে অফিস স্থাপনের প্রতিশ্রুতিও আলোচনায় এসেছে।
সব মিলিয়ে, খালেদা জিয়ার অতুলনীয় নির্বাচনি প্রচারের ইতিহাসের ধারাবাহিকতায় তারেক রহমান আধুনিক কৌশল ও প্রযুক্তিনির্ভর প্রচারের মাধ্যমে বিএনপির নির্বাচনি মাঠে নতুন মাত্রা যোগ করার চেষ্টা করছেন।
প্রচারাভিযানে খালেদা জিয়াই সেরা




