Skip to content
প্রকাশ- November 2, 2026 , 16:01 pm
অন্যান্য

জামালপুর -১ আসনে: বিএনপি–জামায়াত মুখোমুখি, সুযোগ নিতে মাঠে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ

জামালপুর -১ আসনে: বিএনপি–জামায়াত মুখোমুখি, সুযোগ নিতে মাঠে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ

Oplus_131072

মোহাম্মদ গোলাম মোস্তফা, বকশীগঞ্জ প্রতিনিধি:

দেশের উত্তর অঞ্চলের জামালপুর জেলার ভারতীয় সীমান্ত ঘেষা জামালপুর-১ (দেওয়ানগঞ্জ – বকশীগঞ্জ) আসনটি অবস্থিত। এ আসনে মোট দুইটি উপজেলায় দুইটি পৌরসভা ও পনেরোটি ইউনিয়ন মিলে ভোটার সংখ্যা ৪ লাখ ১ হাজার ৪৯৯ টি। আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনেকে সামনে রেখে সারা দেশের ন্যায় জামালপুর-১ আসনেও সরগরম হয়ে উঠেছে নির্বাচনি মাঠ।
বিএনপি- জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এর চুড়ান্ত প্রার্থীসহ বিভিন্ন দলের সম্ভাব্য প্রার্থীর গণসংযোগে সরগরম হয়ে উঠেছে এই আসনের গ্রাম-গঞ্জ। তবে এ আসনে পাল্লা দিয়ে গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছে বিএনপি- জামায়াত । ভোটারদের ধারণা এবারের নির্বাচনে কোন প্রার্থীর জন্যই সহজ জয় হবে না।
নির্বাচনে জয় পেতে হলে বেগ পেতে হবে প্রার্থীদের।নির্বাচনে বিএনপি ও জামায়াতের প্রার্থীর মধ্যে হাড্ডা হাড্ডি লড়াইয়ে সম্ভাবনা রয়েছে।
নির্বাচনে জয়ী হতে বিএনপি বর্তমানে দল গোছানো, কেন্দ্র কমিটি গঠন ও রাতদিন গণসংযোগের মধ্যে দিয়ে দিনপার করছে বিএনপির নেতাকর্মীরা। এদিকে জামায়াতে ইসলামী নানা কৌশলে গণসংযোগ চালিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি জামায়াতে ইসলামীকে জনপ্রিয় করে তোলার জন্য রাতদিন কাজ করে যাচ্ছেন ।
আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তারিখ ঘোষণার পরপরই প্রার্থীরা এলাকা চষে বেড়াচ্ছেন। এ আসনটিতে বিএনপি, জামায়াত ও ইসলামী আন্দোলনের একক প্রার্থীরা হিসেবে চুড়ান্ত মনোনয়ন পেয়েছেন ।
এসব মনোনীত প্রার্থী কেন্দ্র ঘোষিত মনোনয়ন পেয়ে নিয়মিত সভা-সমাবেশ, পথসভা ও গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন। এতে ভোটারদের মধ্যে দেখা দিয়েছে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা। অপরদিকে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ কিছু দিন গণসংযোগে চমক দেখালেও প্রার্থী চুড়ান্ত নিয়ে দীর্ঘ সময় টানাপোড়েন পর ইতোমধ্যে দুইবার প্রার্থী পরিবর্তন করে অবশেষে গত ২১ডিসেম্বর ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ কেন্দ্রীয় থেকে ইসলামী আন্দোলনে নব যোগদান করা বকশীগঞ্জ উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুর রউফ তালুকদারকে চুড়ান্ত মনোনয়ন দেওয়া হয়। দলটি চুড়ান্ত প্রার্থী বাছাইয়ে দিধাদন্দ্ব থাকায় পিছিয়ে রয়েছে নির্বাচনী কার্যক্রমসহ গণসংযোগে।
স্বাধীনতার পর এ আসনে মুসলিমলীগ একবার, স্বতন্ত্র প্রার্থী একবার, জাতীয় পার্টি একবার, বিএনপি দুইবার ও আওয়ামীলীগ থেকে ছয়বার এমপি নির্বাচিত হয়েছিলো।
২০০১ সালের পর থেকে বিতর্কিত ২০২৪ সালের ৭ জানুয়ারি নির্বাচনের আগ পর্যন্ত ৪টি নির্বাচনে বিএনপি একবার ও আওয়ামীলীগ তিনবার জয়লাভ করে।
এছাড়া ২০২৪ সালের ৭ জানুয়ারি নির্বাচনেরও আওয়ামী লীগের প্রার্থী নুর-মোহাম্মদ নির্বাচিত হয়েছিল জামালপুর-১ আসনে। তাই এ আসনটি আওয়ামীলীগের ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত যা বিগত নির্বাচন গুলোতে নয়ছয় বুঝিয়ে ২০০১ সালের পর চারবার আওয়ামীলীগের প্রার্থী বিজয়ী হয়েছে। কিন্তু ২৪ সালের সংসদীয় নির্বাচনের এক বছর না যেতেই পালিয়ে যেতে বাধ্য হয় ফ্যাসিস্ট আওয়ামী সরকার।
জামালপুর-১ আসনে চুড়ান্ত একক প্রার্থী হিসেবে বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় কোষাধ্যক্ষ ও সাবেক এমপি এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী থেকে মনোনয়ন পেয়েছেন জামায়াত ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিশে শুরা সদস্য অ্যাডভোকেট নাজমুল হক সাঈদী।
এছাড়াও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এর প্রার্থী হিসেবে প্রথমে দেওয়ানগঞ্জ উপজেলা সভাপতি আরিফ খান রাসেলকে মনোনীত করা হলে পরবর্তীতে দুদফা পরিবর্তনের পর চুড়ান্ত মনোনয়ন দেওয়া হয় বকশীগঞ্জ উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুর রউফ তালুকদারকে। তিনি ইতোমধ্যে নির্বাচন কার্যালয় থেকে মনোনয়ন পত্র সংগ্রহ করেছেন।

