মুক্তকাল ডেক্স:
শেরপুরের ঝিনাইগাতীতে বিএনপি ও জামায়াতের কর্মী–সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে জামায়াত নেতা রেজাউল করিম নিহত হয়েছেন। বুধবার (২৮ জানুয়ারি) রাত পৌনে ১০টার দিকে তিনি মারা যান।
নিহত রেজাউল করিম শ্রীবরদী উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি ছিলেন। এর আগে বুধবার বিকেলে ঝিনাইগাতী উপজেলা পরিষদ মাঠে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় প্রশাসন ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, পূর্বঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী নির্বাচনী ইশতেহার পাঠের অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানের শুরুতেই বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রার্থী ও তাদের সমর্থকেরা মাঠে উপস্থিত হন। একপর্যায়ে সামনের সারিতে বসাকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও জামায়াতের কয়েকজন কর্মী–সমর্থকের মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়, যা পরে সংঘর্ষে রূপ নেয়।
পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে উভয় পক্ষ ধাওয়া–পাল্টা ধাওয়ায় জড়িয়ে পড়ে। এ সময় অনুষ্ঠানে রাখা বেশ কয়েকটি চেয়ার ভাঙচুর করা হয় এবং কয়েকটি মোটরসাইকেল ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ১৫ জন আহত হন।
আহতদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় রেজাউল করিমকে হাসপাতালে নেওয়া হলে রাতে তার মৃত্যু হয়।
খবর পেয়ে পুলিশ ও সেনাবাহিনী ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদল অভিযোগ করেন, বিএনপি ও তাদের সমর্থকেরা পরিকল্পিতভাবে হামলা চালিয়েছে এবং ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করেন।
অন্যদিকে বিএনপি প্রার্থী মাহমুদুল হক রুবেল দাবি করেন, জামায়াতই পরিকল্পিতভাবে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেছে।
শেরপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মো. মিজানুর রহমান ভূঁঞা জানান, পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।
শেরপুরে বিএনপি–জামায়াত সংঘর্ষে জামায়াত নেতা নিহত
Oplus_131072