Advertisement

বিএনপি উপজেলা সহ ইউনিয়নের প্রতিটি ওয়ার্ডে কর্মিসভার পাশাপাশি বিএনপির ৩১ দফা বাস্তবায়নের লিফলেট বিতরণ গণসংযোগ করে যাচ্ছেন বিএনপির নেতাকর্মীরা। ২০০১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থীকে পরাজিত করে প্রথম বারেই বিপুল ভোটের ব্যবধানে জয়লাভ করেছিলেন এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত। আওয়ামী শাসনামলে শত নির্যাতন, হামলা-মামলা উপেক্ষা করে তিনি এলাকার নেতাকর্মীদের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ ও দু:সময়ে নেতাকর্মীদের পাশে থেকে দলকে উজ্জীবিত রাখেন। তবে বিএনপির একটি অংশ চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা সাবেক আইজিপি আবদুল কাইয়ুমকে মনোনয়ন দেওয়ার দাবি জানিয়ে আসছিলেন কিন্তু বিএনপি আবদুল কাইয়ুমকে মনোনয়ন না দেওয়ায় বর্তমানে এ আসনে বিএনপিতে কোন্দলে পরিনত হয়েছে।
আবদুল কাইয়ুমকে মনোনয়ন না দেওয়ায় বকশীগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চার বারের সাবেক চেয়ারম্যান ও উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি আব্দুর রউফ তালুকদার প্রথমে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা দেন। পরে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশে যোগদান করে সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ও সাবেক বিএনপি নেতা আবদুর রউফ তালুকদার চূড়ান্ত মনোনয়ন পান।
এব্যাপারে দলীয় মনোনয়ন পাওয়া ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এর প্রার্থী আবদুর রউফ তালুকদার বলেন, দলীয় মনোনয়ন পেয়েছি কিন্তু ৮ দলীয় জোটের প্রার্থী ঘোষণা করা হয়নি। এই আসন নিয়ে চরমোনাই পীর মুফতী সৈয়দ রেজাউল করিম যেভাবে নির্দেশনা দেবেন সেভাবেই কাজ করব।
এদিকে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী ধানের শীষকে বিজয়ী করতে তার সমর্থনে স্থানীয় বিএনপির সর্বস্তরের নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধভাবে মাঠে নেমে কাজ করার আহবান জানিয়েছেন। তার নির্দেশে নেতাকর্মীরা ধানের শীষে ভোট চাইছেন ও গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন।
আগামী নির্বাচন নিয়ে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত বলেন, ২৯ তারিখে মনোয়নপত্র দাখিল করা হবে। নির্বাচনের কেন্দ্র কমিটির কাজ করা হচ্ছে। আমাদের নারী কর্মীরা মাঠে কাজ করছেন। এই নির্বাচনে নারী ভোটারদের প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে। ভোট কেন্দ্রে ভোটারদের যেন স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ থাকে সেলক্ষ্য নিয়েই আমরা কাজ করছি। ২০০১ সালের নির্বাচনের মত আশা করি এবারের নির্বাচনেও বকশীগঞ্জ-দেওয়ানগঞ্জের জনগণ আমাকে বিপুল ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী করবে।

অপরদিকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী অ্যাডভোকেট নাজমুল হক সাঈদী বিগত কয়েক মাস যাবৎ গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন। সততা ও গ্রহণযোগ্যতার কারণে তিনি সাধারণ ভোটারদের কাছে জনপ্রিয়তা অর্জন করেছেন। তিনি ধারাবাহিকভাবে পাড়া-মহল্লায়, হাটবাজার, মসজিদ-মাদরাসা এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন করে ভোট চাইছেন। জামায়াতের নেতাকর্মীরা তাদের বিজয় নিশ্চিত করতে সাধারণ মানুষের দ্বারে দ্বারে গিয়ে ভোট চাচ্ছেন ও প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। জামায়াতের নেতাকর্মীদের ধারণা ধানের শীষের জনপ্রিয়তাকে চ্যালেঞ্জ জানাতে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের জনসমর্থন বেড়েছে বহুগুণ। ধীরে ধীরে কমে আসছে বিজয়ের ব্যবধান। নির্বাচনে জয়লাভ করতে স্থানীয় জামায়াত, ছাত্র শিবিরসহ বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা দাঁড়িপাল্লার জন্য কাজ করছেন।

জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী অ্যাডভোকেট নাজমুল হক সাঈদী বলেন, ইতোমধ্যে জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে জামালপুর-১ আসনের প্রার্থী হিসাবে মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছি আশা করি আট দলীয় জোটের পক্ষ থেকে আমি চুড়ান্ত মনোনয়ন পাব। মনোনয়ন পেলে বকশীগঞ্জ-দেওয়ানগঞ্জ উপজেলায় আগামী নির্বাচনে দাঁড়িপাল্লা মার্কায় ভোট দিয়ে ন্যায়- ইনসাফ প্রতিষ্ঠা করার সুযোগ করে দিবে বলে আশা করছি।
জাতীয় নাগরিক পাটির (এনসিপি) পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোন প্রার্থী ঘোষণা না করলেও জাতীয় নাগরিক পার্টির আহব্বায়ক মোছাদ্দেকুর রহমান মানিক দলের নেতাকর্মীদের নিয়ে মাঠে-ময়দানে সভা-সমাবেশ সহ বিভিন্ন কর্মসূচি নিয়ে নির্বাচনি প্রচারে সক্রিয় রয়েছেন।
সাধারণ ভোটাররা জানায়, বিগত নির্বাচন গুলোতে আমরা ইচ্ছা মত ভোট দিতে পারিনাই, এবার আশাকরি সুষ্ঠু, অবাধ গ্রহণযোগ্য নির্বাচন হলে নিজের ভোট নিজের পছন্দ মত প্রার্থীকে দিতে পারবো। এছাড়াও এ আসনে বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে। বিএনপির জনপ্রিয়তার পাশাপাশি জামায়াতে ইসলামীর সততা, নিয়ম শৃঙ্খলা, আচার-আচরণ ও ইসলামী দল হিসাবে সাধারণ মানুষের কাছে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। এক্ষেত্রে এ দুই দলের মধ্যেই হাড্ডা হাড্ডি লড়াই হবে।
তবে শেষ হাসি কে হাসবে তা নির্ধারণ হবে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে।

Advertisement